নোয়াখালীতে ‘ধানের শীষে ভোট দেয়ায়’ গণধর্ষণ

নিন্দা-প্রতিবাদ, দোষীদের শাস্তি দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গত ৩১ ডিসেম্বর চার সন্তানের এক জননীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১০/১২ কর্মী ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ওই নারী এখন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নির্বাচনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে এ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ ৩৫ বছরের ওই নারীর। তার অভিযোগ, চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমীনের নেতৃত্বেই এই পাশবিক কাজ সংগঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করেছিলো, কিন্তু আমি তাদের কথা না শুনে ধানের শীষে ভোট দিই।’ পুলিশ প্রথমে ধর্ষণের মামলায় সুবর্ণ চর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীনের নাম মামলার এজাহারে না লেখলেও পরে দেশব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন ও দলের দাবির মুখে তাকেসহ দুজনকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, রোববার গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ জন লোক হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে বেড়া কেটে তার বাড়িতে ঢুকে। তারপর তারা তার সিএনজি-চালিত অটোরিকশার ড্রাইভার স্বামী ও চার সন্তানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ৪০ হাজার টাকা, সোনার গয়না ও অন্যান্য দামী জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারীটির স্বামী-সন্তানের কান্নাকাটি শুনে পরে প্রতিবেশীরা এসে তাদের উদ্ধার করেন। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, তারা ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন। ভুক্তভোগীর শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সুবর্ণ চরে চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে, দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ভোটকে কেন্দ্র করে যেন কোন সহিংসতা না হয় তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল রাজনৈতিক দল ও সচেতন ব্যক্তির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রকৃত আসামিদের এজহারভুক্ত করে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি দাবি: ৪ জানুয়ারি দুপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নোয়াখালীর সুবর্ণ চরে ধর্ষিত নারীকে দেখতে যান ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– লক্ষ্মী চক্রবর্তী, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, আব্দুস সাত্তার, আকবর খান, মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন। পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সব আসামীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আবার প্রকৃত আসামীদেরকে এজহারভুক্তও করা হচ্ছে না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত আসামীদেরকে এজহারভুক্ত করে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তির দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সুবর্ণচরে এই ধর্ষণের ঘটনা নির্বাচনের প্রতিহিংসার কারণেই ঘটেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে সরকার দলীয় সমর্থকরা যুক্ত তা দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার। নিগৃহীত নারী ও তার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তার সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ জনগণকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযুক্তরা সরকার দলীয় সমর্থক হওয়ায় আইনের কোনো মারপ্যাঁচে যেন পার না পায় সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..