সিসিকের যত্রতত্র পার্কিংয়ে নাগরিক ভোগান্তি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সিলেট সংবাদদাতা : সড়কে শৃঙ্খলা আনতে নগরীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নতুন ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ও বাস টার্মিনালের আধুনিকায়নও চলছে পুরোদমে। অথচ সিটি করপোরেশনেরই নেই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। শতাধিক গাড়ির যত্রতত্র পার্কিং নাগরিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকায় কেনা গাড়িগুলো খোলা স্থানে রাখার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রাংশ চুরি যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সিসিক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, করপোরেশনের জিপ, পিকআপ, নগর উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও ট্রাক্টর, পানি সরবরাহ কাজে ব্যবহূত ওয়াটার ভাউচার এক্সক্যাভেটর, প্লোলোডার, বিম লিফটার মিলে গাড়ির সংখ্যা ১১০টির অধিক। এসব গাড়ি রাখা হচ্ছে তোপখানা, সারদা হল, পীর হাবীবুর রহমান পাঠাগার, নগর ভবনের সামনে, ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, সন্ধ্যাবাজার কারা কর্তৃপক্ষের জায়গা ও চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীর তীরে। বিশেষ করে নগরীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাটের আলী আমজদের ঘড়ি ঘর ও সুরমা নদীর তীর এলাকায় নাগরিকদের বেশি বিরক্তি উৎপাদন করছে সিসিকের গাড়ি। চাঁদনীঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীর সংস্কার করা হয়েছে নগরীর বাসিন্দাদের প্রাত ও বৈকালিক ভ্রমণের জন্য। এখন সেখানে অনেকখানি জায়গাজুড়েই পড়ে থাকছে সিসিকের বড় বড় গাড়ি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহারের জন্য ইতালি থেকে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গাড়ি আনা হয়েছে। দেশের মধ্যে একমাত্র সিসিকেই রয়েছে এমন গাড়ি। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সেই গাড়িটিও খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকছে। এছাড়া সিসিকের গাড়ি পরিষ্কার করার জন্য কেনা একটি ট্রাক ওয়াশার স্থান সংকটে আজও বসানো সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিবহন) রুহুল আলম বলেন, শুধু পার্কিং নয়, সিটি করপোরেশনের পুরো পরিবহন বিভাগকে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ায় রাখতে নিজস্ব কিছু জায়গা প্রয়োজন। এখন নিজস্ব জায়গা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িগুলো রাখা হচ্ছে। এতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়া ও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিজস্ব জায়গা হলে গাড়ি রাখা থেকে শুরু করে গাড়ির কারিগরি কাজ, পরিষ্কারকরণ কাজ, চালকদের বিশ্রামাগারসহ সবকিছু এক জায়গায় রাখা সম্ভব হবে। এতে সিটি করপোরেশনের পরিবহন বিভাগে সমন্বয় সহজ হবে। সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা আনতে পরিবহন শাখার জন্য কমপক্ষে দুই একর জায়গা প্রয়োজন উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, পুরো পরিবহন শাখার জন্য আপাতত দুই একর জায়গা হলে চলবে। এজন্য সিটি করপোরেশন থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু নগরীর ভেতরে একসঙ্গে এত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন থেকেও জায়গা খোঁজা হচ্ছে। কোনো খাসজমি আছে কিনা, এটিও দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি। সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলোর জন্য নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় নাগরিক ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, এ কথা স্বীকার করে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেয়া হয়েছে। আশা করছি, কিছু জায়গা বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..