লেবু-কমলেশ-বিষ্ণু-মানিক হত্যা বিচার হয়নি ৪৬ বছরেও

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়ায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা হেমায়েতের নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সিপিবি’র গোপালগঞ্জ মহকুমার তৎকালীন সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান লেবু, ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্র ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ মহকুমার তৎকালীন সহ-সভাপতি বিষ্ণুপদ কর্মকার ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শ্যামাপদ ভট্টাচার্য মানিককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লুৎফর রহমান গঞ্জরকে গুরুতর আহত করা হয়। নিহত ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ হওয়া প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১২ (কোটালীপাড়া) আসনের প্রার্থী ছিলেন। সিপিবি নেতা ওয়ালিউর রহমান লেবু ও কমলেশ বেদজ্ঞ মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় হেমায়েত বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন কমলেশ বেদজ্ঞ। সে সময় কমলেশ বেদজ্ঞ হেমায়েতের লুটপাটের বিরোধীতা করেন। ডায়েরিতে হেমায়েতের লুটপাটের কাহিনীও লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। ৭ মার্চের নির্বাচনে কমলেশ বেদজ্ঞ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ৯ মার্চ কোটালীপাড়ায় নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশ শেষে ১০ মার্চ গোপালগঞ্জ শহরে ফেরার পথে হেমায়েত গং এ চারজনের ওপর নৃশংস হামলা চালায় ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। ৪৬ বছর পরও এ চার নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে লেবু-কমলেশ-বিষ্ণু-মানিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অবদান কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেছেন। হেমায়েতের মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও তার বিচারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত জীবিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তারা। সিপিবি চার নেতার স্মরণে গোপালগঞ্জ শহরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..