৩০ ডিসেম্বর ভোট নয়, ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের’ উৎসব হয়েছে

সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

গত ১ জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবসে মতিউল-কাদের চত্বরে সিপিবি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি
একতা প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট নয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উৎসব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। গত ১ জানুয়ারি সকালে মতিউল-কাদের চত্বরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে আলোচনা পর্বে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৭৩ সালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভিয়েতনাম সংহতি মিছিলে গুলি বর্ষণে নিহত শহীদ মতিউল ইসলাম এবং শহীদ মির্জা কাদের এর স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জানুয়ারি সকালে মতিউল-কাদের চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সংগঠন। এবার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবসের ৪৫তম বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহ আলম ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর সঞ্চালনায় জিএম জিলানী শুভ সভাপতিত্ব করেন। শাহ আলম বলেন বলেন, জনগণের অধিকার হরণ করে ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে ভোট উৎসব নয় ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের’ উৎসব ও ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের নির্লজ্জ কারসাজি পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই সাম্রাজ্যবাদী দোসরদের বিরোধী লড়াইয়ে প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ বলেন, সাম্রাজ্যবাদী দানবদের দেশীয় প্রতিনিধিরা আজ গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করেছ। ছাত্র ইউনিয়ন সাম্রাজ্যবাদের এই প্রতিনিধিদের সর্বাত্মক নির্মূল করে, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মতিউল-কাদেরের স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, ১৯৫৫ সাল থেকেই ভিয়েতনাম এর মুক্তিকামী মানুষ হো চি মিন এর নেতৃত্বে সশন্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হলে সেখানকার সাধারণ মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন শুরু করে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন বাহিনী। তারা নাপাম বোমাসহ নানান পরীক্ষামূলক রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করলে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়। এর প্রতিবাদে সারাবিশ্বে এমনকি খোদ আমেরিকা ও ইউরোপেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। যার ফলস্বরূপ ১ জানুয়ারি ১৯৭৩ এ ভিয়েতনাম সংহতি মিছিল আহ্বান করা হয়। মতিঝিলস্থ আমেরিকান দূতাবাস এ স্মারকলিপি প্রদানের জন্য মিছিলটি প্রেসক্লাব এর বিপরীত দিকে আমেরিকান ইনফরমেশন সেন্টারের সামনে পৌঁছলে কোন রকম উস্কানি ছাড়াই পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। নিহত হয় মতিউল ও কাদের। পরেরদিন এ ঘটনার বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। ছাত্র সমাজের দুর্বার আন্দোলনের ফলে ভিয়েতনামের বিপ্লবী সরকারকে প্রথম অ-কমিউনিস্ট দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অপসারণ করা হয়। সরিয়ে নেওয়া হয় আমেরিকায় ইনফরমেশন সেন্টার। পরে ভিয়েতনাম সরকার মতিউল ও কাদেরকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..