রাবিতে মাদকের ছড়াছড়ি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রাজশাহী সংবাদদাতা : সহজলভ্য হওয়ায় রাজশাহীতে এখন মাদকের অবাধ বাণিজ্য চলছে। রাজশাহী নগরী ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের অভয়ারণ্য। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছে সর্বগ্রাসী মাদকে। অকালে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে। সর্বশেষ গত রবিবার মাদকের বিষক্রিয়ায় রাবির দুই ছাত্রের মৃত্যুর পর এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা মাদকমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবি তুলেছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনই সোচ্চার হয়ে উঠেছে। রাবিতে দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমদিন নগরীর এক ফার্মেসির মালিকসহ আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হলেও গত রবিবার দিবাগত রাতে নতুন করে আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় রবিবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। বোয়ালিয়া থানার ওসি আমানুল্লাহ আমান বলেন, দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন, রাজপাড়া থানার সিপাইপাড়া এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে ইফতেখায়ের হোসেন সুমন। কাশিয়াডাঙ্গা কোর্ট বরসি এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে লুৎফর রহমান ও বোয়ালিয়া বড়কুঠি এলাকার বাচ্চু শেখের ছেলে জনি শেখ শুভ। এদিকে রবিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ছাত্রের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঈশ্বরদীর রূপপুরে কর্মরত রাশিয়ান কোম্পানির প্রকৌশলী বেলি দিমিত্রীর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে কোম্পানির মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া রূপপুরে মাদকের বিষক্রিয়ার অসুস্থ অপর দুইজনকে রবিবারেই রাজশাহী থেকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, মদপানের কারণে দুই শিক্ষার্থীর শরীরে এ বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একই ঘটনায় রুয়েটের রাকিব আহমেদ রকি নামে এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের মুহতাসিম খুলনার দৌলতপুর উপজেলার কবির আলমের ছেলে। অপরজন অর্থনীতি বিভাগের তূর্য রায় নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ছোট রাউতরা গ্রামের পুর্নেন্দ্র রায়ের ছেলে। তারা দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাবির দুই ছাত্র গাঁজা, ইয়াবা ও এ্যালকোহলের মিশ্রণ ঘটিয়ে একসঙ্গে পান করায় তাদের মৃত্যু হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া রূপপুরে কর্মরত রাশিয়ান প্রকৌশলীর মৃত্যুও মদের বিষক্রিয়ায় হয়েছে। বেলি দিমিত্রী পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। অতিরিক্ত মদপানের কারণে বিষক্রিয়ায় তিনি মারা গেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে রাবির দুই ছাত্রের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর উপরভদ্রা এলাকার সাঈদ টাওয়ারে অবস্থিত মেসে তূর্য থাকতেন। শুক্রবার রাতে তিনি তার দুই বন্ধুকে সেখানে ডাকেন। তারা তিনজন ইয়াবা, গাঁজা ও পানির সঙ্গে এ্যালকোহল মিশিয়ে একসঙ্গে পান করেন। এরপর থেকেই তাদের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাদের এক সহকর্মী সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে রাফিদ তাকে ফোন করে মদপানের কারণে তাদের অসুস্থতার কথা জানান। তোহরাব তাদের হাসপাতালে নিতে চাইলে তারা হাসপাতালে না যেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে তারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তোহরাব তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাতে রাফিদ এবং সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তূর্য রায় মারা যান। এদিকে, শনিবার বিকেলে বেলি দিমিত্রীসহ পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত চার প্রকৌশলী মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..