অবিশ্বাস্য তামিমে সর্বস্বান্ত সাকিব

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মিথুন রায় : অভিনন্দন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স! না, অভিনন্দনটা আগে তামিমেরই পাওনা। এক এক করে ১১টি ছক্কা, গুণে গুণে ১০টি চার, ৬১ বলে অপরাজিত ১৪১ রান..., এরপরও কি আর কোনও ভণিতা থাকে। বরং তামিমকে নিয়ে যেকোনও স্তুতিবাক্যই কম হবে। এক কথায় বারবার শুধু বলা যায়- ‘অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়’। এতটুকুুও যে বাড়িয়ে বলা হয়নি। গত শুক্রবার বিপিএলের ষষ্ট আসরের রোমাঞ্চ ছড়ানো ফাইনালে এক তামিমের কাছেই তো হারলো সাকিব! তাতে আরও একবার শিরোপার আক্ষেপ নিয়ে অপেক্ষা বাড়ালো ঢাকা ডাইনামাইটস। গত শুক্রবার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকাকে ১৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শীতরাতে ম্যাচ শেষে দর্শকরা হয়তো ক্রিকেট-উত্তাপ নিয়ে ধীরে ধীরে গ্যালারি ছেড়েছেন, কিন্তু ঘুরেফিরে তামিমের সেই বিধ্বংসী রূপ কি ভেসে উঠেনি ক্রিকেটপাগল দর্শকদের চোখে! ২৩১.১৪ স্ট্রাইক রেটে তার ১৪১ রানের ইনিংসটির পর কুমিল্লার আর কোনো ব্যাটসম্যানকে যে পরীক্ষাই দিতে হয়নি। নিজেদের দিনে অফফর্ম এনামুল হক বিজয় ৩০ বলে ২৪ ও অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ২১ বলে ১৭* রানের ছোট দুটি সংগ্রহ তামিমের রান পাহাড়ে শুধু কিছুটা চূড়াই গেঁথেছে। ম্যাচ শেষে তাই পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অকপটেই স্বীকার করে নিলেন জাতীয় দলের সতীর্থ তামিমের কাছে হারের সত্যটি। সাকিব বলেন, ‘২০০ রান তাড়া করতে নেমে ওভারপ্রতি রান তোলাটা সব সময়ই চাপের। আমরা সঠিক সময়েই ছিলাম। মাঝে আনলাকিলি দ্রুত উইকেট হারানোই এই হারের কারণ।’ এখানেই শেষ করেননি সাকিব। গত আসরের ফাইনালে ক্রিস গেইলের অপরাজিত ১৪৬ রানে এই সাকিবদের হারিয়েই যে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছিল রংপুর। ৬৯ বলে ১৮ ছক্কা ও ৫ চারে অপরাজিত ১৪৬ রান করেছিলেন জ্যামাইকান এই দানব। ব্র্যান্ডন ম্যাককালামকে সঙ্গে নিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে রেকর্ড ২০১ রানের জুটি গড়েছিলেন গেইল। এক বছর আগেই সেই পুরোনো ক্ষত গত শুক্রবার নতুন করে সামনে আনেন সাকিব। সেটিও যে তামিমের উছিলায় তা তার কথাতেই স্পষ্ট। সাকিব বলেন, ‘টানা তিনবার আমরা বিপিএলে ফাইনাল খেললাম। এর মধ্যে গেলবার আমরা হারলাম গেইলের কাছে, আর এবার হেরে গেলাম একা তামিমের কাছে।’ তবে তামিমের এই চোখ ধাঁধানো মোহনীয় ইনিংসটি সামনের দিনে তাকে আরও শক্তির যোগান দেবে বলেও মনে করেন সাকিব। শুরু হয়ে যাওয়া নিউজিল্যান্ড সফর বিশেষত ইংল্যান্ডে আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকেই হয়তো ইঙ্গিত করে থাকবেন সাকিব। কথাগুলো বলতে বলতে কী যেন একটা হারিয়ে খুঁজছিলেন ঢাইনামইটস ক্যাপ্টেন। হয়তো ভালো সুযোগ থাকার পরও সেটি হাতছাড়া হওয়ার কথাই ঘুরেফিরে ভাবাচ্ছিল সাকিবকে। ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রান আউট হন সুনীল নারিন। দলীয় স্কোরবোর্ডেও তখন ঢাকার রানের যাত্রা শুরুই হয়নি। এরপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভারে যথাক্রমে ১৬, ১৫, ১৫, ১২ রান তুলেন রনি তালুকদার ও উপল থারাঙ্গ। ঠিক এসময়ই ঢাকার ব্যাটিং ছন্দে ছেদ টানেন থিসারা পেরেরা। ২৭ বলে ৪৮ রান করা স্বদেশি থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছিল কুমিল্লা। এর পর হঠাৎই পালে উল্টো হাওয়া। পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজের করা ইনিংসের দ্বাদশ ওভারটি ঢাকার শিবিরে ঘাতক হয়ে হানা দেয়। ৫ বলে ৩ রান করে তামিমের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন সাকিব। কুমিল্লাকে চোখ রাঙানো রনি তালুকদারের তলোয়ার বনে যাওয়া ব্যাটটিও কিছু পরেই দাঁড়ি টানলো ৩৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রান করে। সাকিব-রনির বিদায়ের পর ঢাকা মূলত বিজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল কাইরন পোলার্ড আর আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটে সওয়ার হয়ে। দুজনেই হতাশ করলেন। আর আগুনঝরা বোলিং করেও ‘তামিম-নাটকের’ পার্শ্বচরিত্রই হয়ে থাকলেন ওয়াহাব রিয়াজ, থিসারা পেরেরা আর সাইফুদ্দিনরা। শেষ দিকে নুরুল হাসানের ১৫ বলে ১৮ ও মাহমুদুল হাসানের ৮ বলে ১৫ রানে ব্যবধান কমানোর প্রয়াস ছাড়া অন্যরা পতনের গল্পই লিখলেন ঢাকার ললাটে। আর সেই পতনের বলিরেখা গিয়ে থামলো ৯ উইকেটে ১৮২ রানে। ফাইনালে তামিমের কুমিল্লার কাছে সাকিবের ঢাকা হারলো ১৭ রানে। বিজয়ীদের বিজয়োল্লাসের বিপরীতে মাঘের কুয়াশাচ্ছন্ন মিরপুরের রাতের গ্যালারি তখন ফ্লাডলাইটের আলোতে চেয়ে চেয়ে দেখলো বিজিতদের আত্মসমর্পণের শেষ দৃশ্যটুকুও।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..