ক্ষুধার্ত হকারদের আওয়াজে নগরভবন ভেঙে পড়বে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেক : শাপলা চত্বরের কর্মসূচিতে পুলিশি বাঁধা, হকারনেতা আবুল কালামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, ফুটপাতের এক-তৃতীয়াংশে হকার বসতে দেওয়ার দাবিতে ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (নগরভবন) ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার হকার মিছিল করে এসে নগরভবনের সামনে যেতে গেলে গোলাপশাহ মাজারের কাছে পুলিশ ব্যরিকেড তৈরি করে বাধা দেয়। হকাররা সেখানেই অবস্থান করে সমাবেশ করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবীর। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিমউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক গোলাপ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ খান, শাহানা আক্তার মিজানুর রহমান, এম এ খায়ের, কনক, মো. মাসুম, সামিরুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ৩ মাস ধরে হকাররা ফুটপাতে বসতে না পেরে অভুক্ত রয়েছে। এই ক্ষুধার্ত হকারদের আওয়াজে নগরভবন ভেঙ্গে পড়বে। সমাবেশে তিনি বলেন, হকারদের উপর হামলা, মামলা, গ্রেফতার করে, মালামাল লুট করে হকারদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। হকারদের উপর হামলা-নির্যাতন যত বাড়বে আন্দোলনের তীব্রতাও তত বাড়বে। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন হকার পুনর্বাসনের বিষয়ে সোজা পথে হাটতে চাচ্ছে না তাই হকাররা সিটি কর্পোরেশন, সরকারকে বাধ্য করার জন্য হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি দেবে। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল হাশেম কবীর বলেন, মেয়র মহোদয় চাকুরী দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে পুনর্বাসন করবেন ভাল কথা আগে চাকুরী দেন, বিদেশে পাঠান পরে উচ্ছেদ করেন। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ মানা হবে না। সমাবেশে সভাপতি আগামী ১৫ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হকার মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন। ঐ দিন সারা ঢাকাশহর থেকে লক্ষ হকার সমবেত হয়ে মহাসমাবেশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। সমাবেশ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সাথে বৈঠক করেন। আগের দিন একই দাবিতে হকাররা শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশি বাঁধার মুখে পড়ে। ‘বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া হকার উচ্ছেদ কেবল সংবিধান বিরোধীই নয়, বিচারের রায়েরও বিরোধী’: জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয় দাবিতে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের করা ‘নগর ব্যবস্থাপনায় হকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা’ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনালের মাননীয় প্রসিকিউটর অ্যাড. রানা দাশগুপ্ত বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া হকার উচ্ছেদ শুধু সংবিধান বিরোধী নয়, বিচারের রায়েরও বিরোধী। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হকারদেরকে ফুটপাতে পুনর্বহাল বা পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে পরামর্শ দেন। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবিরের সভাপতিত্বে এবং কার্যকরী সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুলের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার এমপি, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. লেলিন চৌধুরী, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গবেষক মারুফ হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জেটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, কর্মজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব হারুনার রশিদ ভূঁইয়া। আলোচকরা গোলটেবিল ঠেককের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন এবং আশা ব্যক্ত করেন মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুপারিশ পাওয়ার পর হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া উচ্ছেদ করবেন না। আলোচকরা বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু যারা একথা বলছেন, হকারদের সঙ্গে পরিবেশের কী দ্বন্দ্ব সেই বিষয়টি তারা মোটেও পরিস্কার করতে পারছেন না। পরিবেশ বলতে তো আমরা প্রাণ-প্রকৃতি আর মানুষ বুঝি। এই তথাকথিত ‘সুন্দর শহরের’ ফেরিওয়ালা যারা তারা মুনাফার জন্য সমস্ত বন-বাদার, জলাশয় ধ্বংস করে এখন গরিব মানুষকে তাদের দৃষ্টিসীমা থেকে খেঁদিয়ে দিতে চাচ্ছে। প্রাণ-প্রকৃতি আর মানুষ বাদ দিলে পরিবেশের কী অবশিষ্ট থাকে, এই প্রশ্নের জবাব তাদের দিতে হবে। নগরের ভরাট করে ফেলা জলাশয়, নদী এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ রক্ষা করার বেলায় তাদের আমরা ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে দেখি না। একটি গণমুখী হকার ব্যবস্থাপনার দাবির সঙ্গে শহরের আদর্শ পরিবেশের দ্বন্দ্বটা কোথায় এই প্রশ্নের উত্তর আসলে তাদের কাছে নাই। আলোচকবৃন্দ আরও বলেন, স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘কেউ কারো পিছনে থাকবে না’। হকারদের কাঁধে যানজটের দায় চাপানোর চেষ্টা হয়। অথচ হকার বিষয়টি ফুটপাতের সাথে সম্পর্কিত। যানজট রাস্তার বিষয়। কোন সাধারণ হকারের কি সাধ্য আছে রাস্তায় কিছু মালামাল রেখে বিক্রি করবে? প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার পরিবর্তে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে কোনো দিন যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..