তারা তারাই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিশাল জয় পেয়েছে। যারা বিরোধী পক্ষে বসতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেই জাতীয় পার্টিও মহাজোটের অংশ। যদিও আনপ্রেডিক্টেবল সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের পক্ষে মুর্হূতের মধ্যে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলা অসম্ভব কিছু না। তাই বলতে হবে, মহাজোটের বাইরে বিরোধী দল বলতে বাংলার মাটিতে কিছু নেই। নির্বাচনে সহিংসতা বাংলাদেশের সংস্কৃতিরই অংশ। কোনো দল যখন ক্ষমতায় যায়, তখন তাকে ক্ষমতাসীন দল বলা হয়। এই ক্ষমতাসীন দল বিজয়ের আনন্দে বিরোধী পক্ষের ওপর হামলা চালায়। আবার হেরে যাওয়া দলও সহিংসতা করতে পিছপা হয় না। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের এমন সহিংসতার ঘটনা অনেক আছে। কিন্তু এখন তো বিরোধী দল নাই। নাই মানে, সরকারি হিসাবে বা ভোটের হিসাবে যা আছে তা একেবারেই নগণ্য। তাহলেও সহিংসতা হচ্ছে কেন? কথা হচ্ছে, জায়গা খালি থাকে না। কেউ না কেউ খালি জায়গা পূরণ করে নেয়। একটু ফরিদপুরের দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই জেলার ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন। সেখানে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। তার আরেক ভাই আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। নিক্সন চৌধুরী হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে। আওয়ামী লীগ পরিবারের এই দুই সদস্যই এখন একে অপরের বিরোধী পক্ষের স্থান নিয়ে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের পর থেকেই তারা ‘নির্বাচনোত্তর সহিংসতার সংস্কৃতি’ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের পর থেকে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পযন্ত আটটি মামলা হয়েছে। শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ফলে এখানকার অবস্থা দেখে সবাই বলাবলি করছে, জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট; অপরদিকে এখানেও নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দুইপক্ষই রয়েছে। তারা তারাই, আমরা আর মামুরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..