সম্পূরক সেচের কারণে লোকসান বেড়েছে কৃষকের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
রংপুর সংবাদদাতা : রংপুর অঞ্চলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টন বেশি আমন (চাল হিসেবে) উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কৃষকের হতাশা আরো বেড়েছে। একদিকে খরার কারণে সম্পূরক সেচে বেড়েছে উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ধানের দাম গত বছরের তুলনায় দু-একশ টাকা কমে গেছে। সরকারিভাবে চাল কেনা হলেও বরাবরের মতো সেটির সুফল সরাসরি পাচ্ছেন না কৃষকরা। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অঞ্চলে এবার ৬ লাখ ৩ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে আমন চালের উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৪ টন। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ হেক্টর। গত বছর রংপুর অঞ্চলে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৬ হেক্টর জমিতে আমন চালের উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯ টন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৪৫ হাজার ৮০৫ টন। নীলফামারীর সদর উপজেলার চরাইখোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসুনিয়া বলেন, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমনে সেচ দিতে হয়েছে। এতে প্রতি বিঘায় গত বছরের চেয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কম। সরকার চালের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, এটা আশার কথা। এখন মিলাররা যদি বেশি করে ধান কেনেন তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন। ধানে লাভ-লোকসানের হিসাব দিতে গিয়ে সদর উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান বকুল বলেন, ৫০ শতক জমিতে ১৯ মণ ফলন পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে (৬০০ টাকা মণ) বিক্রি করলে ১১ হাজার ৪০০ টাকা পাবেন। খরচ বাদ দিলে তার টিকবে মাত্র তিন হাজার ৪০০ টাকা। এ লাভটা টিকেছে কারণ পরিবারের সবাই খেটেখুটে আবাদ করেছি। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বিপণন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি আকারেরটি ৬২০ থেকে ৬৪০ টাকায়। সেখানে গত বছর মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হয়েছে। জেলা বিপণন কর্মকর্তা এসএএম হাসান সরোয়ার বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কিন্তু তার আশঙ্কা, অধিকাংশ মিলার বিশেষ করে অটো রাইস মিল মালিকদের প্রচুর ধান মজুদ থাকে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক এ সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন। এদিকে প্রয়োজনের সময় বৃষ্টির অভাব হলেও এ বছর আমন আবাদ বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এবার হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে (গত বছরের চেয়ে ৬ হাজার ৮৩২ হেক্টর বেশি)। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের আবাদ কমেছে (গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৩২১ হেক্টর হ্রাস)। প্রায় বন্যামুক্ত, সম্পূরক সেচ প্রদান ও রোগবালাই না থাকায় ফলন বেড়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..