একাদশ সংসদ নির্বাচন-২০১৮

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মন্তব্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

আনু মুহাম্মদ : রাষ্ট্রের সব শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দমন করে, হামলা মামলার পর ভোটকেন্দ্র দখল করে এরকম একতরফা নির্বাচন সরকারের শক্তি প্রমাণ করে না। বরং এটাই প্রতিষ্ঠিত হয় যে, নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে, জনগণের কাছে নিজের পরীক্ষা দিতে সরকারি দল একেবারেই রাজি নয়। এরকম বড় একটি দল, যার উল্লেখযোগ্য জনসমর্থনও আছে তাদের এই করুণ দশা হলো কেন সেটাই এক বড় প্রশ্ন। ২০১৪-র পর এবারের নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের জন্য তাই আরও বড় কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকল। জাকির তালুকদার : লিখছি বিকেল ৪.১৫ মিনিটে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। শেষ হয়ে গেছে ভোটগ্রহণ। আর দুই-তিন ঘণ্টা পরে আসতে শুরু করবে নৌকা মার্কার ভূমিধস বিজয়ের খবর। কেমন করে সেই বিপুল বিজয় অর্জিত হলো, তা আমার আলোচনার দরকার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, আওয়ামী লীগের জায়গাতে আজ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আচরণ এবং ফলাফল যে একই হতো, সে বিষয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে বিজয়ী দল হতো বিএনপি, আর হায় হায় করত আওয়ামী লীগ। এখন আমাদের চিন্তার কেন্দ্রে আছে ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎকে আমরা দেখতে চেষ্টা করব অতীতের আলোকে। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য ছিল না। বিরোধী দল নির্বাচন করতে আসেনি। অতএব আওয়ামী লীগ তো জিতে যাবেই। নীতিগত দিকের কথা সামনে না এনে আইনগতভাবে তাকে অবৈধ বলা যাবে না। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে আমি লিখিতভাবেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম যে আওয়ামী লীগ হয়তো দানব হয়ে উঠবে। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, সেই আশঙ্কা সত্য ছিল। গত পাঁচ বছরের ইতিহাস একদিকে যেমন অবকাঠামোগত উন্নয়নের, অন্যদিকে তেমনই দুঃশাসনের, দুর্বৃত্তায়নের, দুর্নীতির, কালো আইন প্রবর্তনের, মানুষের ন্যায্য দাবি-দাওয়াগুলোকে শক্তি দিয়ে দমনের ইতিহাস। বিগত সংসদের অন্তত ১০০ জন সাংসদ নিজ নিজ এলাকায় এত অন্যায়-অত্যাচার করেছেন যে তারা ন্যূনতম স্বাভাবিক ভোট হলে নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হতেন। তবে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যাবে যে তারা সবাই এবার জিতে এসেছেন। কী প্রক্রিয়ায় তাদের জেতানো হয়েছে তা কোনো গায়েবি বিষয় নয়। সকলেরই জানা। ২০১৪ সালে আমার সেই আশঙ্কার কথাটি নবায়ন করে বলছিÍ আওয়ামী লীগ এবার আরো বেশি দানবীয় হয়ে উঠতে পারে। ২. মিডিয়া, পেশাদার টকশোবাজ, সেমিনারবাজ, ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী, ভাড়াটে সাংবাদিকরা খুব সাফল্যের সাথে সরকারের গত পাঁচ বছরের দুঃশাসনকে আড়াল করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে এককভাবে আওয়ামী লীগকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। অধিকাংশ মুদ্রিত পত্রিকার সাংবাদিকরাও একই কাজ করেছেন। বিএনপি সেই সুযোগ তাদের করে দিয়েছে জামাতের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে। আমরা যারা আওয়ামী লীগের এমপি-নেতাদের দুর্বৃত্তায়নের কথা তুলে ধরতে চেয়েছি, আওয়ামী লীগ হাই কমান্ডের কাছে ‘গণশত্রু’দের মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, আমাদেরকে ব্যাপক গালিগালাজ শুনতে হয়েছে। আমরা এটাও মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি যে আওয়ামী লীগের বাইরেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আছে, দুর্বল ক্ষীণ হলেও আছে। তাছাড়া কোনো রাজনীতির সাথে এখন সংশ্লিষ্ট নন, এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন যারা স্বাধীনতার পক্ষে একাত্তরেও জানবাজি করে লড়েছেন, এখনো লড়বেন। কিন্তু ভাড়াটেরা ‘কেবলমাত্র নৌকা সমর্থকরাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি’ বলে নিরন্তর চিৎকার করে গেছে। তারা যুক্তি-বুদ্ধি-ইতিহাসের ধার ধারেনি। একতরফা প্রচারের সুযোগ পেয়েছে মিডিয়াতে। তার একটা ভালো দিক অবশ্য আছে। এদের মধ্যে যে যুক্তি-বুদ্ধি-বিবেকের ছিটেফোঁটাও নেই, তা নতুনভাবে প্রমাণিত হয়েছে মানুষের সামনে। ৩. প্রথমে আক্রান্ত হবে কারা? আক্রান্ত হবে আওয়ামী লীগের ভেতরের সেইসব বিবেকবান নেতাকর্মীরা যারা বিগত সময়ে নিজ নিজ এলাকায় সাংসদদের অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে চেষ্টা করেছেন, দলের হাই কমান্ডের কাছে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে নিজেরা এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তাদের কেউ কেউ আক্রান্ত হবেন শারীরিকভাবে, কারো কারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হবে, কাউকে হয়তোবা আঞ্চলিক কমিটির দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। ৪. পরবর্তী আক্রমণ আসবে আইসিটি আইনের ৩২ ধারার মাধ্যমে। ভাড়াটে সাংবাদিকরা নিজেরাও জানেন যে এই ধারাটি তাদের জন্যেও বিপজ্জনক। তবে তারা এই ভেবে নিজেদের সান্ত¡না দিতে পারছেন যে, কোনোকিছুর বিনিময়ে হোক বা না হোক, সরকারকে যে সার্ভিস তারা দিয়ে এসেছেন, তার কথা ভেবে সরকার তাদেরকে কোনো হয়রানি করবে না। আরেকটি কারণেও অবশ্য তারা নিরাপদই থাকবেন। তা হচ্ছে, সরকারের ভালো-খারাপ সব কাজের প্রশংসাই যেহেতু তারা করেন এবং করবেন, সেই কারণে তাদের ওপর ৩২ ধারার কোপ পড়ার কোনো আশংকা নেই। আমাদের লেখক-কবিদের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। যে কেউ নিজেকে লেখক বা কবি হিসাবে দাবি করলে কারো আপত্তি করার কোনো সুযোগ নাই। সেই কারণে বইমেলাতে সাড়ে চার হাজার বই বের হয় স্বঘোষিত লেখকদের। এদের অধিকাংশই যেহেতু গভীরভাবে কোনো কিছু দেখার বা ভাবার সক্ষমতা অর্জন করেন না, তাই তারা যা লেখেন, সেগুলো তাদের ভাই-বেরাদর, অফিসের অধঃস্তন কর্মচারী, কলিগ ছাড়া আর কেউ পড়তে বাধ্য নন। সাহিত্যের পুলিশরাও এইসব লেখক-কবিদের লেখা ঘেঁটে সময় নষ্ট করতে রাজি না। কাজেই তারা নিরাপদেই থাকবেন। ৩২ ধারার খড়্গ পড়বে সেই গুটিকয় লেখক-কবিদের ওপর যারা একইসাথে সমাজ-মানুষ-দেশ এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতাই তাদেরকে সত্য বলিয়ে নেয়। স্তুতি-রচনাকে ঘৃণা করতে শেখায়। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে বাধ্য করে। এই ধরনের লেখক-কবিদের জন্য সামনে সম্ভবত আরো অনেক বেশি পরীক্ষা দেওয়ার সময় আসছে। ৫. বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যজোট নিয়ে দুই-একটা কথা বলা যাক। একথা সত্য যে তাদের কর্মীদের নেতাদের ভোটের মাঠে নামা খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। সংঘর্ষ বাঁধলে তারাও যে কম যায় না, সেটা দেখা গেছে দেশের কয়েকটি জায়গাতে। আজ ১২ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কর্মীরাই বেশি। একটি কারণ হতে পারে, আওয়ামী লীগ ভেবেছিল তাদের হয়ে বরাবরের মতো লড়বে পুলিশ। তাই তারা নিজেদের অস্ত্র-শস্ত্র বের করেনি। আরেকটি কারণ হতে পারে যে, বিএনপি-শিবিরের লোকজন হত্যার টার্গেট নিয়ে বেরিয়েছিল। আর হত্যার ইনটেনশন থাকলে তাকে রক্ষা করা মুশকিল। তো বিএনপি-কে ভোটের মাঠে পুলিশ এবং আওয়ামী ক্যাডাররা গত একমাস ধরে দাঁড়াতে দেয়নি এটাও যেমন সত্য, তেমনই এটাও সত্য যে বিএনপি নিজেরাও যেন খুব আলগাভাবে গ্রহণ করেছিল এই ভোটযুদ্ধকে। উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার নয়। সম্ভবত তারা দেশে-বিদেশে এই বার্তাটিই পৌঁছে দিতে চেয়েছে যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো যোগ্য হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ। উদ্দেশ্য যদি এটাই হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে যে তাদের উদ্দেশ্য অনেকটাই সফল হয়েছে। ০৬. ভোট কতটি পাবে তা মুখ্য নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের স্বাধীনভাবে ঘুরে দাঁড়ানো। বারবার রক্তাক্ত হয়েছে তাদের নেতা-কর্মী-প্রার্থী। কিন্তু এক ইঞ্চিও টলানো যায়নি কাউকে। এই ঘুরে দাঁড়ানো যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশাবাদী হতে ইচ্ছা করে। সংযোজন: বাম বলয় নিজেদের শক্তিকে সংহত করতে না পারলে ধর্মকেন্দ্রিক শক্তিগুলোর উত্থান ঘটবে নিঃসন্দেহে। মানুষ অন্যায়-অবিচার থেকে রক্ষা পেতে শেষ পর্যন্ত ধর্মের কাছেই আশ্রয় খুঁজতে যাবে। তাদের দুর্বলতাকে নিজেদের শক্তিতে রূপান্তরিত করবে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। সেগুলোকে ঠেকানোর কোনো স্ট্রাটেজি আওয়ামী লীগের নাই। বরং বিগত বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী বার বার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি দেশ চালাতে চান মদিনা সনদের ভিত্তিতে। প্রগতিশীলদের উপদেশ দিয়েছেন প্রচলিত ধর্মীয় ধারণার সাথে তর্ক না করতে। আর বিএনপি তো এসব নিয়ে ভাবার প্রয়োজন বোধ করে বলে মনে হয় না। বাকী বিল্লাহ : তারা লজ্জিত হবেন, সে আশা করিনি। তবে ভেবেছিলাম ততটা আনন্দ হয়ত তারা পাবেন না। কিন্তু আমি ভুল। পৈশাচিক আনন্দ পেয়েছেন তারা। মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে জিতে আসার চেয়ে কারসাজি করে মানুষ ঠকানোতে বহুগুণ বেশি তৃপ্তি হয়েছে তাদের। আমি লজ্জিত আমার সেসব বন্ধুদের জন্য, যাদের চোখেমুখেও ওই একই জান্তব আনন্দ দেখতে পাচ্ছি। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বা পক্ষপাত নিয়ে আমার কোনো আপত্তি বা অসন্তুষ্টি কোনোদিনই ছিল না। কিন্তু যাদের সাথে বছরের পর বছর একসাথে মিশেছি, রাজনীতি-শিল্প-সাহিত্য নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ করেছি, একসাথে মিলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর স্বপ্ন দেখেছি; তারা মিথ্যাকে সত্য বানাতে কাঁছা খুলে নেমেছেন সামান্য খুঁদ-কুড়োর আশায় æএই দৃশ্য যন্ত্রণা দিচ্ছে। তারা স্বগর্বে নৌকায় ভোট দিয়ে এসেও সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলার স্পর্ধা রাখেন” এটুকু প্রত্যাশা তাদের কাছে ছিল। কিন্তু এই সময়, এর বাতাস-মাটি-জলের মধ্যে মিথ্যার দূষণ এমনভাবে মিশে গেছে যে ওগুলোকে মিথ্যা বলে আর আলাদা করা যায় না, তারা এর পুরোটুকুকেই রাজনীতি বলে ভাবেন। ভালই হল। এইবার একটা সম্পূর্ণ নতুন শুরুর পটভূমি প্রস্তুত। মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য রাজনীতি নির্মাণের। পারভেজ আলম : আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী এই কারণে যে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পক্ষে নির্লজ্জভাবে প্রচারণা চালানো কিছু ব্যক্তি আমার পুরাতন সহযোদ্ধা। যদিও বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো রাজনীতি করার রেকর্ড আমার নাই, যদিও শাহবাগ আন্দোলনের সময় আমি সেখানে আওয়ামীপন্থিদের ক্ষমতায়ন ও দখলদারীর বিরুদ্ধে সক্রিয় সংগ্রাম করেছি, যদিও কখনো আমি আওয়ামী লীগের বিরোধী পক্ষের ওপর চলা জুলুমের পক্ষে সমর্থনতো দেই-ই নাই উল্টো সবসময় এসব জুলুমের বিরুদ্ধে লিখেছি; তারপরও আমি দুঃখিত, লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। যদি এইসব ফ্যাসিস্টের ক্ষমতায়নে আমি অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও কোনো ভূমিকা রেখে থাকি, তবে আমার অন্যান্য রাজনৈতিক অবস্থান ও তৎপরতাগুলো মাথায় রেখে আমাকে আপনারা নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে পরে আমি আমার কিছু পুরাতন বন্ধু ও সহযোদ্ধার আসল রূপ চিনতে পেরেছিলাম। এরপরও অনেকেই ছিলেন যাদেরকে আওয়ামী দালাল ভাবি নাই। কীভাবে জানি তাদেরও অনেকে ২০১৮তে এসে আওয়ামী দালাল হয়ে গেছেন। হয়তো তারাও বিক্রি হয়ে গেছেন সময়ের প্রয়োজনে, অথবা তারা সবসময়ই এমন ছিলেন কিন্তু আমি তাদের চিনতে পারি নাই। এখন যে চিনতে পেরেছি, সেটাও একদিক থেকে ভালো, না চেনার চাইতে। কারণ জীবনে প্রথম আমি ইসা নবীর বাক্য নকল করে রাজনীতি করতে আগ্রহী, গতকালের নির্বাচনের পর থেকে- হয় তুমি জনগণের পক্ষে অথবা ফ্যাসিবাদের পক্ষে। ফ্যাসিবাদের পক্ষের কাউকে আর বন্ধু হিসাবে চাই না। আসমানী আশা: জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কলঙ্ক দিন আজ। গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, জীবনের প্রথম ভোট। সেই সাথে গর্ববোধ করছি কাস্তে মার্কার একজন পোলিং এজেন্ট হিসেবে থাকতে পেরে। কলঙ্কময় দিন এই কারণে যে, আমার সামনেই আওয়ামী লীগ প্রশাসনের সহায়তায় নৌকায় ভোট জালিয়াতি করে নিলো, অথচ আমি নিরুপায় হয়ে বসে ছিলাম। প্রতিবাদ করিনি এমনটা নয়। বারবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, হাতেনাতে ধরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা ছিল কাঠের পুতুলের মতো। তবে কর্তব্যরত অফিসার ওনার ডিউটি পালন করেছেন। তিনি ফোন দিয়ে বিজিবি নিয়ে এসে ভোটকেন্দ্র মোটামুটি ভোটার শূন্য করে দিয়ে জালিয়াতি করার বিশেষ সুযোগ করে দিয়েছেন। বারবার প্রতিবাদ করেছি, আমার বাবা, মা আমার সাথে প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করে চলে আসি। বাসায় এসে টিভি খুলে জানতে পারি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়েছে। এরপর আর কী, চ্যানেল বদলিয়ে জলসা মুভিজে সিনেমা দেখি। সংযুক্তি :- এক মহিলা পোলিং অফিসার তাদের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং ব্যালট পেপার দিতে অস্বীকার করায় তার গায়ে হাত তোলা হয় এবং তাকে ইজ্জতহানির হুমকি দেয়া হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..