সরকার ভয়ের রাজত্ব কায়েম করছে : মনজুর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সিপিবি’র সংগঠক ড্রাইভার হোসেন আলীর মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, বিনা ভোটের সরকার তার শাসন টিকিয়ে রাখতে জনগণকে ভীতির কাছে জিম্মি করতে চায়। তাই নিরীহ মানুষকে গায়েবি মামলায় ফাঁসিয়ে তারা দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি সিপিবি সংগঠক ড্রাইভার হোসেন আলীকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং কল্পিত ‘নাশকতার’ ঘটনা সাজিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি হোসেন আলীর চলমান তিন দিনের রিমান্ড অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার ওপরে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হলে পুলিশকে ক্ষমা করা হবে না। তিনি আরও বলেন, কোনো স্বৈরাচারই চিরস্থায়ী হয়নি। এদেশের প্রতিবাদী মানুষকে ভীতি ও আতঙ্কগ্রস্থ করে দাবিয়ে রাখা যাবে না। গত ১২ এপ্রিল বেলা ১১টায় শান্তিনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে গায়েবি মামলায় নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে এবং আশুলিয়া থানায় গ্রেফতার ড্রাইভার হোসেন আলীর রিমান্ড বাতিল ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শান্তিনগর এলাকার প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র শান্তিনগর শাখার সভাপতি শ্রমিকনেতা হযরত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জলি তালুকদার, পল্টন থানা কমিটির সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব সাহা, শান্তিনগর শাখার সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, নারী নেত্রী রাশেদা কুদ্দুস রানু, শ্রমিকনেতা ইয়াসিন স্বপন, তৌফিকুল ইসলাম, যুবনেতা জাহিদ নগর, ছাত্র ইউনিয়ন পল্টন থানা কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধনে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, দেশে একের পর এক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড, যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোনো অপরাধীর বিচার হচ্ছে না। অন্যদিকে হোসেন অলীর মত নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করতে পুলিশ বাহিনী বিরাট সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গকন্যা’ নুসরাত দুই বছর আগে বখাটের দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তখনও অপরাধীর শাস্তি হয় নাই। এ বছর সে যখন শিক্ষকের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে পুলিশির কাছে অভিযোগ করতে গিয়ে থানার ওসির দ্বারা আবারো যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন তনু হত্যা, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত পর্যন্ত করতে পারে না। তারা নির্দোষ ব্যক্তিদের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও মামলা বাণিজ্য করতে ব্যস্ত। তিনি আরও বলেন, পুলিশ হোসেন আলীর বিরুদ্ধে আদালতে যে নথি দাখিল করেছে সেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে বলা হয়, ‘আসামী শ্রমিক বাঁচাও লেখা বিশেষ ধরনের গেঞ্জি পরিহিত ছিল।’ তিনি বলেন যে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট ‘শ্রমিক বাঁচাও’ কথাটিকে অপরাধমূলক মনে করে সংবিধান সমুন্নত রাখতে তাদের অবিলম্বে অব্যহতি দেয়া উচিত। উল্লেখ্য শান্তিনগরের বাসিন্দা হোসেন আলী একজন ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস চালক। গত ৮ এপ্রিল কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা তার গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঢাকা ইপিজেডে কারখানা পরিদর্শনে যান। গাড়ি পার্কিং সংলগ্ন এলাকায় আগে থেকেই চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সমবেত শ্রমিকদের জটলায় কৌতূহলবশত তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরিহিত টি-শার্টে ‘শ্রম শক্তিই ভবিষ্যৎ’ কথাটি লেখা ছিল। যে টি-শার্টটিতে ঢাকাস্থ জামালপুরবাসী ড্রাইভারদের একটি সমিতির নাম অঙ্কিত ছিল। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী এবং নাশকতাকারী হিসেবে পুরাতন একটি গায়েবী মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। আজ তার চলমান রিমান্ডের শেষ দিন। সিপিবির নিন্দা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র ঢাকার শান্তিনগর শাখার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, প্রাইভেট কারস ড্রাইভার্স ইউনিয়নের নেতা হোসেন আলীর গ্রেফতার এবং তাকে ৩ দিনের রিমান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। গত ৮ এপ্রিল কমরেড হোসেন আলী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ইপিজেড এলাকায় যান। সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আটকে রাখে। পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া থানা কল্পিত নাশকতার সঙ্গে তাকে যুক্ত করে এক গল্প ফাঁদে এবং তার নামে ৮টি ধারায় মামলা সাজায়। পরে ৯ এপ্রিল আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিবৃতিতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ এই গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হোসেন আলীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে, মানুষকে গ্রেফতার ও নানাভাবে নাজেহাল করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। জনসমর্থনহীন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে এভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে সমুচিত জবাব দিতে হবে। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..