সাতক্ষীরায় এবার বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা অন্যতম। লবণাক্ততার কারণে এ উপকূলে এমনিতেই আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। এবার বোরো মৌসুমে এসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে বোরো চারা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষকরা দু-তিন দফায় রোপণ করেও ফল পাচ্ছেন না। এর ফলে দেবহাটা, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় চলতি বছর বোরোর উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের আবাদি জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার অস্বাভাবিক তারতম্যে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। দেবহাটা উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের কৃষক নুর আলী জানান, তার পাঁচ বিঘা জমির বোরো চারা রোপণের ১০-১২ দিনের মধ্যে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বীজতলা, চারা রোপণ, সেচ এবং সার-কীটনাশক বাবদ এরই মধ্যে তার ৬০-৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন ক্ষেতের যা অবস্থা, তাতে পুরো টাকাই জলে যাবে বলে মনে হচ্ছে তার। একই এলাকার কৃষক রাজ্জাক আলীও জানান এ সমস্যার কথা। অথচ গত বছরও বোরোতে বেশ লাভবান হয়েছিলেন তিনি। তার তিন বিঘার মধ্যে অন্তত দেড় বিঘার বোরো চারা একেবারে শুকিয়ে গেছে। কৃষকদের ধারণা, লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করে দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আবহাওয়ার কারণেও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। কিছু এলাকায় লবণাক্ততার পাশাপাশি তীব্র শীতের কারণেও চারা নষ্ট হয়ে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। আশাশুনি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ওলিউর রহমান জানান, লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার প্রতাবনগর, শ্রীউলা ও খাজরা ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বোরো চারা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তিনি জানান, এবার ফসলি জমিতে লবণাক্ততা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। আশাশুনির অধিকাংশ এলাকায় ১১-১৪ ডিএস/মিটার মাত্রায় লবণাক্ততা দেখা দিচ্ছে। এটা ফসলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। একই কথা বলেন উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, দিন ও রাতে তাপমাত্রার অত্যধিক তারতম্যের কারণে কিছু এলাকায় বোরোর ক্ষতি হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। যেসব এলাকায় বোরো চারা মরে যাচ্ছে, সেখানে কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবার সাতটি উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭৪ হাজার ৭৩৩ হেক্টর। সূত্র জানান, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬৭ হাজার ৫১৫ হেক্টর। যেখানে গত মৌসুমে লক্ষ্য ছিল ৭৩ হাজার ৪২০ হেক্টর। প্রসঙ্গত, লবণাক্ততার কারণে খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের ভূমির ধরনের কী বদল হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন একটি গবেষণায় দেখিয়েছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এ পাঁচ উপজেলার কৃষিজমি কমেছে ৭৮ হাজার ১৭ একর। বিপরীতে লবণ পানিনির্ভর চিংড়ি চাষের জমি বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৯ একর।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..