গাজরের বাম্পার ফলনেও লাভ পাচ্ছেন না কৃষক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : এবার গাজরে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না মানিকগঞ্জের কৃষক। এর জন্য বীজের দাম বৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়াকেই দায়ী করছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, গাজর বীজ সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আর বেশি লাভের আশায় কৃষকরা অপরিপক্ব গাজর তুলছেন। এ কারণে মান খারাপ হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গাজরের ফলন বেশ ভালো হয়। কৃষকরাও লাভবান হন। এ বছর সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ, দুর্গাপুর, দেউলী, দশানীসহ অন্তত ৩০ গ্রামে ১ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে গাজরের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন ধরা হয়েছে ৩৪ টন। গত বছর ফলন হয়েছিল ৩৭ টন। তবে কৃষকরা বলছেন, গত বছর গাজরের বাম্পার ফলন হলেও এবার আশানুরূপ নয়। জাপান থেকে আমদানি করা অরেঞ্জ কিং জাতের গাজর উচ্চফলনশীল। গত বছর এই বীজ প্রতি কেজি ১২ হাজার টাকায় কিনলেও এবার কিনতে হয়েছে ১৩ হাজার ৮০০ টাকায়। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু প্রতি বিঘা গাজর ক্ষেত বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। কৃষকরা জানান, গত বছর ফলন বেশি হওয়ায় পাইকাররা গাজর ক্ষেত আগাম কিনেছিলেন। এবার ভরা মৌসুমেও তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে কম দামে বেচতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কিটিংচর গ্রামের গাজর চাষি সায়েদুর রহমান বলেন, গত বছর চার বিঘা জমিতে গাজর আবাদ করে লক্ষাধিক টাকা লাভ পেয়েছিলেন। এবার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলন কম হওয়ায় ক্ষেত বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। ২০ বছর ধরে গাজর চাষ করছেন একই গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন। তিনি জানান, বীজের দাম বেশি থাকায় এবার চাষ করেননি। তার মতো আরো অনেকে গাজর আবাদ থেকে বিরত আছেন অথবা কম পরিমাণে আবাদ করেছেন। একই অবস্থা জয়মন্টপ, দশানী, নীলটেকসহ অন্যান্য গ্রামেও। পাইকাররা বলছেন, অন্য বছরগুলোতে ভালো ফলনের কারণে বেশি দাম দিয়ে গাজর ক্ষেত কিনেছেন। মোকামে গাজর বিক্রি করে লাভও বেশি পেয়েছেন। কিন্তু এবার গাজরের আকার, রঙ নিম্নমানের, ফলনও কম। দেউলী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুজ্জামান জানান, বীজের দাম বেশি হওয়ার কারণে তার ব্লকে ৩০ হেক্টর কম জমিতে গাজর চাষ হয়েছে। কৃষকরা কম দামে চীনা বীজ কেনায় গাজরের রঙ, মান ও ফলন কমেছে। তাছাড়া একই জমিতে বারবার গাজর চাষের কারণেও ফলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বেশি লাভের আশায় কৃষকরা অপরিপক্ব গাজর তুলছেন। আরো সপ্তাহ দুয়েক পর পুরোপুরিভাবে পরিপক্ব হবে। তখন আকার ও রঙ ফুটে উঠবে। কৃষকরাও দাম পাবেন। বীজের দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, গাজর বীজ জাপান, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ কারণে দামও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরকারিভাবে বীজ বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা উপকৃত হতেন। এ বিষয়ে চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..