রংপুর অঞ্চলে বোরো আবাদ কমে বেড়েছে ভুট্টার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
রংপুর সংবাদদাতা : ধানের দাম না পেয়ে ভুট্টা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকরা। চলতি বোরো মৌসুমে এ অঞ্চলে আগের মৌসুমের তুলনায় বোরো ধান আবাদের জমি ৯ হাজার ৪৭৬ হেক্টর কমেছে। এর বিপরীতে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে ৯ হাজার ২৫৩ হেক্টর। কৃষকরা জানিয়েছেন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পাশাপাশি ভুট্টার তুলনায় বেশি উৎপাদন খরচ ও জনপ্রিয় জাতে লেট বাইটের আক্রমণের কারণে তারা ধান আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। আর কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে বোরোর বদলে কৃষকদের আউশ আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ কারণে বোরো মৌসুমে ধান আবাদ কমেছে। আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পাঁচ জেলায় চলতি মৌসুমে ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৫৬ হেক্টরে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৩ লাখ ১২ হাজার ৮১২ হেক্টরে উচ্চফলনশীল ও ২ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ১০৮ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল ৫ লাখ ১৯ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে। এ হিসাবে এবার ধান আবাদ কমেছে ৯ হাজার ৪৭৬ হেক্টর। এদিকে রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৯২ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলে এবার ভুট্টার আবাদ বেড়েছে ৯ হাজার ২৫৩ হেক্টর। কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর চরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ধানের দাম না পেয়ে এ বছর ভুট্টার চাষ বাড়িয়েছি। আমার এলাকার অনেক কৃষকও এবার বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চরলক্ষ্মীটারীর কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, আগে জমিতে বোরো মৌসুমে বিরি-২৮ জাতের ধানের চাষাবাদ করতাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ধানের দাম পাচ্ছি না। আবার বিরি-২৮ জাতে লেট ব্লাইটের আক্রমণ ঘটছে। তাই এবার অল্প জমিতে ধান রোপণ করেছি। তিনি বলেন, ভুট্টার পাশাপাশি ধানের আবাদ কমার আরেকটি কারণ তামাকের আবাদ বৃদ্ধি। এক দোন (২২ শতক) জমিতে ধান আবাদ করলে পাওয়া যায় ১০ থেকে ১২ মণ। আর তামাক পাওয়া যায় আট মণ এবং ভুট্টা ১৬ থেকে ১৭ মণ। হাট-বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ তামাক বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৬০০ টাকা। এর বিপরীতে ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আবার এক দোন জমিতে তামাক ও ভুট্টা উৎপাদনে ধানের চেয়ে ১-২ হাজার টাকা কম খরচ হয়। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার চরাইখোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসুনিয়া বলেন, কৃষকরা মূলত যে ফসলে লাভ পাবেন, সেই ফসল আবাদ করবেন। সরকার যদি প্রকৃত কৃষকদের কাজ থেকে ধান কেনে তবে আবাদ বৃদ্ধি পাবে। এজন্য তিনি বিভিন্ন হাট-বাজারে ধান ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম দাম কম থাকার কারণে বোরো আবাদ কমার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, বোরো ধান হচ্ছে সম্পূর্ণ সেচনির্ভর। যেসব অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে বোরো আবাদের সুযোগ কম, সেখানে শস্যবিন্যাস পরিবর্তন করে কৃষকদের আউশ ধান আবাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় কম হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৩১৯ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..