ফের ভোটের জন্য অনশন, আলটিমেটাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ডাকসুতে পুনঃভোটের দাবিতে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশে ডাকসুর প্রথম নির্বাচিত সহ-সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের পুনরায় তফসিল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছে এই নির্বাচনের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। গত ১১ মার্চ এই নিবাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভোটে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া অপরাপর সবগুলো ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভোটের দিন দুপুরেই পাঁচটি প্যানেল যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নামে। সবশেষ বামপন্থিদের জোট, কোটা সংস্কার আন্দোলন, স্বাধিকার স্বতন্ত্র জোট, স্বতন্ত্র জোটসহ পাঁচটি প্যানেল এই নির্বাচন বাতিল করে পুন:তফসিলের দাবি জানিয়ে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। ১৬ মার্চ এই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তাঁরা বলেছেন, এই নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অব্যাহতি দিতে হবে এবং দাবি মানা না হলে তাঁরা কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামের দিকে যাবেন। এ দিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ১৩ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী। এরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবষের মীম আরাফাত মানব, একই বিভাগের চতুর্থ বষের তাওহীদ তানজিম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মো. মাঈন উদ্দিন, দর্শন বিভাগের তৃতীয় বষের অনিন্দ্য মণ্ডল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আল মাহমুদ তাহা। এর মধ্যে অনিন্দ মণ্ডল অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ১৪ মার্চ হাসপাতালে ভতি করা হয়। ১৫ মার্চ বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন মানব। ১৫ মার্চ মধ্যরাতে প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভঙ্গ করেন আন্দোলনকারীরা। অনশনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে জালিয়াতি ও ভোটচুরি হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকেন। তাঁরা দায়িত্বে থাকার পরও এ ধরনের নির্বাচন অপ্রত্যাশিত ছিল। তারা আরো বলেন, এ নির্বাচনে জড়িত শিক্ষকসহ সবাইকে নির্বাচনে জালিয়াতির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের দাবি মোতাবেক ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। দাবি মানা না হলে আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। এ দিকে এই অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশে ডাকসুর প্রথম ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খানসহ পাঁচটি প্যানেলের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে ১৩ মার্চ সন্ধ্যা থেকে রোকেয়া হলে নারী প্রার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন। অনশনকারীরা হলেন- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। অনশনকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালে রোকেয়া হলে ভোটকেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষ থেকে তিন ট্রাংকে ফাঁকা ব্যালট পেপার উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁরা আন্দোলনে নামেন। কিন্তু হল প্রশাসন তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায়, আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ ও প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যসহ পাঁচটি প্যানেল। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে ১৭ মার্চ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এদিকে ১৩ মার্চ দুপুরে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশন ও স্বতন্ত্র দুই জোটের নেতাকর্মীরা। অনিয়ম জালিয়াতির অভিযোগে ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ‘আগামী তিনদিনের মধ্যে যদি এ নির্বাচনকে বাতিল করে পুনঃতফসিল দেওয়া না হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দিতে বাধ্য হব।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..