উদীচীর জাতীয় গণসঙ্গীত প্রতিযোগিতা

‘সময়ের ভ্রান্তিতে টলো না’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিবছর গণসঙ্গীতের প্রচার, প্রসার এবং একে একটি স্বতন্ত্র সঙ্গীতের ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে গণসঙ্গীত উৎসব আয়োজন করে আসছে। আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ ২০১৮ উদীচী আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘দশম সত্যেন সেন গণসঙ্গীত উৎসব ও জাতীয় গণসঙ্গীত প্রতিযোগিতা ২০১৮। এ বছর একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে উদীচীর একবিংশ জাতীয় সম্মেলন। উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন-এর জন্মদিনকে উপলক্ষ করে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এবারের গণসঙ্গীত উৎসবের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সময়ের ভ্রান্তিতে টলো না, লড়াইটা কখনোই ভুলো না’। গত ১৫ মার্চ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্ব। ঢাকা বিভাগীয় প্রতিযোগিতা সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও দলীয়- এই চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। একক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব-১২ বছর বয়সীরা ‘ক’ বিভাগে, ১২ থেকে অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সীরা ‘খ’ বিভাগে এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী সকল প্রতিযোগী ‘গ’ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। দলীয় প্রতিযোগিতা ‘ঘ’ বিভাগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচজন শিল্পীর অংশগ্রহণ বাঞ্ছনীয় ছিল। এ প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শংকর সাওজাল, বিশিষ্ট গণসঙ্গীত গীতিকার সুরকার ও শিল্পী শাহীন সরদার এবং বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী সোহানা আহমেদ, গণসঙ্গীত শিল্পী ও উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাবিবুল আলম। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ছিল সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী পর্ব। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ। উদীচী ঢাকা বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক শিবাণী ভট্টাচার্য-এর সভাপতিত্বে আলোচনা করেন তিন বিচারক শংকর সাওজাল, শাহীন সরদার সোহানা আহমেদ, হাবিবুল আলম। এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান। এতে তিন বিচারককে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এরপর শুরু হয় চারটি বিভাগের প্রতিযোগিতা। এবারের প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগীয় পর্বে ‘ক’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে শেহের মাহমুদ স্মিতা, আর দ্বিতীয় হয়েছে সিতমা মণ্ডল শ্রেয়া, তৃতীয় হয়েছে অর্পিতা সেন ত্রপা। ‘খ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে গাজী আহনাফ লাবীব কাব্য, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে দুলারী ভট্টাচার্য সিথিঁ ও তৃতীয় হয়েছে তাশদীদ করীর রোদ্দুর। ‘গ’ বিভাগে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সরস্বতী সরকার। এ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন সুমন কুমার বিশ্বাস। তৃতীয় স্থান পেয়েছেন মনির হোসেন। আর দলীয় অর্থাৎ ‘ঘ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নারায়ণগঞ্জের ,‘যোদ্ধা’ সাংস্কৃতিক সংগঠন। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছে উদীচী তেজগাঁও শাখা। আগামী ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার গুলিস্তানে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা। ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য জেলায়ও অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা অংশ নেবেন বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। সেখানে যারা বিজয়ী হবেন তারা ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রগতিশীল গণচেতনা সম্পন্ন জাগরণমূলক গান, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের দু:খ-দুর্দশা এবং অধিকার সম্পন্ন সচেতনতামূলক গান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ গান, স্বাধীনতা সংগ্রামের গান, সমাজের অন্যায় অত্যাচার নিপীড়ন অবসানের দিক নির্দেশনামূলক গান, মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী গান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গান, যুদ্ধবিরোধী-স্বৈরাচার বিরোধী গান, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদ বিরোধী গান, বিশ্ব শান্তির পক্ষে গান, শোষণের বিরুদ্ধে গান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গানকে গণসঙ্গীত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলা, আদিবাসীদের উপর হামলার বিষয় এবং সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা সম্পর্কিত গানগুলোকে উৎসাহিত করা হবে। স্থান-কাল ভেদে গণসঙ্গীতের ভিন্নতর ব্যাখ্যা থাকলেও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..