আমাদের ‘মিরান্দাবাসনা’ ও বাংলা ভাষার ভবিতব্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রহমান মুফিজ : বাঙালি মধ্যবিত্ত মদে মাতাল অবস্থায় অহেতুক ইংরেজি আউড়ায়। যে লোকটা আমার মতো ইয়েস, নট ভেরিগুড, ওকে, ফাইন, আই লাভ ইউ, আই হেইট ইউ ছাড়া বেশিদূর ইংরেজি জানে না সে লোককেও দেখেছি মদে মত্ত বেসামাল অবস্থায় দুয়েকটা অপ্রাসঙ্গিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ইংরেজি শব্দের জোড়াতালি দিয়ে বেশ খই ফোটাচ্ছেন। মাতাল অবস্থায় তারা কেন ইংরেজি বলে– এ প্রশ্ন অনেকদিন ভাবিয়েছে। খুব বোকা বোকা প্রশ্ন বটে। কিন্তু এ বোকা প্রশ্নের উত্তর বোকা বোকা ভাষায় কেউ দিতে পারেন না। উত্তর দিতে গিয়ে প্রত্যেকে প্রায়শই খুব গভীর সমাজতাত্ত্বিক বয়ান হাজির করেন। অহেতুক ও অপ্রাসঙ্গিক ইংরেজি বলার বাতিক গড়পড়তা বাঙালির একটা ‘রোগ’। আর যদি সে মাতাল বাঙালি হয় তবে সে রোগটা বেশ হাস্যকর ও নিম্নরুচির পরিণতি পায়। গড়পড়তা মধ্যবিত্ত বাঙালির মূলত কোনো চরিত্র নেই। চির আক্ষেপ আর উচ্চবাসনার সমুদ্রে তারা ভাসে আর ডোবে। যেহেতু পাঠ্যপুস্তকীয় ভাষায় এ শ্রেণিটা বিকশিত হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলে। ফলে তার মন-মগজ-মনস্তাপে এখনো উপনিবেশকতার কড়া মদ ঝড় তোলে। আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণিটা আসলে শেক্সপিয়রের ‘টেম্পেস্ট’ নাটকের সেই ক্যালিবান। যে বহুদিন জাদুকর প্রসপারোর মন্ত্রবন্দি ছিল। নিজের দ্বীপে বিপন্ন রাজা প্রসপারোকে আশ্রয় দিয়ে ফেঁসে গিয়েছিল তৃতীয়বিশ্বের এ বোকা বান্দা। নিজের স্বার্থসিদ্ধির পর যখন প্রসপারো ক্যালিবানকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফিরছিল তখন দ্বীপের উঁচু পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে ক্যালিবান এক ধ্যানে তাকিয়ে ছিল প্রসপারোর জাহাজের দিকে। সে জাহাজে ছিল প্রসপারোর সুন্দরী কন্যা মিরান্দা; ক্যালিবানের অধরা স্বপ্ন! মিরান্দাকে না পাওয়ার আক্ষেপ বুকে নিয়েই বারবার ক্যালিবান প্রলাপ করছিল-আহ! মিরান্দাকে যদি পেতাম, তাহলে তার গর্ভে সৃষ্টি করতাম অসংখ্য ক্যালিবান! মিরান্দাকে পাওয়ার দুর্মর আকাঙ্ক্ষা বোকা ক্যালিবানের কেবলই ‘বাসনাবিলাস’ বৈ আর কিছু নয়। আমরা ইংরেজ তাড়িয়েও ইংরেজির মোহ থেকে বের হতে পারিনি। এই ইংরেজি হলো মূলত সেই ‘মিরান্দাই’। তথাকথিত সুন্দরীর, লাস্যময়ী রাজকন্যা- যে আমাদের হাতছানি দিচ্ছে এক লোভনীয় সভ্যতার। সে সভ্যতায় ভোগ আছে, আয়েশ আছে, আছে কদর্য আভিজাত্য। বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার, মুক্তসংস্কৃতি, মুক্তবিশ্ব- এমন নানা মতবাদের হাত ধরে আমাদের সামনে নব নব রূপে যেন হাজির হচ্ছে প্রিয়বাসনা ‘মিরান্দা’। তার বাহন ইংরেজি ভাষা। ইংরেজি, ভাষা হিসেবে নিঃসন্দেহে তার মতোই সমৃদ্ধ। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে যখন ইংরেজিকে অহেতুক প্রয়োজনীয় করে তোলা এবং তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হীন রাজনীতি শুরু হয় তখন বাঙালি হিসেবে ন্যূনতম মর্যাদাবোধ যদি থাকে তাহলে যে কারোরই আঁতে লাগার কথা। ইংরেজি দিয়ে কথিত ‘গ্লোবাল ইউনিটি’ তৈরির কর্মসূচির পেছনে রয়েছে ঘোরতর অভিসন্ধি। প্রথমে মোহ তৈরির সমগ্র আয়োজন শেষ করা হবে। তার পর নিজের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে আপন ভাষা ভুলিয়ে দেওয়া হবে। এতে অনেক লাভ সাম্রাজ্যবাদের। অনেক লাভ কর্তৃত্ববাদী পরজীবী শ্রেণিটির। কী লাভ? মনে রাখতে হবে ১৯৫২-এর ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অন্তর্নিহিত চেতনা বা প্রেরণার ভিত্তি ছিল– আধিপত্যবাদ, আগ্রাসন, শাসন-শোষণ, অগণতান্ত্রিক মনোভঙ্গি, সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি জাতির ঐতিহাসিক ঐক্য। একইসঙ্গে এ লড়াইয়ে ছিল সারাবিশ্বের ক্ষুদ্র বা বৃহৎ জাতিগোষ্ঠীর সকল মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের অমোঘ মন্ত্র। বাংলা ভাষাকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিপর্যস্ত বা শক্তিহীন করে দিতে পারলে সে চেতনা লুপ্ত হবে। নিরাপদ হয়ে উঠবে সাম্রাজ্যবাদ। নিরাপদ হয়ে উঠবে এ দেশীয় ‘কুলীনরা’। যে সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ইংরেজিকে বাহন করে দেশে দেশে শ্রেণি ও ভোক্তা তৈরি করছে তাদেরই চূড়ান্ত বিজয় সাধিত হবে। ভাষাবিদরা বলেন, প্রাণের মৃত্যুর মতোই যে কোনো ভাষার স্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নেয়া যায়। কিন্তু ভাষা হত্যা বা ভাষার অপমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বাংলা ভাষাকে হত্যার দূরপ্রসারি ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্র। বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ ভাষা হয়েও বাংলা বরাবরই বিপন্নঅবস্থায় রয়েছে। অনেকেই বলেন, অর্থকড়ির সঙ্গে যে ভাষার যোগ নেই সে ভাষা ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হতে বাধ্য। বাংলাদেশে বাংলা ভাষার সঙ্গে যথার্থ অর্থকড়ির যোগ যে নেই তা চাকরির বাজার দেখলেই আন্দাজ করা যায়। মাতৃভাষার জন্য বিশ্বের বুকে প্রাণ দেয়ার নজির রয়েছে কেবল বাঙালি জাতির। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদের তাজা খুনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলা ভাষার অধিকার। আর সেজন্য বিশ্ব তার স্বীকৃতিও দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এর মধ্যে সারা বিশ্বের শত-সহস্র মাতৃভাষার সম্মান, মর্যাদা এবং আপন মহিমায় বিকশিত হওয়ার প্রেরণা রয়েছে। কিন্তু সারা বিশ্বে সে প্রেরণা ছড়িয়ে দিয়ে নিজেরাই হয়ে পড়ছি উন্মুল ভাষাভাষি। এটা লজ্জার। মূলত বাঙালি জাতির মধ্যে ঔপনিবেশিক মানসিকতার ক্রমবিস্তুতিই বাংলা ভাষার এমন দুর্গতি টেনে এনেছে। সাধারণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এ দুর্গতির জন্য দায়ী নয়। তাদের হাতে ভাষা বিপদগ্রস্তও হয় না। ভাষা বিপদগ্রস্ত হয় সমাজের উঁচু শ্রেণি, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গোষ্ঠী ও পরজীবী মানসিকতার মানুষের হাতে। তারা সমাজের সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে। সাধারণ মানুষের থেকে নিজেদের আলাদা প্রতিপন্ন করার জন্য তারা ইংরেজি ভাষাকে বেছে নিয়েছে। ইংরেজি ভাষাকে ‘অভিজাত’ তকমা দিয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি না জানা সমাজের সাধারণ মানুষকে হীনমন্যতায় ভোগার ‘মন্ত্র’ দিয়ে যাচ্ছে। এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে– ইংরেজি না জানলে ভালো চাকরি হবে না, ব্যবসার প্রসার ঘটবে না, ভালো সাহিত্য জানা যাবে না, অভিজাত হওয়া যাবে না– ইত্যাদি। প্রচ্ছন্নভাবে এ ধরনের মানসিকতার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রও। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বলছে রাষ্ট্রমাত্রই শ্রেণিরাষ্ট্র। অর্থাৎ কোনো-না- কোনো শ্রেণির আধিপত্যাধীন। আর সে শ্রেণির আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে যে ভাষা সে ভাষাই শেষতক ছড়ি ঘোরাবে সাধারণ্যের ভাষার ওপর। এটা ভুললে চলবে না যে, আধিপত্যবাদী বা ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী ভাষার স্বার্থও। তাই আজ সাধারণ্যের বাংলা ভাষা ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে ইংরেজি। এ ভাষা এখন শোষকের ভাষায় রূপ নিয়েছে। ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে শাসক বা শোষক এবং তথাকথিত উঁচু শ্রেণি এ ভাষার অধিকার গ্রহণ করে নিয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে শ্রেণিশোষণ বা বৈষম্যের ক্ষেত্রকে সাময়িক প্রলম্বিত করছে। ফলে এ শ্রেণিবিভক্ত সমাজ বলবৎ রেখে রাষ্ট্রভাষা বাঙলার সর্বত্র প্রচলনের দাবি নিছক বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। কারণ ঔপনিবেশিক সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর শিক্ষাপদ্ধতি পৃথিবীকে আমাদের চোখ দিয়ে দেখার মানসিকতা গড়ে তোলেনি। পৃথিবীকে আমাদের দেখতে হচ্ছে পলাতক দখলদারের ফেলে যাওয়া দুর্বীণ দিয়ে। ফলে আমরা আমাদের ভাষা দিয়ে বিশ্বকে বিচার-ব্যবচ্ছেদ করতে এখনো অপারগ। যুগে যুগে এটাই চেয়েছে সাম্রাজ্যবাদ, যেন সবকিছুর জন্য ওর কাছে ধর্না দিই। যেন ক্যালিবানের মতো তাকিয়ে থাকি অধরা মিরান্দার দিকে। কিন্তু মিরান্দা কেবলই দূরান্বয়ী কূহক। মিরান্দা তথাকথিত আভিজাত্যের প্রতীক। শ্রেণিবিভক্ত সমাজে উঁচুশ্রেণির লোকজন মিরান্দাবাসনায় ডুবে থাকে আর নিজেদের অভিজাত প্রতিপন্ন করার জন্য পৃথক সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণ্ডি তৈরি করে। সাধারণ মানুষ থেকে নিজেদের পৃথক ও অপেক্ষাকৃত মর্যাদাপূর্ণ করে তোলার জন্যই এ ব্যবস্থাবলয় গড়ে তোলা। তারা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসা তৈরি করে। সেখানে পৃথক ও শেকড়বিচ্ছিন্ন প্রজন্ম তৈরি হয়। বাংলা ভাষাকে তারা দেখে চরম অবজ্ঞার দৃষ্টিতে। কারণ বাংলা অভিজাত নয়। কারণ বাংলার সঙ্গে অর্থকড়ির সম্পর্ক নেই। বাংলার প্রতি এ অবজ্ঞা, অমর্যাদা প্রদর্শনে এ শ্রেণির কোনো গ্লানীবোধ নেই। আছে অপার গর্ব। তারা ইংরেজিতে বলতে পারে। থানা-প্রশাসন শাসাতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি রাষ্ট্র অব্দি দখলে রাখতে পারে। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের শ্রমে-ঘামে গড়ে ওঠা সমাজের মাখন খেয়ে পুষ্ট হওয়া মিরান্দাবাসনায় মত্ত শ্রেণিটাই বার বার জিতে যায়। কারণ তার সঙ্গে রয়েছে আমাদের রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্র; ৭১-এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ যে রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। কোনো ঔপনিবেশিক ভাষার আধিপত্য নয় রাষ্ট্রভাষা বাংলার আধিপত্যই এখানে অনুমোদিত ছিল। আর ছিল দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণের অধিকার। এর কোনোটিই কি আজ পরিণতি পেয়েছে? শ্রমজীবী বা সাধারণ মানুষ নিজেদের শ্রেণিচেতনা সম্বন্ধে সচেতন নয়, কাজেই সমাজের কর্তৃত্বশীল দর্শনের প্রভাবে তাদের মনমানস গড়ে ওঠে। কর্তৃত্বশীল শ্রেণির দর্শনই যে শ্রেণিসমাজের কর্তৃত্বশীল দর্শন তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। ফলে পরজীবী ও কর্তৃত্বশীল শ্রেণির ভাবাদর্শ ও সংস্কৃতির ধারকবাহক হয়ে উঠে মধ্যবিত্ত ও সুবিধাবাদী শ্রেণি। এদের হাত ধরেই সমাজে বিস্তৃতি লাভ করে আত্মবিধ্বংসী পরভাষা চর্চার ক্ষেত্র ও কথিত আভিজাত্যবাদের শেকড়। সে শেকড় উৎপাটন করতে না পারলে আমাদের ভাষার স্বাধীনতা যেমন মুখ থুবড়ে পড়বে অদূর ভবিষ্যতে তেমনি আমাদের চিন্তা ও দৃষ্টির স্বাধীনতাও রহিত হবে। জ্ঞানতীর্থ যতীন সরকারের কথা ধার নিয়েই বলি– ‘সর্বাধুনিক মানবজ্ঞানকে অধিকার করার জন্য বিশ্বের সকল সমৃদ্ধ ভাষার চর্চা বাঞ্ছনীয় যদিও, তবু অনেক কালের অনুশীলনে আমাদের সঙ্গে ইংরেজি ভাষার যে সূত্রটি গড়ে উঠেছে সেইটিকে আশ্রয় করেই অনেক সহজে জ্ঞানবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারি।...ইংরেজি ভাষা যদি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য না হয়, সে অনুশীলনের ফলে যদি সকল বাঙালি সন্তান বাঙলা ভাষায় বিশ্বের সকল জ্ঞান লাভ করতে না পারে, সে অনুশীলন যদি গরিষ্ঠসংখ্যক বাঙালিকে দাবিয়ে রেখে মুষ্টিমেয় কিছু লোক নিয়ে গঠিত একটি উচ্চশ্রেণির বাড়বাড়ন্ত ঘটাতে থাকে তবে সেরকম অনুশীলনে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রয়োজন তো শ্রেণিভেদ ঘুচিয়ে শ্রেণিবিলুপ্ত ঘটানো। সে প্রয়োজন সাধনের জন্যই আমাদের আশু করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাষাভেদের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা শ্রেণিভেদের শিকড়টিকে আগে উপড়ে ফেলা; মাতৃভাষার জন্য প্রাণোৎসর্গকারীদের দেশেও বিজাতীয় ভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভের সুযোগ নিয়ে অভিজাতের স্পর্ধা দেখায় যারা, তাদের সেই স্পর্ধার সৌধটিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া। মাতৃভাষার সাহায্যেই বিশ্বের সকল ভাষার জ্ঞানের সঙ্গে সেতুবন্ধন রচনা করা।’ যদি সে সেতুবন্ধন রচনা করা যায়, ‘মিরান্দাবাসনা’ থেকে আমাদের মুক্তি ঘটবে। ঘটবে বাংলা ভাষারও মুক্তি। তৃতীয় বিশ্বের নিষ্পেষিত বান্দার তকমা নিয়ে আর ক্যালিবানকে বাঁচতে হবে না। বাঁচতে হবে না দ্বীপবাসীকেও। লেখক : কবি, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..