ডাকসু নিয়ে সবার কথাই শুনতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
প্রায় তিন দশকের মাথায় সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি নিসেন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এর জন্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই ধন্যবাদ পেতে পারেন। কারণ, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর তরফে দীর্ঘদিন থেকেই এ দাবি করে আসছিলেন। গত তিন দশকে এই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আইন-আদালত থেকে শুরু করে কম জল ঘোলা হয়নি। শুধু ডাকসু কেন, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাটা একাডেমিক কার্যক্রমেরই অংশ হওয়া উচিত। কিন্তু সেটি তো হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না- সে নিয়ে বড় বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। একজন শিক্ষার্থী তার গোটা ছাত্রজীবনে কখনোই কোনো প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে না। অথচ এটা তার অধিকার। এই অধিকারকে নানা অজুহাতে দমিয়ে রাখা হয়েছে। এ কথাও অবশ্য বলতে হবে, ছাত্রদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখার ক্ষেত্রে সবসময়ই ইন্ধন জুগিয়েছে সেই অংশটি, যেটি আসলে গোটা সমাজকেই একটা বড় ধরনের বিরাজনীতিকরণের দিকে নিয়ে যায়। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটা চাপের মুখে ডাকসু নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ছাত্রসংগঠন সঙ্গে কর্তৃপক্ষ দুই দফায় আলোচনাও করেছে। কিছু প্রস্তাবও তারা এরই মধ্যে দিয়েছে। ডাকসু নির্বাচন নানাভাবে আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনের একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ঢাবির ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়াও ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু, এর মধ্যে কিছু সতর্কতাও অবলম্বন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন সত্যিকার অর্থেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ছাত্রসংগঠনগুলো যে প্রস্তাব দিয়েছে সে ব্যাপারে নজর দেয়। ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আলোচনা যেন শুধু লোকদেখানো না হয়। তাদের প্রস্তাবগুলো যে প্রকৃতপক্ষেই মূল্যায়ন করা হয়। তা না হলে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেইে যাবে। যেমন, একটি বিষয় এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনই এই দাবিটি তুলেছে। সেটি হচ্ছে, হলভিত্তিক ভোটকেন্দ্র না করে যেন বাইরে কোনো ভবনে ভোটগ্রহণ করা হয়। তারা চায়, হলভিত্তিক ভোটকেন্দ্রগুলো কলাভবন, কার্জন হলের মতো একাডেমিক ভবনগুলোতে স্থানান্তর করা হোক। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে। কনে ছাত্রসংগঠনগুলো এটা বলছে? বলছে এই কারণে যে, এসব ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের আধিপত্য থাকায় নির্বাচন-প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে বলে ভোটকেন্দ্র কাছের একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। এই সরকারের আমলে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর অভিজ্ঞতা আমলে নিলে ছাত্রসংগঠনগুলোর আশঙ্কা অমূলক নয়। ফলে ডাকসু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি যতেœর সঙ্গে আমলে নিতে হবে। সব শেষে, আমরা বলতে চাই, শুধু ডাকসু নির্বাচন নয়, সারা দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোতে অবিলম্বে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্র সংসদ ছাড়া পরিপূর্ণ হয় না। এটাই একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষা মতো তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। সেই সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করাটাই হচ্ছে অগণতান্ত্রিক। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হোক।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..