উখিয়ায় বন কেটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
কক্সবাজার সংবাদদাতা : কক্সবাজারের উখিয়ায় নতুন করে বন কেটে আরো একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পশ্চিম পালংখালীর চৌখালীতে ১০০ একরের বেশি জমিতে এ ক্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এজন্য কাটা হবে পাহাড় ও প্রায় দুই লাখ গাছ। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি নির্মাণ বন্ধে বাস্তবায়নকারী সংস্থা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পশ্চিম পালংখালীর চৌখালীতে নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বনভূমি ও পাহাড় কেটে মাঠ ও চলাচলের রাস্তা তৈরি শুরু হয়। এ ক্যাম্প নির্মাণের কারণে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কায় ক্যাম্প নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়রা। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন বলেন, মিয়ানমার থেকে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা না এলেও বিশাল এলাকাজুড়ে এ ক্যাম্প নির্মাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বনভূমিতে নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ না করার কথা। তার পরও কী কারণে শতাধিক একর বনভূমিতে এ ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে, বিষয়টি বোধগম্য নয়। আরআরআরসি কার্যালয় সূত্র জানায়, আসন্ন বর্ষায় বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেই নতুন করে ক্যাম্পটি তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে যে জমিতে এটি করা হচ্ছে, সেটি আগেই ক্যাম্প নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মূলত আগে যে জমিগুলো ক্যাম্প নির্মাণের জন্য দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর কোনো সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। শুধু ৬ হাজার ১৬৩ হাজার একর বনভূমির কথা বলা হয়েছিল। তার পরও জরিপ করে সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে এরই মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফে ১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার বন ধ্বংস হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার পরিবেশ, বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উখিয়া ও টেকনাফের বনাঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..