‘ঠকানোর আইন মানি না শোভনায় চলবে বিষ্ঠু ঠাকুরের আইন’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

শেখ রফিক : চল্লিশের দশকে খুলনার শোভনায় কৃষকদের খামার থেকে ফসল ছিনিয়ে নেয়ার সময় জমিদারের পুলিশ বাহিনী কৃষকের ওপর গুলি চালায়। গুলিতে মারা যায় কৃষক হাজরা মণ্ডল। কৃষকের রক্তে ভিজে গেল ফসলের খামার। সেই থেকে ‘জান দেব তবু ধান দেব না’ -এই আইন চালু হলো। এটা ‘বিষ্ঠু ঠাকুর’র আইন। ভাগচাষি স্বতঃর্স্ফূতভাবে নিজেদের উদ্যোগে ধান খামারে তুললো। বিস্মিত হলো জেলার সরকারি কর্তৃপক্ষ। নির্বাক কাঠের পুতুলের মতো সরকারি কর্তৃপক্ষকে গোটা একদশক ‘বিষ্ঠু ঠাকুর’র আইন-ই মেনে চলতে হয়েছে। খুলনার কৃষক আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারিগর বিষ্ণুদা সম্পর্কে জানার অদম্য ইচ্ছা থেকে গত ২৮ অক্টোবর ২০১৫-এ বিপ্লবী কামাখ্যা রায় চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিই। কেননা তিনি বিষ্ণুদার সাথে সরাসরি কৃষক আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। অর্থাৎ বিষ্ণুদাকে দেখেছেন, তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাঁর কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ...বিষ্ণুদা, আমার দাদা ছিলেন। শুধু দাদা নয়, তিনি আমার অভিভাবকও ছিলেন। তিনি আমার পার্টি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক চেতনার প্রাণ হয়ে উঠেছিলেন। অর্থাৎ কামাখ্যার শরীর বাদ দিয়ে যা হয়! বিষ্ণুদার বাড়ি ছিল খুলনায়, শহরের কাছে। বিপ্লবী দলে যুক্ত ছিলেন। কৃষক নেতা বিষ্ণু চ্যাটার্জী রাজনৈতিক জীবনে বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন। ১৯৩৯ সালে সৈয়দপুর থেকে চাকুরি ছেড়ে খুলনা আসার পরই বিষ্ণুদার সঙ্গে দেখা হয়। বিষ্ণুদা যখন শোভনায় আসেন তখন ওখানে কিছুই ছিল না। জমিতে ফসল হতো না। জোয়ারের সময় তিন চার হাত জল হয়ে যেতো। এই জল মাঠে আসার কারণে মাঠ লবণাক্ত হয়ে যেতো। ফলে সে মাঠে আর কোনো ফসল জন্মাতো না। কৃষকরা লবণাক্ততার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। শিক্ষা-দীক্ষা-সংস্কৃতি সব দিক দিয়েই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। বিষ্ণুদা এই অঞ্চলের কৃষকদের দুর্দশা দূর করার জন্য কাজে নেমে পড়েন। কৃষকদেরকে বোঝালেন, বাঁধ দিয়ে জোয়ারের নোনাজল আটকে দিতে হবে। এজন্য বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। যাতে নোনাজল আসতে না পারে। ওই অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িবাড়ি ঘুরে ঘুরে প্রত্যেক কৃষককে লবণাক্ততা রোধ এবং বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে সচেতন করে তুললেন। তারপর সচেতন কৃষকদের নিয়ে বিষ্ণুদা শোভনা থেকে বাঁধ নির্মাণের আন্দোলন শুরু করলেন। যে আন্দোলন ক্রমান্বয়ে শোভনা ছাড়িয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হয়- বিষ্ণুদাকে। কৃষকরা বিষ্ণুদার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হন এবং বাঁধ নির্মাণে নেমে পড়েন। জোতদার কৃষক-জমিদারদের শত বাধা প্রতিহত করে এই বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়। এর ফলে ওই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আবার ফসল ফলতে শুরু করে। জমিতে ফসল ফলতে দেখে জমিদার শ্রেণি জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠলেন। তখন জমিদার ও কৃষকের মাঝে শ্রেণিদ্বন্দ্ব লেগে যায়। শ্রেণিসংগ্রামের এই আন্দোলনে বিষ্ণুদা নেতৃত্ব দেন। ওই অঞ্চলের কৃষক জমিদারকে কখনো জমি দেননি বরং জমিদারের অত্যাচার-নির্যাতন প্রতিহত করেছেন সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে। এই লড়াইয়ে কৃষক কর্মী হাজরা মণ্ডল মারা যান। তাঁর বাড়ি ছিল জিয়লতলা। আন্দোলনের মুখে কৃষকের দাবি মানতে বাধ্য হয় জমিদার। এই আন্দোলন দেশভাগের পরও অব্যাহত ছিল। এই বাঁধ আন্দোলন সারা ভারতে কৃষক আন্দোলনের অংশ। বিষ্ণুদার কর্মী হয়ে সে আন্দোলনে ছিলাম। এই বাঁধ শোভনা গ্রামের প্রাচুর্য এনে দিল। বছরে দু’বার ফসল উঠতে লাগলো। কৃষকের মধ্যে এক ধরনের সচ্ছলতা চলে এল। এরপর এলাকার মানুষের মধ্যে একটা স্কুল তৈরির আকাঙ্ক্ষা হলো। বিষ্ণুদা গ্রামের সবাইকে ডেকে বললেন, ‘স্কুল করার জন্য জমি তোমাদেরই দিতে হবে। তবে এই জমি অকৃষিজমি এবং রাস্তার ধারে হতে হবে। কোনো কৃষিজমি নষ্ট করা যাবে না।’ জমি দেয়ার জন্য এগিয়ে এলেন বিষ্ণু চ্যাটার্জীর অনুসারী কালীপদ বসাক। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের পরপর জমি দানকারী কালীপদ বসাকের মায়ের নামানুসারে ‘বিরাজময়ী শিক্ষা নিকেতন’ নামে এই মাধ্যমিক স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে এটির নাম পরিবর্তন করে ‘বিরাজময়ী মাধ্যমিক স্কুল’ রাখা হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি পুলিশ এবং মিলিটারি মিলে এই স্কুল ভেঙে তছনছ করে দেয়। কারণ সে সময় জমিদারদের সঙ্গে জমিদারি প্রথা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চলছিল। সে আন্দোলনের কারণে জমিদাররা কৃষকদের ১৬০০ বিঘা জমি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে তারা আমাদের হয়রানি করার জন্য নানা ধরনের ফন্দিফিকিরি করতে শুরু করে। যেমন, ঘরপোড়া, লুটপাট মামলা। যে মামলায় আমাদের ১৩/১৪ জন কৃষককর্মীকে সাত বছর জেল খাটতে হয়েছে। তারপর জামাল ফকির খুনের মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যে মামলা দিয়ে বিষ্ণুদা ও আমাদের কর্মীবৃন্দকে আসামি করলো। অনেককে গ্রেফতার করলো। ওই সময় বিষ্ণুদা গ্রেফতার হয়ে যান। এই বিদ্যালয়ের ঘরেই ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে লঙ্গরখানা খোলা হয়। ধানিবুনিয়া-বকুলতলা-কানাইডাঙ্গা এলাকার কৃষক-আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে বিশেষভাবে স্মৃতিময় হয়ে আছেন বিষ্ণু চ্যাটার্জী। এই এলাকার যারা বিষ্ণু চ্যাটার্জীর অনুসারী ছিলেন, তারা হচ্ছেন অক্ষয় মণ্ডল, হীরালাল বাইন, বীরেন বিশ্বাস, বান্দা এলাকার শরৎ সরদার, বাবুরাম সরদার, জনার্ধন মণ্ডল, ধানিবুনিয়ার চেঁচান বিশ্বাস, সতীশ বাইন, ক্ষিতীশ বিশ্বাসসহ আরো অনেকে। ওইসময়ে বিষ্ণুদাকেও গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ সালের ২৪ এপ্রিল তাঁর গ্রেফতারের প্রতিবাদে ধানিবুনিয়া-বকুলতলা-কানাইডাঙ্গা এলাকায় কৃষকদের মিছিল-সমাবেশে পুলিশ গুলি চালায়। এই আন্দোলনে সতীশ বাইনসহ মোট তিনজন পুলিশের গুলিতে মারা যান। এই ঘটনার পর বিষ্ণুদার নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে প্রায় ১০০ দিনের মতো ধানিবুনিয়া মুক্ত অবস্থায় ছিল। এখানে একটি কমিউন তৈরি হয়েছিল। এই কমিউন ছিল শতাধিক দিন। আর প্যারিকমিউন ছিল ৭০/৭২ দিন। কৃষক সমিতির আন্ডারে কমিউন করা হয়। সবাই একসঙ্গে থাকতো, এক চুলায় রান্না হতো, একসঙ্গে খেত। কমিউন ভেঙে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে সব নেতাকর্মীকে ধরে ধরে জেলে পোরা হয়। বিষ্ণুদা আমার ১০ বছরের বড়। বিষ্ণুদা যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হওয়ার পর ১৯৫৫ সালে ছাড়া পান। বিষ্ণু চ্যাটার্জী সম্পর্কে বিপ্লবী কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডলের স্মৃতিচারণ থেকে... “বিষ্ণুদা, খুলনার কৃষকনেতা। ডুমুরিয়ার শোভনা অঞ্চলে ঘেরবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। শুধু শোভনায় নয়, খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলের ঘেরবিরোধী আন্দোলন ও কৃষক আন্দোলনের নেতা ছিলেন। রতনদারও নেতা ছিলেন। খুব মেজাজী কমরেড ছিলেন। কৃষক সমিতি ও পার্টির কাজে কোনো গাফিলতি নিজেও করেননি, বরদাস্তও করেননি। রাজশাহী সিআইডি থেকে তিনমাস পরপর একজন অফিসার এসে জিজ্ঞেস করতো- সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কী হবে, কী করতে পেরেছেন? বন্ড দিয়ে এসব বাদ দিন। বিষ্ণুদাকে একথা বলার সাথে সাথে চেয়ারে বসা থেকে উঠে চেয়ার তুলে ডেপুটিকে মারতে গিয়েছিলেন। জেলের লোকজন জমা হয়ে গিয়েছিলো। বিষ্ণুদা বলেছিলেন ‘এসব কথা এরপর বললে আপনাকে মেরে জেলে ভর্তি করিয়ে দিব।’ শোভনায় (খুলনা) বাঁধ ভেঙে গেছে এতো স্রোতে গেছে সব ধুয়ে যাচ্ছে। বিষ্ণু চ্যাটার্জি আসছে বাঁধ দেখতে- একথা শুনে হাজার হাজার কৃষক ছুটে আসলো তাঁর কাছে। কৃষকরা বললো ‘আপনি একটু এসে পানিতে নেমে দাঁড়ান, তাহলেই বাঁধ হয়ে যাবে।’ বিষ্ণুদা কৃষকদের কথা শুনে পানিতে দাঁড়ালো উৎসাহ দেয়ার জন্য। ব্যস বাবু হয়ে গেলো, লোকজন যে এতো খাটুনি করলো তাতেই কিন্তু হলো, কিন্তু তারা মনে করছে ঠাকুর নেমেছে তাই বাঁধ হলো। হিন্দুরা তাঁকে বিষ্ণু চ্যাটার্জী বলতো না, বলতো বিষ্ণু ঠাকুর। সাধারণ মানুষের কাছেও দেবতাতুল্য মানুষ ছিলেন। বহু ডাকাত ও লাঠিয়ালরাও তাঁর সংস্পর্শে এসে কমিউনিস্ট হয়েছেন।” বিষ্ণু চ্যাটার্জী জন্মেছিলেন ১৯১০ সালের মার্চ মাসের কোনো একদিন, খুলনা জেলার রূপসা এলাকার খানকা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম রাধাচরণ চট্টোপাধ্যায়। মায়ের নাম জানা যায় নি। বিষ্ণু চ্যাটার্জীর বাল্যজীবন কেটেছে সাহস গ্রামে। ওই গ্রামের স্কুলে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। তারপর পার্শ্ববর্তী নৈহাটি স্কুলে পড়াশুনা করেন। সেই অগ্নিযুগের চেতনামানসের ধারায় কিশোর বিষ্ণু চ্যাটার্জীও যুক্ত করেছিলেন নিজেকে। যুক্ত হন যশোর-খুলনা ‘যুব সমিতি’র কার্যক্রমে। এই সমিতির মধ্যেই চলতো বিপ্লববাদী দলের কার্যক্রম। এই সমিতির পুরোভাগে ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট নেতা প্রমথ ভৌমিক, নির্মল চন্দ্র দাস, কৃষ্ণ বিনোদ রায়, শচীন মিত্র প্রমুখ। এঁদের সংস্পর্শে এসে বিপ্লবী ভাবাদর্শে উদ্ধুদ্ধ হয়ে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হন বিষ্ণু চ্যাটার্জী। সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষ্ণুদা বিপ্লবী ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হলেন। বিপ্লববাদী দলের সাথে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় বিনা বিচারে নানা জেল ও ক্যাম্পে থাকতে হয় তাঁকে। অবশেষে ১৯৩৮ সালে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান। জেলে থাকা অবস্থায় তিনি বিপ্লবী রাজনীতির সাথে মার্কসীয় রাজনীতিকে যুক্ত করেন। তিনি এ সত্য উপলব্ধি করেন যে, শুধুমাত্র ভৌগোলিক স্বাধীনতা ও বিদেশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে মানুষের সার্বিক মুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব না। তাই শোষণমুক্তির সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের মুক্তি আন্দোলনে ছুটে চললেন। চলে গেলেন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মধ্যে। একে একে তাদের সংগঠিত করার কাজ, রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত করার কাজ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার কাজে একাকার করে নিলেন নিজেকে। ১৯৩৯ সালের এপ্রিল মাসে শোভনাতে কৃষক সমিতির দ্বিতীয় জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিষ্ণু চ্যাটার্জী ছিলেন এই সম্মেলনের প্রধান সংগঠক। সম্মেলনে সারা ভারত কৃষক সভার পক্ষ থেকে কমিউনিস্ট নেতা কমরেড বঙ্কিম মুখার্জী, জাতীয়তাবাদী নেতা নৌশের আলী ও মৌলভী আহম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন। শুধু শোভনা অঞ্চলই নয়, সমগ্র খুলনা অঞ্চলে বিষ্ণু চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে এক এক করে বাঁধ নির্মাণের কাজ, দখলি জমি থেকে কৃষক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, কৃষক সমিতি গড়ে তোলার কাজ, তেভাগা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রভৃতি জোরদার হতে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা বুক ভরা আশা নিয়ে কৃষক সমিতির পতাকাতলে সমবেত হয়। একের পর এক কৃষকদের দাবি আদায় হতে থাকে। সমিতির জয়-জয়কার দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে ওই সময়ে খুলনা অঞ্চলে শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠে। ১৯৪৯ সালে খুলনা জেলা কারাগারে বিষ্ণুদার নেতৃত্বে অনশন ধর্মঘট হয়। জেলের অভ্যন্তরে বন্দিদের মানুষের মতো বাঁচার অধিকার, পশুর পরিবর্তে ‘মানুষকে দিয়ে ঘানি টানানো’ প্রথা লোপ প্রভৃতি দাবিতে সকল শ্রেণির বন্দিরা ধর্মঘটে অংশ নিলে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। গোটা পাকিস্তান আমলে বিষ্ণু চ্যাটার্জী কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে গিয়ে কখনও জেলে কখনও আত্মগোপনে ছিলেন। মাত্র ৬২ বছর বয়সের মধ্যে ২৪ বছরেরও বেশি সময় তিনি জেলে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল (মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে) জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ চক্র বিপ্লবী বিষ্ণু চ্যাটার্জীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লেখক : সম্পাদক, বিপ্লবীদের কথা

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..