সুইডেনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত আসছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সাড়াজাগানো বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা পুনরায় চালু করতে পারে সুইডেন। এবিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ১৩ই মে এক সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় কুশলী। যৌন হয়রানির দুই অভিযোগে ২০১০ সালের ২০ আগস্ট সুইডেন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে দুইটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে একদিনের মাথায় প্রত্যাহার করে নেয়। তবে সে দেশে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের নভেম্বরে আবারও অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালতে আত্মসমর্পণের ১০ দিনের মাথায় জামিন লাভ করেন। অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা আদালতে নতুন পরোয়ানাকে অবৈধ দাবি করলেও ২০১২ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের আদালত একে বৈধ বলে রায় দেয়। রায়ের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য থেকে সুইডেনে বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে আশঙ্কায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ২০১২ সালের জুন মাসে অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর দূতাবাসে যান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। জামিন শর্ত ভঙ্গের দায়ে ১ মে তাকে ৫০ সপ্তাহের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সুইডেনে করা ওই মামলা প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে ছিলো। ২০১০ সালে ?দুই সুইডিশ নারী ওই মামলা করেছিলেন। ২০১৫ সালে স্ট্যাচু অব লিমিটেশন ধারায় সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং ২০১৭ সালে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। সেসময় অবশ্য প্রসিকিউটর বলেছিলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে ওই মামলা আবার শুরু হতে পারে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। গ্রেফতারের পর তাকে রাখা হয়েছে ‘যুক্তরাজ্যের গুয়ানতানামো বে’ নামের কুখ্যাত এক কারাগারে। অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারের পর ওই নারীর আইনজীবী এখন পুনরায় সেই মামলা ?শুরুর দাবি জানিয়েছে। সুইডিশ প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রসিকিউটর তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। সংবাদ সম্মেলনের আগেই তার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। এদিকে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীদের আশঙ্কা সুইডেনে গেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁস করা সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক ব্র্যাডলি ম্যানিং (বতর্মানে চেলসি ম্যানিং) ছাড়া পেয়েছেন। উইকিলিকস বিষয়ক এক তদন্তে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালেও তাকে মুক্তি দেয় পুলিশ। ইরাকে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার সময় উইকিলিকসের কাছে কয়েক লাখ মার্কিন সামরিক গোপন নথি ফাঁস করে দেন তখনকার ব্রাডলি ম্যানিং। ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে সাত লাখ নথি ফাঁসের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হলে হরমোন থেরাপির পর চেলসি ম্যানিং নামে নারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিচারে তাকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত বছরের মে মাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও তৃতীয় লিঙ্গের সমতা নিয়ে সরব ছিলেন ম্যানিং। চলতি বছর মার্চে ম্যানিংকে আটক করে পুলিশ। ৬২ দিন পুলিশি হেফাজতে থাকার পর ৯ মে মুক্তি পান তিনি। তবে ১৬ মে গ্র্যান্ডজুরির সামনে তাকে আবারও উপস্থিত হতে হবে। উইকিলিকস নিয়ে নতুন করে বক্তব্য দিতে নারাজ ম্যানিং। তার দাবি, ২০১৩ সালেই তিনি যা বলার ছিলো বলে দিয়েছেন। ৯ মে মুক্তির পর তার আইনজীবী বলেন, ‘আজ গ্র্যান্ডজুরির সময় বাড়ানো হয়েছে তাই ৬২ দিন আটক থাকার পর ম্যানিংকে আলেক্সান্দ্রিয়া আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তবে তার মুক্তির আগেই আরেকটি সমন জারি করা হয়েছে। ফলে তাকে আরও একবার আদালতে উপস্থিত হতে হবে। তবে ম্যানিং নতুন করে কোনও জবাব দেবেন না এবং সবরকম আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। গত মার্চে শুনানিতে অংশ নিতে রাজি না হলে তাকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাকে বাড়িতে রাখার আবেদন করা হলেও আদালত জানায়, মার্কিন পুলিশ তার খেয়াল রাখতে সক্ষম।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..