‘চীনের ওপর নতুন শুল্কে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি হবে’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : জাতিসংঘের এক বাণিজ্য কর্মকর্তা এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী মাসে পরিকল্পনামাফিক ফের চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ‘গুরুতর’ প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে এশিয়ার দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ১ মার্চের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রগতি অর্জন করতে না পারলে চীনা পণ্যে নতুন ওই শুল্কারোপের পরিকল্পনা করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ৬ ডিসেম¦র সতর্ক করেন জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান প্যামেলা কোক হ্যামিলটন। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আঙ্কটাডের এক গবেষণা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হ্যামিলটন ওই সতর্কবার্তা দেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়বে। পুরো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় এর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ছোট ও দরিদ্র দেশগুলো বাইরে ধাক্কা সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাবে।’ সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরষ্পরের পণ্যের উপর একাধিকবার পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের ঘোষণা দেয়। উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতা ও শিল্প মালিকরা শুল্পারোপের এ ঘোষণায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে একমত হয়। আলোচনার জন্য তিন মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়, যা আগামী ১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে য্ক্তুরাষ্ট্র চীনা পণ্যের উপর ফের শুল্কারোপ করবে। এমন হলে সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকা এশিয়ার, বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার ছোট দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছে আঙ্কটাড। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে ‘ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (আঙ্কটাড) এর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যদি বাণিজ্য যুদ্ধ বাড়ে তবে তার জন্য বড় মূল্য দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন কোম্পানিকে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে তাদের কারখানা সরিয়ে নিতে হবে। ফলে ওই অঞ্চলে রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় ১৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হ্রাস পাবে বলে প্রতিবেদনে ধারণা প্রকাশ করা হয়। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ধাক্কা পুরো বিশ্বে লাগবে বলেও এতে সতর্ক করা হয়। আঙ্কটাডের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান প্যামেলা কোক হ্যামিলটন বলেন, ‘মুদ্রা বাজারে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন হবে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে, যার প্রভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে এবং বেকারত্ব বাড়বে। এর ক্ষতিকর প্রভাব বাণিজ্যের অন্যান্য বিভাগেও পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে হাঁটতে শুরু করবে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..