বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ডা. মো. সেলিমুজ্জামান ভূঁইয়া: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মভূমিতে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকার রাজপথে রক্ত দেয় আমার ভাই রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত ও শফিক। নিজ মায়ের ভাষা, বাংলা ভাষাকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ করার জন্য আত্মদানের এমন নজির ইতিপূর্বে বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায়নি। এই পৃথিবীতে বাংলার সোনার ছেলেরাই সেটা প্রথম প্রতিষ্ঠা করলো। ভাষা আন্দোলন কেবলমাত্র নিছক একটি ভাষার জন্যই লড়াই ছিল না। এটা ছিল বাঙালির জাতীয় চেতনা রক্ষার আন্দোলন। এক অর্থে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। এ কথা সবাই স্বীকার করবে যে, ৮ ফাল্গুনের লড়াই পর্যায়ক্রমে আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। ভাষা আন্দোলনের হাত ধরেই আমরা অবতীর্ণ হই স্বাধীনতার আন্দোলনে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালিদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ইতিহাস আমাদের সবারই জানা আছে। মাতৃভাষাকে একটি সম্মানজনক আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রবাসী বাঙালির এবং বাংলাদেশের তুলনা নেই। এ ক্ষেত্রে কানাডা প্রবাসী দুই উৎসাহী বাংলাদেশি জনাব আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলামের অগ্রণী ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কানাডায় উনাদের শুরু করা ‘মাদার ল্যাংগুয়েজেস্ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ সংস্থাটির তৎপরতার কারণেই ১৯৯৮ এর ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণায় ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘ অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ এর ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো তার ৩০তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের এক প্রস্তাব প্যারিসে গ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে এক অভূতপূর্ব সম্মান প্রদর্শন করা হলো। প্রতি বৎসর ২১ ফেব্রয়ারিকে ‘বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ঘোষণা দিল। এরপর ২০০০ সাল থেকে বর্তমান বিশ্বের ১৫২টি দেশ এই দিনে বিশ্বব্যাপী নিজ নিজ ভাষা দিবস পালন করে আসছে। ১৯৫২-এর সেই রক্তঝরা ২১ ফেব্রুয়ারির ৪৭ বৎসর পরও বাংলার সন্তানদের অতুলনীয় ত্যাগ বিশ্ববাসী বিস্মৃত হয়নি। বিশ্ববিবেক জাতি থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দান করে তার প্রমাণ দিয়েছে। ব্রিটেনের বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই অর্থাৎ গত ২২ বৎসর যাবৎ শহীদ দিবস এবং বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসটি একান্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছে। এটা উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, ১৮৮৬ এর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিক হত্যার স্মরণে আজ সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। শেষ কথায় বলতে চাই যে, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’ প্রতি বছর আমরা যেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করতে, তাঁদের বিদ্রোহী আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও বাংলা ভাষাকে গভীরভাবে ভালোবাসতে সচেষ্ট হই। এবারের শহীদ দিবসে আমাদের দৃপ্ত শপথ হোক আমরা যেন সমাজের সর্বস্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শামিল হই এবং বাংলাদেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। তথ্যসূত্র : স্বাধীনতা ও প্রবাস চিন্তা– ড. মনজুরুল ইসলাম লেখক : ব্রিটেনে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি, ইউকে

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..