উত্তর কোরিয়া- যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ঘনিয়ে আসছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : পিয়ংইয়ংয়ে সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ বিগেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের দ্বিতীয় বৈঠককে সামনে রেখে এই সফর। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দু’নেতার বৈঠকের আগে আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিগেন এ সফর করছেন। চলতি মাসের ২৭ তারিখ ভিয়েতনামে কিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। এ ঘোষণা আসার পরপরই বিগেন উত্তর কোরিয়া পৌঁছালেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিগেন পিয়ংইয়ং গেছেন। এ সফরের মধ্য দিয়ে তিনি ট্রাম্প-কিম আসন্ন বৈঠকে বাস্তবসম্মত আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চান বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিভাগ জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প ও কিমের দেওয়া পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে বিগেনের এ সফর সহায়ক হবে। গত বছর জুনের ওই প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প ও কিম নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে স্পষ্ট কোনো আলোচনা করতে পারেননি। দুইজনই নিরস্ত্রীকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও তা কীভাবে করা হবে এবং বিষয়টি যাচাই করা যাবে কীভাবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। এবারের বৈঠকে ওই অস্পষ্টতাই দূর করার চেষ্টা চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় তাদের সব পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করুক। তবে উত্তর কোরিয়া কখনো এমন কিছু করার কথা বলেনি। জাতিসংঘ এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছে, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করছে। চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন বলে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ ডিসেম¦র মার্কিন কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বার্ষিক স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে একটি দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐক্যের ডাকও দেন। ফেব্রুয়ারির ২৭-২৮ তারিখে ভিয়েতনামে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি। এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বন্দিরা বাড়িতে ফিরে এসেছে, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে আর গত ১৫ মাসের মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়নি। আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হতাম, এখন আমরা, আমার মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে রত থাকতাম। আরও অনেক কাজ করতে হবে, কিন্তু কিম জং উনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক একটি ভালো বিষয়।’ গত বছর সিঙ্গাপুরে এ দু’নেতার ঐতিহাসিক বৈঠকের পর থেকেই তাদের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠকটি ছিল উত্তর কোরিয়ার একজন নেতার সঙ্গে কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম বৈঠক। কমিউনিস্ট শাসিত ভিয়েতনামের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র, উভয়েরই ভালো সম্পর্ক আছে। ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য এই দেশটির নামই সবচেয়ে বেশি বার সুপারিশ করা হয়েছিল। ভিয়েতনামের কোন শহরে তাদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে তা জানাননি ট্রাম্প। তবে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় অথবা ডা নাংয়ে বৈঠকটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..