খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়ার গণধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারী সেল ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে গত ১০ মে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারী সেলের নেত্রী লুনা নূরের সভাপতিত্বে এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মনীষী চক্রবর্তী ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সংগঠক সুলতানা আক্তার। গত ৬ মে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সমাবেশে এই নৃশংস বর্বরতার সাথে যুক্ত সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, শুধু কিশোরগঞ্জের বাসে এই বর্বতায় নয়, সারাদেশেই নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই খুন-ধর্ষণ-অপহরণ-নির্যাতনের ঘটনা। একটি নির্যাতনের ঘটনা বিভৎসতায়, বর্বরতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও যেন গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে। এই মে মাসের প্রথম ৮ দিনেই ৪১ জন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৮৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ১৫ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বক্তারা বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন এতো ভয়াবহ মাত্রায় আসার একটি অন্যতম কারণ বিচার না হওয়া। এর আগে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর কলেজ ছাত্রী রুপা হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় আগে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হলেও তার ওপর এখনো শুনানিই হয়নি। ৩ বছর হয়ে গেছে তনু হত্যা মামলার চার্জশিটই গঠিত হয়নি। রিশা হত্যা মামলা ঝুলে আছে। আর কল্পনা চাকমার অপহরণ মামলার তো ২১ বছর পার হয়ে গেল! আমরা জানি, নির্যাতনের যত ঘটনা দেশে ঘটে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা হয় না। যে সব ক্ষেত্রে মামলা হয় সেগুলোও বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে। সহজে নিষ্পত্তি হয় না। দেখা যায়, যে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে। বিচারের বাণী যেন নিভৃতে কাঁদে!! একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে; যদি বিচার হতো, যদি ধর্ষক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতো, তাহলে ধর্ষকরা ভয় পেত; সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতো। সমাবেশ থেকে নারী-শিশু নির্যাতক-ধর্ষক-হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি ও নারী-শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..