বৃহত্তর ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য’ করতে চায় ছাত্র ইউনিয়ন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজেদের প্রার্থী নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সমমনাদের নিয়ে ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য’ নামে জোট করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বামপন্থি ৬টি ছাত্রসংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের নিয়ে ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য’ গড়ার কাজ চলছে। ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দাবিগুলো হচ্ছে- ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করা, ক্যাম্পাস ও হলে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান ও স্বাধীন মতের পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি উচ্ছেদ করে প্রথম বর্ষ থেকেই মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে আসন বণ্টন এবং শ্রেণিকক্ষে নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারে জাতীয় নেতাদের অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বাধা বাতিল করা? সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘ডাকসুর অনুপস্থিতিতে একদিকে মেধাভিত্তিক রাজনীতির বিপরীতে সন্ত্রাস ও পেশীশক্তি নির্ভর অপরাজনীতির বিকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে জন্ম নিয়েছে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র? এর ফলে একের পর এক ছাত্রদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং অপরাজনীতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুগত দাস তৈরির কারখানার ভূমিকা নিয়েছে? ডাকসু নির্বাচন ও ডাকসুতে ছাত্রনেতাদের কার্যক্রম অবস্থার উন্নতি ঘটাবে বলে আমরা মনে করি, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়।’ লিটন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেনি, এখনো হলগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, সংগঠনগুলোর সহাবস্থান এখনো নিশ্চিত হয়নি; এই অবস্থায় যদি ডাকসু ইলেকশনটা করা হয় তাহলে পূর্বে যে চার চারবার তফসিল ঘোষণা করেও নির্বাচন করা যায়নি এবারও সেরকম আশঙ্কা আছে। ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোট কেন্দ্র হলে হবে নাকি হলের বাইরে হবে সেটা নিয়ে একটা বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়ন বলে, ‘আমরা স্পেসিফিকেলি বলতে চাই, এখানে হল ভার্সেস হলের বাইরের শিক্ষার্থীদের বিরোধের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হলের বাইরের চেয়ে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা বেশী নির্যাতনের শিকার। তার স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক বেশী আশঙ্কা রয়েছে। আমরা মনে করি, হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের সুরক্ষায় সর্বজনের মতামতকে ধারণ করার জন্য ডাকসুর ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে করা প্রয়োজন।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সুমন সেনগুপ্ত, তুহিন কান্তি দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক অনীক রায়, দপ্তর সম্পাদক অপূর্ব রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..