হকারদের আন্দোলন : চার মাস পর ‘আংশিক বিজয়’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ ও হামলা-মামলা-নির্যাতন বন্ধ, ফুটপাতের এক-তৃতীয়াংশে বসার দাবিতে রাজধানীতে হকারদের বিক্ষোভ [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : অবরোধ, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি, ভুখা মিছিল, সংবাদ সম্মেলন, প্রতীকী অনশনসহ টানা চার মাস আন্দোলন করে আংশিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছে হকাররা। গত ১০ মে থেকে একটু একটু করে ফুটপাতে বসতে শুরু করেছেন পেটের দায়ে ঢাকায় এসে সংসার চালানোর জন্য হাকারি করা এ মেহনতিরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে ১২ মে থেকে তাদেরকে ফুটপাতে ব্যবসা করতে দেয়ার দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন। পুনর্বাসনসহ অন্যান্য দাবি পূরণ না হওয়ায় এই সফলতাকে আংশিক বিজয় বলে জানাচ্ছেন হকার নেতৃবৃন্দ। এরআগে ‘পাঁচ বছর মেয়াদী হকার পুনর্বাসন মহাপরিকল্পনার কথা বলেছে হকার্স ইউনিয়ন। ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য স্বল্প মেয়াদে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দুই ধাপে অগ্রসর হতে হবে। তবে তারো আগে প্রকৃত হকারদের তালিকাভুক্ত করে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে। এটাই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজের সফলতার উপর নির্ভর করবে গোটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সফলতা। পথ বিক্রেতা সুরক্ষা আইন করে তালিকাভুক্ত হকারদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ নিয়ে সেটার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি যুক্ত করে স্থায়ীভাবে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়। ভারতে হকারদের জন্য করা ২০১৪ সালের আইন আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী স্বল্প মেয়াদে স্থান নির্দিষ্ট করে তাদের ধীরে ধীরে ফুটপাত থেকে স্থানান্তর করা যেতে পারে। এইপথে সিটি কর্পোরেশন অগ্রসর হলে হকাররা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’ গত ৯ মে বেলা ১২টায় পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে হকার নেতারা এসব বলেছেন। লিখিত বক্তব্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে হকারদের বসার সুযোগ করে দেওয়া হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রের একগুয়েমির কারণে অধিকাংশ স্থানে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ১০ মে-র মধ্যে বসতে না দিলে হকাররা নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফুটপাতে বসবে বলেও এতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এরপরও হামলা, নির্যাতন চললেৈ রাজপথ অবরোধ, হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিয়ে ঢাকা শহর অচল করে দেওয়া হবে, বলেছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে হলিডে মার্কেট সম্পর্কে বলা হয়, কিছু অশুভ ব্যক্তি ও মহল আইডিয়ালসহ কিছু এলাকায় হলিডে মার্কেট বসানোর কথা বলে ইতিমধ্যে হকারদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা করে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আগেও কয়েকটি স্থানে হলিডে মার্কেট দেয়া হলেও অর্থবাণিজ্য, চাঁদাবজি, অব্যবস্থাপনার কারণে তা সফল হয়নি। অন্যদিকে হকাররাও হলিডে মার্কেট চায় না। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলনরত হকারদের চাওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে অর্থাৎ ফুটপাতে সরকারি ছুটির ২ দিন পূর্ণদিবস হকাররা বসবে এবং বাকি ৫ দিন অফিস ছুটির পর অর্থাৎ রমজান মাসে সাড়ে তিনটা থেকে এবং অন্যসময় বিকাল ৫টা থেকে ফুটপাতের তিন ভাগের এক ভাগ জায়গায় হকাররা বসবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবীর, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, শহীদুল ইসলাম, আহাম্মদ আলী, আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা রফিক হাওলাদার, শহীদ খান, শাহাদাৎ হোসেন, মো. বাবুল, লিটন মিয়া ও মো. তাপস। এর আগে গত ৮ মে বায়তুল মোকাররম লিংক রোড থেকে সকাল ১১টায় পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও নগর ভবনের সামনে সমাবেশ করে হকার্স ইউনিয়ন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আবুল কালাম। বক্তব্য রাখেন সেকেন্দার হায়াৎ, মঞ্জুর মঈন, শহিদুল ইসলাম, আলী আহম্মদ, গোলাপ হোসেন, শেখ সহিদ, রফিক হাওলাদার, হাজী আব্দুস সাত্তার মোল্লা, কনক মোল্লা ও মিজানুর রহমান। গত ৫ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন হকারদের বসার সময়সূচি ঘোষণার জন্য হকারদের কাছে ২ দিনের সময় চেয়েছিলেন। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও মেয়র কথা না রাখায় ৭ মে নগরভবন-গোলাপশাহ মাজার-বঙ্গভবন রোড-গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট-পল্টন পুরো এলাকা অবরোধ করে দফায় দফায় মিছিল সমাবেশ করেন হকাররা। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে গত ৪ মে হকাররা মতিঝিল থেকে নিউমার্কেট পদযাত্রাও করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..