বগুড়ায় শিল্প সম্প্রসারণে বাধা বিসিকের স্থান সংকট

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বগুড়া সংবাদদাতা : আশির দশকে বগুড়ায় ধোলাইখাল মডেলে ফাউন্ড্রি ও ধাতু শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। কিন্তু বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট না পেয়ে অনেক উদ্যোক্তাই বাধ্য হয়ে আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করেছেন। এমনকি লাভজনক হওয়ায় আবাদি জমিতে গড়ে উঠেছে কারখানা। দ্রুত বর্ধমান এ শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিসিক শিল্পনগরীকে আরো সম্প্রসারণ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে এ দাবিই তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে নতুন-পুরনো উদ্যোক্তারা। বগুড়ায় পঞ্চাশের দশকে প্রতিষ্ঠিত সব ভারী শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সত্তরের দশকে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটে। এসব শিল্পোদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করতে ১৯৬৪ সালে শহরের ফুলবাড়ী এলাকায় সাড়ে ১৪ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। কিন্তু দেশ স্বাধীনতার পরপরই প্লট শেষ হয়ে যায়। উদ্যোক্তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে আরো ১৮ দশমিক ৬৭ একর সম্প্রসারণ করা হয়। সেটির বরাদ্দও শেষ হয় ১৯৯০ সালের মধ্যেই। এভাবে দুই দফায় নির্মিত মোট ২৩৩টি প্লটে ৮৫টি শিল্প ইউনিট গড়ে উঠেছে। বিসিকে জায়গা না পেলেও পরিশ্রমী ও উদ্যমী মানুষরা থেমে থাকেনি। ব্যক্তিগতভাবে জমি কিনে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন কারখানা। কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতে দেশের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত এখন বগুড়া। এর পাশাপাশি বিস্কুট, প্লাস্টিক, কীটনাশক, টিউবওয়েল, ওষুধ তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়া বিসিকের বাইরে গড়ে উঠেছে আড়াই শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সেখানে কৃষি যন্ত্রাংশের পাশাপাশি, ব্যাগ, কাগজ, ফিড, কাগজ মিল, টাইলস কারখানা, কাগজ রিসাইক্লিং, ফাউন্ড্রিসহ (ঢালাই) কারখানা রয়েছে। শিল্প মালিকরা বলছেন, বিসিকে যথেষ্ট জায়গা পেলে বগুড়ায় শিল্প-কারখানা আরো কয়েক গুণ বেড়ে যেত। এদিকে আবাসিক ও চাষযোগ্য জমি এলাকায় শিল্প ইউনিট স্থাপন নিরুৎসাহিত করতে বগুড়া সদরের চারমাথা ছয়পুকুরিয়া এলাকায় ভারী শিল্পের জন্য ১৯৮০ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বিসিকের পক্ষ থেকে ১৯৯৮ সালে ‘দ্বিতীয় শিল্পনগরী’ গড়ে তোলার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিবেদনও দেয়। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনে সেটি ফাইলবন্দি হয়ে আছে। বিসিকের জায়গা সংকট দূর করতে ২০১৬ সালের দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের সাবগ্রাম এলাকায় জমি পরিদর্শন করে একটি প্রস্তাব ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেটিরও কোনো অগ্রগতি নেই। বগুড়া বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিসিকে মোট কারখানা রয়েছে ৯৩টি। জায়গা সংকটের কারণে নতুন করে কারখানা বাড়ানো যাচ্ছে না। বগুড়া ফোরাম অব এগ্রো মেশিনারিজ ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রসেসিং জোনের সভাপতি আযম টিকুল জানান, বগুড়ার ফাউন্ড্রি শিল্পে এখন সব ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। এ উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিকে স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..