এবার চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুন চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে ধর্ষণের শিকার হন। পরে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রাখা হয়। সেই ঘটনা সারাদেশেই ঝড় তুলেছিল। এখন সারাদেশে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই ঘটনার মধ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলায় চলন্ত বাসে এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৩) কটিয়াদির লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, শাহিনুর আক্তার তানিয়া গত ৬ মে নিজ বাড়িতে আসার জন্য ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে উঠে রওনা হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কটিয়াদি আসার পর তানিয়া ও অপর দুই যাত্রী ছাড়া বাকি সবাই নেমে যান। পরে উজানচর নামক স্থানে অন্য দুই যাত্রীও নেমে যান। বাসটি কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বিলপাড় গজারিয়া নামক স্থানে পৌঁছানোর পর বাসের চালক ও সহকারীসহ অন্যরা তানিয়াকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। রাত পৌনে ১১টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তানিয়াকে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। গত ৭ মে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নার্স তানিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাবীবুর রহমান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে, ধস্তাধস্তির কারণেই এই জখম হয়েছে। তাছাড়া নিহতের যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণের আলামত ও আঠালো পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়, ভিকটিমকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গত ৭ মে গভীর রাতে তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা করেন। এরা হলেন বাসচালক নূরুজ্জামান, চালকের সহকারী লালন মিয়া, রফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া ও বকুল মিয়া। তাদেরকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদিকে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মে মাসের প্রথম আট দিনে রাজধানীসহ সারা দেশে ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার শিশুদের মধ্যে মারা গেছে তিন শিশু। এসব শিশুর মধ্যে মেয়ে শিশু ৩৭ জন এবং ছেলে শিশু চারজন। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে আরো তিন শিশু। প্রকাশিত খবরগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় এইসব শিশুরা প্রতিবেশী, উত্যক্তকারী, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে উত্যক্তকারী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১০ জন আর প্রতিবেশী দ্বারা ১০২ জন। গণধর্ষণের শিকার ৩৭ জন, শিক্ষক দ্বারা ১৭ জন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..