প্রাণসায়র খাল এখন নালা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : ময়লা আবর্জনায় ভরা সাতক্ষীরা শহরের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়রের খালটি এখন শহরবাসীর দুঃখ। পচা দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শহরবাসীর চলতে হয় নাকে রুমাল দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর ডেলটা প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন পর এই খালটি পুনর্খননের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও খালের দুপাশে অবৈধ দখলদারদের কারণে পুনর্খননের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দুটি প্যাকেজে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার এই খালটি পুনর্খননের জন্য দরপত্র ডাকা হলেও একটি অংশের কাজের জন্য ঠিকাদার মিলছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৪ সালে প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে এই খালের প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য কার্যাদেশ দেয়ার পর শুধু পাড় চেছে খনন কাজ করার সময় শহরবাসীর প্রতিবাদের মুখে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এ ছাড়া এস্কাভেটর দিয়ে খাল খননে সহস্রাধিক গাছ মেরে ফেলা হয়। বর্তমানে শহরের নারকেলতলা থেকে এল্লারচর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকার কাজের জন্য দরপত্র ডাকা হলেও কোন ঠিকাদার অংশ নেয়নি। আবার অংশ নিলেও নিম্নদরে দরপত্র দাখিল হওয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে শহর এলাকার দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার এলাকার খালের দুধারে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা অপসারণে করা না হলে নক্সা অনুযায়ী খাল খনন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ফলে পুনর্খননের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। প্রাণসায়রের খালের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে কোন মিল নেই। অবৈধ দখল, সংস্কার কাজে দুর্নীতি, জনসচেতনতার অভাব ও পৌর কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে এক কালের ঐতিহ্যবাহী খালটি এখন পরিণত হয়েছে একটি ভরাট নালায়। এক সময়ে এই খালে লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা চলত। ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল বহনের জন্য ব্যবহার করত এই খাল। এখন এ খালে জোয়ার ভাটা-নেই। খালের দুধারসহ খালের মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট হচ্ছে খালটি। রাতারাতি বাঁশ-খুঁটি পুতে দখল করা হচ্ছে খাল। আবার কোথাও কোথাও খালের মধ্যে পাকা পিলার তুলে দখল করে খালের পরিধি ছোট করা হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের এল্লারচর থেকে নারায়নঝোল পর্যন্ত খালের দুধার এখন অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। খালের পাকাপোল এলাকায় কয়েকটি ভবনের মালিকরা খালের মধ্যে পাকা বিম তৈরি করে খাল দখল করে রেখেছে। এ ছাড়া দুটি মসজিদ তাদের সীমানা বাড়িয়ে খালের মধ্যেই বিম করে খাল দখল করে নিয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকে শহরের ফুটপথ দখল উচ্ছেদ করা হলেও পাকাপোল এলাকা থেকে বড়বাজার নাগাত খালের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠা কয়েকশ কাঠ ব্যবসায়ীদের দোকান সরানো হয়নি। এ ছাড়া বর্তমানে খালে কোন জোয়ার ভাটার স্রোত নেই। খালের এক ফুট থেকে দেড়ফুট পানিতে জমেছে শ্যাওলা। পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা। বর্ষা মৌসুমে ভরাট খালে পানি জমে শহরের ড্রেনের পানি উপচে শহর হয় প্লাবিত। এ খালটি এখন শহরবাসী ব্যবহার করে মরা জীবজন্তু আর ময়লা আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন হিসেবে। সরকারি অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ছোট নদনদী, খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে প্রাণসায়রের খাল খননের জন্য ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। খালটি খননের জন্য দুটি অংশে ভাগ করে দরপত্র আহ্বান করা হয় গত নবেম্বরে। খেজুরডাঙ্গা থেকে নারকেলতলা নাগাত সাড়ে ৬ কিলোমিটার এবং নাকেলতলা থেকে এল্লারচর নাগাত ৮ কিলোমিটার এলাকা পুনর্খননের জন্য পৃথক দুটি দরপত্র আহ্বান করা হলেও সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা খননের জন্য দরপত্র দাখিল হলে এই কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। অপর অংশের কাজের জন্য কয়েক দফা দরপত্র ডাকা হলেও এই কাজের জন্য কোন দরপত্র জমা না পড়ায় ঠিকাদার নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা ১নং ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের। প্রকল্পে পুনর্খননের জন্য উপরের লেবেলে খাল ৯ থেকে ১২ মিটার চওড়া রাখার ডিজাইন করা হয়েছে। মাটি নিচে ৩ মিটার চওড়াসহ মাটি কাটা হবে ২ থেকে ৩ মিটার নাগাত। শহর এলাকার মাটি খালের দুপাশে রেখে বাঁধের মতো উঁচু করে যাতায়াতে পথ নির্মাণ করার পাশাপাশি এই উঁচু এলাকায় বনায়নের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শহর এলাকার খালের মাটি তুলে দূর এলাকায় নেয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। খাল খনন প্রসঙ্গে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, খাল খনন প্রকল্পে অবশ্যই ঝুড়ি-কোদাল দিয়ে ম্যানুয়ালি খাল খনন করতে হবে। শহর এলাকায় কোনভাবেই এস্কেভেটর দিয়ে খাল খনন করা যাবে না। এ বিষয়ে ১নং ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, আগামী শুষ্ক মৌসুমের আগে এই খাল খননের কাজ করা সম্ভব হবে না। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী খাল খনন করতে হলে কাজের পূর্বেই অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে নেয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..