দুর্ভোগে তিন ইউনিয়নের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রাঙামাটি সংবাদদাতা : দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের (১৮ মার্চ) পর দেড় মাস ধরে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার নানিয়ারচর বাজারে আসছে না তিন ইউনিয়নের পাহাড়িরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) চাপেই তারা এ বাজার বয়কট করেছে। এ অবস্থায় বেচাকেনা বন্ধ হয়ে বিপাকে পড়েছেন পাহাড়ি ক্রেতানির্ভর বাজারটির ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে দেড় মাস বাজারে যেতে না পেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পাহাড়িরা। স্থানীয় অন্য সংগঠনগুলো বলছে, স্থানীয়দের জিম্মি করতেই ইউপিডিএফ (প্রসিত) বাজার বয়কটের এ হঠকারী ‘অঘোষিত কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে। ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পাহাড়ি ক্রেতারা বাজারে এলেই তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। ফলে নির্যাতন আতঙ্কে নানিয়ারচর সদর, সাবেক্ষ্যং ও বুড়িঘাট ইউনিয়নের পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাজারে আসছে না। এ ব্যাপারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন চাকমা বলেন, ইউপিডিএফের প্রসিত গ্রুপ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থী হারের মুখে ভোট বর্জন করে। এখন তারা এ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে চাপে রেখে বাজারে আসতে দিচ্ছে না। এর আগেও পিসিপি নেতা রমেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা বাজার বন্ধ করেছিল। একই কথা জানান বাজারের ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, ইউপিডিএফ এ পর্যন্ত কয়েক ধাপে বাজার বয়কট করেছে। এর আগে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এক ধরনের ‘সমঝোতা’ হয়। এরপর কিছুদিন বাজারে পাহাড়ি ক্রেতারা আসত। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের পর ফের বাজার বয়কটের কারণে তাদের লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নানিয়ারচর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি ঝিল্লোল মজুমদার বলেন, এ বাজারে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে, যার বেশির ভাগই বাঙালিদের। উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপ অঘোষিতভাবে বাজার বয়কট করে। এ বাজারের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীই ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন। এখন বেচাকেনা না থাকায় তাদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন জানান, ইউপিডিএফের নেতারা এলাকায় এলাকায় গিয়ে পাহাড়িদের বাজারে যেতে নিষেধ করেছেন। তাদের নির্দেশ অমান্য করলে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই ভয়ে তারা বাজারে যাচ্ছেন না। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য তাদের এ বাজারে না গিয়ে উপায় নেই। কারণ ঘরে চাল-ডাল থাকলেও তেলসহ অন্যান্য পণ্যের জন্য তারা বাজারটির ওপর নির্ভরশীল। অসুস্থ হলে ওষুধ কেনার জন্যও তাদের বাজারে যেতে হয়। আশপাশে অন্য কোনো বাজারও নেই। অথচ তারা দেড় মাস ধরে এ বাজারমুখী হতে পারছে না। এ অবস্থায় সাধারণ পাহাড়িরাও চরম বিপাকের মধ্যে রয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বলেন, গত ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পরদিন থেকেই নানিয়ারচর বাজার বয়কট চলছে। আজ (গতকাল) হাটের দিনেও এখানে ক্রেতা আসেনি। লোকমুখে শুনেছি, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ (প্রসিত) বাজার বয়কট করেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিষয়টি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটির মিটিংয়ে তোলা হয়েছে। গত সোমবার জেলা প্রশাসক নানিয়ারচরে এসেছিলেন। তাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাজার বয়কটের কারণে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা নেই। অন্যদিকে বাজারে আসতে না পারায় সাধারণ পাহাড়িদের দুর্ভোগ বেড়েছে। নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসউদ পারভেজ মজুমদার বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই আমি বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান ও কারবারিদের নিয়ে বসব। যাতে সাধারণ মানুষ বাজারমুখী হয়, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে। এ প্রসঙ্গে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..