দাম বেশি হলেও এ হাটেই গুড় কিনতে আসেন ক্রেতারা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে জমে উঠেছে দেশের বৃহৎ খেজুর গুড়ের হাট। গুড় কিনতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন বেপারীরা। সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার বসে এ হাট। খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা রস দিয়ে তৈরি ঝোলা গুড় ও নলেন পাটালি বেচাকেনার জন্য এই হাটের ঐতিহ্য কয়েক শ’ বছরের। জেলার সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সরোজগঞ্জে চুয়াডাঙ্গা-ঢাকা মহাসড়ক ঘেঁষে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ হাটের অবস্থান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুই কোটি টাকার গুড় কেনাবেচা হয়। মাটির হাঁড়ির বা ভাঁড়ের আকার ও ওজন ভেদে দাম ওঠানামা করে। এক ভাঁড় গুড় ৭০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। স্বাদে ও গন্ধে এখানকার গুড় অতুলনীয়। অন্যান্য বারের তুলনায় এখানকার খেজুর গুড়ের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বাড়ছে। পুরো এলাকাজুড়ে সাজানো খেজুর গুড় ভর্তি মাটির ভাঁড় ও ছোট ছোট ধামা-কাঠায় নলেন পাটালি। ক্রেতা-বিক্রেতারা তা দাঁড়িয়ে দেখছেন। দরদাম ঠিক হলে ওজন করে ভর্তি করা হচ্ছে ট্রাকে। আবার কেউ কেউ নিজের বাড়ি বা আত্মীয়ের বাড়ি পাঠানোর জন্য চাহিদা অনুযায়ী কিনছেন খেজুড়ের গুড়। হাটের প্রবেশপথের দুধারে বসে কৃষকেরা ধামা-কাঠায় করে তাদের বাড়িতে তৈরি পাটালি বিক্রি করছেন। পাটালির দোকান পার হয়ে ভেতরে যত যাওয়া যায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ততই চোখে পড়ে সারি সারি সাজানো গুড়ের ভাঁড়। সেইসঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা ও শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ। হাটের একাধিক স্থানে দাঁড়িপাল্লায় গুড় মেপে হাটে ভেড়ানো ট্রাকগুলোতে গুড়ের ভাঁড় তুলে সাজানো হয়। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমে সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেজুর গুড়ের বেচাকেনা হয় এ হাটে। স্বাদে ও গন্ধে এখানকার গুড় অতুলনীয়। মৌসুমের প্রায় পুরো সময়জুড়েই হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমজমাট থাকে এই হাট। স্থানীয় পাইকার, মহাজন এবং বিভিন্ন মোকাম থেকে আসা ব্যাপারীরা এমনটাই দাবি করেন। বাজার কমিটির সভাপতি এম আবদুল্লাহ শেখ জানান, এ হাট থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় গুড়। প্রতি হাটের দিন গড়ে ২৫০ টন খেজুর গুড় বিক্রি হয়। যার বিক্রয় মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। স্থানীয় পাইকাররা জানান, আগের হাটের তুলনায় গুড়ের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ১২ থেকে ১৪ কেজি ওজনের এক জোড়া গুড়ের ভাঁড় এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরোজগঞ্জ হাটে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ গুড়ই এলাকার কৃষকেরা বাড়িতে যতেœর সঙ্গে তৈরি করেন। এতে চিনি বা কোনও রাসায়নিক নেই। কিছুটা খয়েরি রঙের হলেও এসব গুড় পুরোটাই খাঁটি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাপারীরা জানান, দেশের অন্যান্য হাটে এখানকার চেয়ে কম দামে গুড় পাওয়া যায়। তবে, সেসব গুড়ে চিনি মেশানো থাকে বলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কেউ তা কেনেন না। বেশি দাম জেনেও ব্যাপারীরা ভালো গুড় কিনতে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জেই ছুটে আসেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..