শুষ্ক মৌসুমে চর, বর্ষায় পাড় ছাপিয়ে বন্যা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুনাই নদীর সম্পূর্ণ বিপরীত রূপ দেখা যায় বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে। পলি পড়ে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীটিতে পানি থাকে না বললেই চলে। এতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েন নদীটির আশপাশের কৃষকরা। অন্যদিকে বর্ষায় পানি ধারণ করতে না পারায় দুই কূল ছাপিয়ে বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কায় থাকেন হাজারো মানুষ। সরেজমিন দেখা যায়, নদীটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় চর জেগেছে। চর দখল করে অনেকে সবজি চাষও করেছেন। পানি রয়েছে নদীর সামান্য কিছু অংশে। স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন খনন না করায় নদীটির এ দশা। অথচ একসময় এ নদী দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করত। বছরজুড়ে চলত লঞ্চ ও স্টিমার। কিন্তু বর্তমানে শুকনো মৌসুমে এখানে নৌকাও চলে না। বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির পলি জমে নদীটির এ করুণ দশা। স্থানীয়রা আরো জানান, পানি না থাকায় নদীনির্ভর অন্তত দুই হাজার জেলে অনেক আগেই তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে এখনো মাছ ধরছেন। তবে যা মিলছে, তাতে পুরোপুরি এ পেশার ওপর নির্ভর করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সেচ নিয়ে সংকটে পড়ছেন নদীটির আশপাশের দুই থেকে আড়াই হাজার কৃষক। এদিকে শুকনো মৌসুমে নদীটি মৃতপ্রায় হলেও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে বর্ষার সময়। অল্প বৃষ্টিতেই দুই পাড় উপচে তলিয়ে যায় আশপাশের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ, দেখা দেয় ভাঙন। আতঙ্কে থাকেন বর্মি ও নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মানুষ। গত বর্ষায়ও সুনাই নদীর অন্তত ছয় স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। নদীতে বিলীন হয়ে যায় চান্দ্রগ্রাম বাজারসংলগ্ন চান্দগ্রাম-ইউনিয়ন অফিস রাস্তার অন্তত ৬০ ফুট। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পাঁচ গ্রামের মানুষকে। ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, সুনাই নদীর পলি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক। পাশাপাশি বর্ষায় ভেঙে যাওয়া স্থানগুলোও মেরামত করা প্রয়োজন। ভাঙা অংশগুলো মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষায় আবারো নদীভাঙনের কবলে পড়তে হতে পারে। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সুহেল মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে পাউবো অবগত আছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে তারা নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, আমরা একাধিকবার সুনাই নদী পরিদর্শন করেছি। শুকনো মৌসুমে নদীর তলদেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাড় ছাপিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। তবে মৌলভীবাজারের অন্য নদীগুলোর মতো এটিও খননের আওতায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের ছয়টি নদীর অন্যতম সুনাই। বড়লেখার তিন নম্বর নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি কুশিয়ারা নদীতে মিলিত হয়েছে। ভারতের আসাম থেকে উৎপন্ন এ নদীটির বাংলাদেশে দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ কিলোমিটার।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..