‘গণশুনানির নামে প্রতারণা’ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক: নতুন করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১১ মার্চ থেকে চারদিনের গণশুনানি করেছে। পেট্রোবাংলা, তিতাস, বাখারাবাদ, জালালাবাদসহ বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ ও সঞ্চলন কোম্পনির পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ গণশুনানিকে প্রতারণা অ্যাখ্যা দিয়ে ১৩ মার্চ বিইআরসির সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোট সমম্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের শীর্ষ নেতা বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদ মার্কসবাদী নেতা মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের মনিরুদ্দিন পাপ্পু, কম্যুনিস্ট লীগের নেতা নজরুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক, সিপিবি’র রুহিন হোসেন প্রিন্স। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা জুলফিকার আলী। কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ইউসিবিএল নেতা মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চু ভূইয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, সিপিবি নেতা জলি তালুকদার, শামীম, বাসদ মার্কসবাদী নেতা জহিরুল ইসলাম, বাসদ নেতা আবদুর রাজ্জাক, খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্যাস এমন একটি উপাদান যার দাম বাড়লে জনসাধারণের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল জিনিসের দাম বেড়ে যায়। জনগণের ভোগান্তি বাড়ে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে দেখিয়েছেন যে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নাই। ৫ মাস আগে অক্টোবরেও দাম বাড়িয়েছে, আইনে আছে বছরে একবারের বেশি দাম বাড়ানো যাবে না। ফলে এখন যে গণশুনানি হচ্ছে তা বেআইনী। বক্তারা বলেন, জানুয়ারিতে কোম্পানিগুলো বিইআরসিতে প্রস্তাব করেছিল আবাসিক খাতে ১ বার্নার চুলায় ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫০ টাকা, দুই বার্নার চুলায় ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করার কিন্তু গত ২ দিনে সেটা পুনরায় বাড়িয়ে তারা ১৩৫০ ও ১৪৪০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অথচ আবাসিক যে গ্যাস ভোক্তারা ব্যবহার করে তার চেয়ে দ্বিগুণ দাম ইতিমধ্যেই জনগণ দিচ্ছে অর্থাৎ গ্যাসের ব্যবহার করে ৪৫ থেকে ৫০ ইউনিট দাম দেয় ৮৫/৯২ ইউনিটের। জোট নেতারা বলেন, এক সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হতো দেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে এখন আবার এলএনজি গ্যাস আমদানি করে ব্যক্তিদের মুনাফার স্বার্থে বলছে গ্যাস নাই। অথচ দেশের স্থল ভাগের গ্যাস ক্ষেত্র যেগুলো বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেয়া হয়েছে সেগুলোতে প্রায় দুই যুগ ধরে অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ২০১২ সালে সমুদ্র বিজয়ের ঢাক ঢোল পিটালেও সেখানে গ্যাস উত্তোলনের কোন উদ্যোগ সরকার নেয়নি, কিন্তু আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত-মায়ানমার তারা একই সমান্তরালে থেকে সমুদ্র বক্ষের গ্যাস উত্তোলন করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিইআরসি’র দায়িত্ব ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করা কিন্তু তাদের অতীত ইতিহাস তারা গণশুনানির নামে সরকারের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের শুনানি করে। ফলে দাম বাড়ানোর গণশুনানি বন্ধ করে, দাম কমানোর জন্য গণশুনানির আয়োজন করতে বিইআরসি’র প্রতি নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতৃবৃন্দ দাম বাড়ানোর পাঁয়তারার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের দেশ প্রেমিক জনগণকে বাম জোটের নেতৃত্বে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..