পাঁচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
হিলি সংবাদদাতা : দিনাজপুরের হিলিতে (হাকিমপুর) মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে এমন পাঁচটি বিদ্যালয়কে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এসব ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম। দুর্ঘটনার শঙ্কায় বিদ্যালয়গুলোয় দিন দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরঞ্জাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাতনি রাউতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খট্টামাধবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরঞ্জাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি ভবনের একটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে দুটিকে। অন্যটিতে শিক্ষকদের অফিসকক্ষের পাশাপাশি শিশু শ্রেণির পাঠদান করা হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালে মাঝে মধ্যেই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। ফলে এখন অনেকেই আর বিদ্যালয়ে ঠিকমতো আসছে না। রাফি নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুর অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় ভেঙে পড়ছে এমন কক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার ভয়ে আমি আমার ভাইকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রেখেছি। একই কারণে আরো অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না। সরঞ্জাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির পুরনো টিনশেডের ভবনটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত। বেহাল দশার কারণে ১৯৮২ ও ১৯৯৯ সালে নির্মিত দুটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রেণিক্ষের ছাদের বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ফাটল ধরেছে দেয়ালেও। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা ক্লাস করছে। তিনি আরো বলেন, এভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে আমরাও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই না। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আমরা বাধ্য হচ্ছি। সম্প্রতি বরগুনার তালতলীতে পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সবার মধ্যেই দুর্ঘটনার আতঙ্ক বেড়েছে। যে কারণে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমছে। এ বিদ্যালয়ে ২১২ জন ভর্তি থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে ১৮৫ জনের মতো। এদিকে একই অবস্থা ছাতনি রাউতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও। এ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের টিনের ছাউনি ভেঙে গেছে। দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..