আত্রাইয়ে আলুর বাম্পার ফলন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নওগাঁ সংবাদদাতা : উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার প্রতিটি আলু ক্ষেতই ভরে গেছে বালাইমুক্ত সবুজ গাছে। এছাড়া আত্রাইয়ে এবার আলুর আবাদও হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৮০০ হেক্টর হলেও আবাদ তিন হাজার হেক্টর ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষকরা জানান, বন্যা না হওয়ায় আমন ধান কাটার পর পরই এবার তারা আগাম জাতের আলু আবাদ শুরু করেন। তাদের সরকারিভাবে যথাসময়ে সার ও বীজের মতো কৃষি উপকরণ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। ভালো ফলনের আশায় বর্তমানে তারা ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতায় পাশে রয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রথম থেকেই আলুচাষিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ছিল প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতাও। ফলে রোগবালাই ছাড়াই ক্ষেতে গাছ বেড়ে উঠেছে। এবার উপজেলায় সব থেকে বেশি আলু চাষ হয়েছে শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলতি রবি মৌসুমে কোনো দুর্যোগ না থাকায় আলু চাষের পরিবেশ বেশ অনুকূলে। ফলে উপজেলায় শুধু আলুই নয়, একই সঙ্গে সরিষা, গম ও ভুট্টারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা যদি যথাসময়ে আলু ঘরে তুলতে পারেন এবং ভালো দাম পান, তাহলে তারা বন্যার কারণে রোপা আমনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন। একই সঙ্গে ইরি ও বোরো আবাদেও আগ্রহ বাড়বে। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। চাষ ভালো হওয়ায় ফলনও বাম্পার হবে বলে মনে করছেন তিনি। বজ্রপুর গ্রামের কৃষক মেহেদি হাসান রুবেল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি আলু চাষ করেছেন সাড়ে আট বিঘা জমিতে। তিনি এবার লালপাকরী জাতের আলু আবাদ করেছেন। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাই না থাকায় আলুর বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন এ কৃষক। উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফি উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শুরুতেই আলুর ক্ষেতে নানা ধরনের পোকামাকড়ের আনাগোনা দেখা দেয়। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতা দেয়া হয়। এতে বর্তমানে আলুক্ষেত প্রায় শতভাগ রোগবালাই থেকে মুক্ত। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, এবার আত্রাইয়ে বিগত বছরের তুলনায় আলুর আবাদ বেশি হয়েছে। এমনকি লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার উপজেলায় আলুর ফলন বাম্পার হবে বলে আশা করছি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..