লিবিয়ায় সরকার-হাফতার সংঘর্ষ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : লিবিয়ায় গত ১১ এপ্রিল থেকে জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে হাফতারের বাহিনীর। এ সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। এ ছাড়া সংঘর্ষের কারণে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৮০০ মানুষ। অপর দিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত লোকজনের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্টের একজন চিকিৎসক ছিলেন। জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে গত ১১ এপ্রিল লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের মিলিশিয়াদের নেতা জেনারেল খলিফা হাফতার তাঁর বাহিনীকে রাজধানী ত্রিপোলিতে অগ্রসর হওয়ার আদেশ দেন। এরপরে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে হয় জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সাররাজ এই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জীবনযাপনের মানের দিকে থেকে তেল-সমৃদ্ধ লিবিয়া একসময় আফ্রিকার শীর্ষে ছিল। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ছিল পুরোপুরি সরকারের দায়িত্ব। পয়সা লাগতো না। কিন্তু যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ঐ ঐশ্বর্য নিশ্চিত করেছিল, সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে যখন পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। তারপর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য এবং অরাজকতা। এমনকি রাজধানী ত্রিপলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন নতুন করে শুরু হয়েছে লড়াই। ফলে লিবিয়া পুনর্গঠনের জন্য এমাসে একটি জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। লিবিয়ায় এখন নানা মত ও পথের অসংখ্য সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী তৎপর। দেশের পূর্বে এবং পশ্চিমে রয়েছে দুটো ভিন্ন রাজনৈতিক শাসন কেন্দ্র। কিছু মিলিশিয়া দল পূর্বের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুগত, কিছু আবার সমর্থন করে পশ্চিমের অর্থাৎ ত্রিপলি নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনকে। রাজধানী ত্রিপলি নিয়ন্ত্রণ করছে যে সরকার সেটি জাতীয় ঐক্যমত্যের

সরকার (জিএনএ) নামে পরিচিত। জাতিসংঘ এই সরকারকে লিবিয়ার বৈধ সরকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফায়েজ সারাজ নামে একজন প্রকৌশলী এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠনে জাতিসংঘের উদ্যোগে একটি চুক্তির চার মাস পর ২০১৬ সালের মার্চে তিনি ত্রিপলিতে আসেন। গত তিন বছর ধরে মি সারাজ বিভিন্ন মিলিশিয়া এবং রাজনীতিকদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু পুরো দেশের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি তার প্রশাসনের যে সেনাবাহিনী রয়েছে, তার ওপরও তার পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই। ২০১৪ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের পর যে পার্লামেন্ট গঠিত হয় তাদের নিয়ে শুরু হয় এই সরকার। কিন্তু সেসময় যারা রাজধানী ত্রিপলি নিয়ন্ত্রণ করছিল তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ঐ এমপিরা তখন ১০০০ কিলোমিটার দূরে বন্দর শহর তবরুকে চলে জান। ২০১৫ সালে এই এমপিদের কেউ কেউ জাতিসংঘের উদ্যোগে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চুক্তি সমর্থন করেন। কিন্তু ২০১৪ সালের পার্লামেন্ট এখন পর্যন্ত ঐ সরকারকে সমর্থন এই সংসদ নতুন একটি নির্বাচনের প্রস্তাবও মানতে চাইছে না। কারণ তারা নিশ্চয়তা চাইছে যে ভবিষ্যতের যে কোনো সরকারে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা এনএলএ নামের মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান জেনারেল খালিফা হাফতারকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে। ঐ সংসদের এমপিদের অনেকেই খোলাখুলি বলেন যে জেনারেল হাফতারকেই ক্ষমতা দিতে। লিবিয়াতে এখন যার হাতে যত বেশি অস্ত্র, তার শক্তি এবং প্রভাবও তত বেশি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন লিবিয়া এখন অস্ত্রের বাজারে পরিণত হয়েছে। গাদ্দাফি সরকারের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রে ছেয়ে গেছে লিবিয়া। আশপাশের একেকটি দেশ একেকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে, অস্ত্র এসব মিলিশিয়ারা নিজেদের সুবিধামত সময়ে সময়ে আনুগত্য পরিবর্তন করছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..