চাই সর্বাত্মক লড়াই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন : কলঙ্কিত ও প্রহসনের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন থেকে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিরোধী দলগুলো উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলো। সব মিলিয়ে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এ পর্যন্ত ৪ ধাপে সাড়ে চারশর বেশি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছে, নির্বাচনে গড় ভোট পড়েছে ৪০.৬৩ শতাংশ। বাস্তবে এই হার অনেক কম হবে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নেয়া যায়নি। নির্বাচনের কাজে যুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মীদের অলস সময় কাটানোর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কেবল উপজেলা নির্বাচনই নয়, এর আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনেও মানুষ ভোট দিতে যায়নি। উপজেলা নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৪৫৮ উপজেলার মধ্যে ১০৭ জন বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ২২৩ জন। এ রকম একটা অকার্যকর একতরফা নির্বাচনেও কারচুপি হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন আওয়ামী লীগের ৩০ জনের বেশি সংসদ সদস্য। প্রশ্ন উঠেছে-যে নির্বাচনে মানুষের একেবারেই সাড়া নেই, ৭৫০ কোটি টাকা খরচ করে ভোটারবিহীন সেই নির্বাচন করার কী প্রয়োজন? বাংলাদেশের গোটা নির্বাচনব্যবস্থাই এখন হুমকির মুখে। উপজেলা নির্বাচন ছাড়াও দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সাম্প্রতিক সময়ের সিটি কর্পোরেশনসহ আরও কিছু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নির্বাচন সম্পর্কে মানুষকে হতাশায় নিমজ্জিত করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখাসহ নজিরবিহীন অনেক ঘটনা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন। গত ৮ মার্চ এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হলে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কোনো সুযোগ থাকবে না। পশ্চিমারা গরিব দেশের মানুষকে শিখিয়েছে, গণতন্ত্র মানে ভোট ভোট খেলা। কিন্তু সেই ভোটের সুযোগও এখন মানুষের হাতছাড়া হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপজেলা নির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহের বিষয়ে বলেছেন, ‘ভোটে জনগণের যে অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে জাতি এক গভীর খাদের কিনারের দিকে অগ্রসরমান। আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় শামিল হতে চাই না।’ শুধু পাবলিক নির্বাচনই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে যা হলো, তা নজিরবিহীন এবং একেবারে অপ্রত্যাশিত। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নির্বাচন আদৌ হবে কি না এবং হলে তা কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে শঙ্কাও ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পরিচালনা করেন শিক্ষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও যে কারচুপির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, তা অনেক মানুষেরই ভাবনার বাইরে। ভোটের আগেই ব্যালটে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মেরে বস্তা ও ট্রাঙ্কে ভরে রাখা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সদুত্তর দিতে না পেরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (যিনি বিশ্ববিদ্যালয়েই একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক) দৌড়ে পালিয়েছেন। স্বপ্রণোদিত হয়ে যে ৮জন শিক্ষক প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ডাকসু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে চেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাহলে জাতিকে কী শিক্ষা দিতে চাইছেন? পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রোকেয়া হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদেরকে হেনস্তা করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এসএম হলের একজন প্রার্থীর ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে যাঁরা ওই হলে গিয়েছিলেন, তাঁদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর ডিম ছুড়েছে। ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকদের ব্যাপক অংশকে এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না দেখে প্রশ্ন জাগে-বিশ্ববিদ্যালয়ের পতন কি আসন্ন? মানুষের হতাশা কেবল নির্বাচন নিয়ে নয়। জনজীবনের সংকট ঘণীভূত হচ্ছে। গণবিরোধী সরকার নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এবার সঞ্চালন কোম্পানি ও বিতরণ কোম্পানি দুই পক্ষই তাদের কাজের মূল্যহার বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে দুই বার্নার চুলার জন্য ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৪০ টাকা এবং এক বার্নার চুলার দাম ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। দেশে গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৬ বার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ক্যাপটিভ ও যানবাহনের সিএনজির দাম। ২০০৮ সালের এপ্রিলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ টাকা ৭৫ পয়সা। এখন তা ৪০ টাকা, যা বাড়িয়ে ৫৪ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে বিদ্যুতে ২০৮ শতাংশ, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯৬ শতাংশ, শিল্পে ১৩২ শতাংশ ও বাণিজ্যিক খাতে ৪১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ১ বছরের মধ্যে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বেআইনি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে। এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, ‘পেট্রোবাংলা ও তিতাসের দুর্নীতির ৫০ ভাগও যদি কমানো যায় তাহলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না’। আদালত আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের যে মূল্য রয়েছে, সেটা মেনেই আমাদের দেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বা কমানো উচিত। কারণ ভারত যেখানে ৬ ডলার দিয়ে গ্যাস ক্রয় করছে, সেখানে বাংলাদেশ একই পরিমাণ গ্যাস কেন ১০ ডলার দিয়ে কিনবে?’ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হয়েও দুদক, পেট্রোবাংলা ও তিতাসের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেন। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিজনিত ব্যয় ওঠাবেন। গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতেরও দাম বাড়বে। পরিবহন ব্যবসায়ীরা বাড়াবেন ভাড়া। সব মিলিয়ে বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়, যা উসকে দেবে মূল্যস্ফীতিকে। শিল্পখাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে রপ্তানিখাত। রপ্তানিখাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দেশে উৎপাদন খরচ বাড়লে বাজার হারাবে দেশীয় পণ্য। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘সবার ধারণা ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিপদের মুখোমুখি। এতে কিছুটা হলেও আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কথা। আমার কাছে মনে হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় সবার কাছে প্রিয় ছিল। মানুষ এখন ব্যাংকে আসতে ভয় পায়।’ অর্থমন্ত্রীর এই কথা থেকেই আমাদের ব্যাংক খাতের সংকট স্পষ্ট। প্রতিবছর অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। দেশে বর্তমানে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। সম্প্রতি খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আগেও ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এভাবে সরকার প্রভাবশালীদের বিশেষ সুবিধা করে দিচ্ছে। ঋণের সুদহার বাজারভিত্তিক হচ্ছে না, সরকারের সঙ্গে বসে ঋণগ্রহীতারা সুদহার ঠিক করে দিচ্ছে। লুটপাটের কারণে পুরনো ব্যাংকগুলোই ঠিকমতো চলতে পারছে না। অনেক ব্যাংকের ঋণপত্র বিদেশি ব্যাংক গ্রহণ করছে না। তা সত্ত্বেও লুটপাটের স্বার্থে নতুন নতুন ব্যাংক চালু করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ৩ মেয়াদে ১৪টি নতুন ব্যাংক চালু করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি বৈষম্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের তত্ত্বাবধানে শ্রমজীবী মানুষের রক্তঘামের ফসল লুট করছে লুটেরাচক্র। একদিকে সরকার ‘উন্নয়নে’র ঢোল বাজায়, অন্যদিকে বরগুনার তালতলীতে প্রাইমারি স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী মারা যায়। অগ্নিকাণ্ড নিয়ে নতুন এক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে গড়ে প্রায় তিনটি অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হিসাবমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ঢাকায় ২৩৪টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। কেবল জানুয়ারি মাসেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ১০০টি। একদিনে সর্বোচ্চ ৭টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি পুরনো ঢাকার চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৭ জন মারা যান। গার্মেন্টে আগুন লাগার ঘটনা তো নিয়মিত ব্যাপার। ২০১২ সালে তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের মৃত্যুর ক্ষত এখনও মানুষ ভোলেনি। আগুনের আতঙ্কের মধ্যেই মানুষ জীবন পার করছে। কিন্তু সরকার নির্বিকার। অগ্নিকাণ্ড থামানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই। দেশের সড়কব্যবস্থাপনায় এখন চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা চলছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে এসেছিল। আন্দোলন থামাতে সরকার একদিকে পুলিশ আর দলীয় ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী নামিয়েছিল, অন্যদিকে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার হয়নি, সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। ঢাকার সড়ক ও পরিবহন খাতে গত ১ দশকে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। ঢাকঢোল পিটিয়ে গত ৭ মাসে ঢাকায় তিন দফা ট্রাফিক শৃঙ্খলা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচি পালনকালেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৬৬টি। তাতে ৬৯৯ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জন আহত হয়েছেন। আরেকটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১৮ সালে সারাদেশে মোট ৩১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪৩৯ জন। পরিবহনের নৈরাজ্য দূর করতে সরকার কিছু করছে না, বরং লুটেরা সিন্ডিকেটকে কেবল রসদ জুগিয়ে চলছে। ফলে আতঙ্কের মধ্যেই প্রতিদিন মানুষকে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। নুসরাত জাহান রাফিকে বাঁচানো গেল না। আগুনে পুড়িয়ে প্রতিবাদী মেয়েটিকে হত্যা করা হলো! ফেনীর মাদ্রাসার এই ছাত্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কী বীভৎস! মধ্যযুগীয় বর্বরতা কি তবে আবার নেমে এলো? নির্দোষ জাহালমের কাহিনি এখন সবাই জানেন। ২০১৬ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলার আসামি আবু সালেকের বদলে গ্রেপ্তার করা হয় জাহালমকে। তখন তিনি বারবার বলছিলেন যে, তিনি সালেক নন। কিন্তু তাতে কান দেননি দুদক কর্মকর্তারা। বিনা অপরাধে জাহালমের কারাবাসের ঘটনা গণমাধ্যমে দেখে তাঁকে মুক্তির আদেশ দেন হাইকোর্ট। তখন দুদক সম্পর্কে হাইকোর্ট বলেছিলেন, ইঁদুর ধরতে না পারলে সেই বিড়ালের দরকার কী? বিনা অপরাধে জাহালমের কারাবাসের দায় দুদকের এড়ানোর সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট। আরও কত জাহালম যে বিনাবিচারে কিংবা অন্যের হয়ে জেলের ঘানি টানছেন, তার হিসাব কে রাখে? গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র ঢাকার শান্তিনগর শাখার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, প্রাইভেট কারস ড্রাইভার্স ইউনিয়নের নেতা কমরেড হোসেন আলী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ইপিজেড এলাকায় গিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আশুলিয়া থানা কল্পিত নাশকতার সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করে এক গল্প ফাঁদে এবং তাঁর নামে ৮টি ধারায় মামলা সাজায়। তাঁকে ৩ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে। এদিকে সিপিবির ঢাকা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক কমরেড সুকান্ত শফি চৌধুরী কমলের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যে ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক অরুন্ধতি রায়ের অনুষ্ঠান আটকাতে সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। শ্রমজীবী মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা হচ্ছে। নওগাঁয় আদিবাসী পল্লিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে হকারদের নির্বিচারে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পুনর্বাসনের দাবিতে হকাররা রাজপথে লড়াই করছেন। পাটকল শ্রমিকরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। গ্রাম থেকে কৃষক-ক্ষেতমজুররা লাল ঝাণ্ডা নিয়ে ছুটে এসেছেন ঢাকায় বিক্ষোভে শামিল হতে। মানুষ নানাভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। একটা শূন্যতা চলছে। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ রুখে দাঁড়াবেই। ফ্যাসিবাদ মানুষ মেনে নিতে পারে না। আঘাতপ্রাপ্ত হলে পাল্টা আঘাত করা ন্যায়সংগত। জনসমর্থনহীন গণবিরোধী সরকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ। সাময়িক নিরবতা ভেঙে মানুষ জেগে উঠবে। সবকিছুর একটা নিজস্ব প্রতিশোধের জন্য মানুষ তৈরি হচ্ছে। সলতে পাকানো হচ্ছে। প্রস্তুতি চলছে। চাই সর্বাত্মক লড়াই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..