নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন হয়নি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : ‘হরতাল হয়েছে, হরতাল হয়নি’ শিরোনামে আশির দশকে কমরেড নির্মল সেনের লেখা একটি বহুল আলোচিত উপ-সম্পাদকীয় ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। শিরোনামটি সেসময় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। তারই অনুকরণে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সম্পর্কে যথার্থভাবেই একথা বলা যায় যে দেশে সেদিন ‘নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন হয়নি’। কারো মনে এমন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আইনানুসারে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন যথাবিহিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিল, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে সে অনুসারে সবগুলো পর্যায়ের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং পরিশেষে নির্বাচনে জয়-পরাজয় সম্পর্কে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ফলাফল ঘোষিত হয়েছিল। এসব সত্ত্বেও, ‘নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন হয়নি’– এমন প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে কোন যুক্তিতে? ক্ষমতাসীনদের ঢাক ঢোল পেটানো প্রচারণায় বলা হচ্ছে যে নির্বাচন শুধু যে সুসম্পন্ন হয়েছে তাই না, অন্য সব নির্বাচনের তুলনায় (বিশেষত ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের তুলনায়) এবারের নির্বাচন অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক ও অনেক কম সহিংসতাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাহ্যিকভাবে একথা সত্য বলে মনে হলেও, এ বিষয়টি ভুলে যাওয়া উচিৎ হবে না যে, নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’ ও ‘সহিংসতামুক্ত’ হওয়া এবং তা ‘অর্থবহ’ ও ‘অবাধ-নিরপেক্ষ’ হওয়া এক বিষয় নয়। এক্ষেত্রে প্রথমত বলতে হয় যে, নির্বাচনের বাহ্যিক চিত্রই প্রকৃত সত্যকে সবসময় প্রকাশ করে না। তাছাড়া, এবারের নির্বাচনে প্রকৃত প্রস্তাবে একমাত্র ‘নৌকা’ মার্কার প্রার্থীরা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীকে নির্বাচন কার্যক্রমে অবাধে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। বাইরে থেকে এ বিষয়টি ততোটা টের পাওয়া না গেলেও পুলিশ-র্যা ব-সশস্ত্র দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ভেতরে-ভেতরে চালানো হয়েছিল সহিংস অভিযান। সিপিবি ও বাম জোটের প্রার্থীসহ প্রতিপক্ষের সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বিপজ্জনক ও অসম্ভব করে তোলা হয়েছিল। নির্বাচনকে তাহলে সহিংসতামুক্ত অথবা অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলা যায় কোন বিচারে? একথা বলা নিষ্প্রয়োজন যে, নির্বাচন ‘অর্থপূর্ণ’ হতে হলে তা সাধারণ বিচারে ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ হওয়াটি একটি আবশ্যিক শর্ত। সেক্ষেত্রে সকলের জন্য ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ অর্থাৎ সকলের জন্য সমান সুবিধা ও নিয়ম-কানুন প্রযোজ্য হওয়ার নিশ্চয়তা বিধান অত্যাবশ্যক। কুস্তি প্রতিযোগিতায় একজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া অন্য সকলের হাত পেছনে বেঁধে রাখা হলে, তাকে সমানে-সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে আখ্যায়িত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও, সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কে জয়লাভ করবে সে ফলাফল আগেই নির্ধারিত ও অবধারিত হয়ে থাকে। এবারের নির্বাচনে সুদক্ষ ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে আগেভাগেই ‘নৌকার’ নিশ্চিত বিজয়ের আয়োজন করে রাখা হয়েছিল। ভোটের আগেই ভোট যুদ্ধের ফলাফল স্থির করে রাখা হয়েছিল। নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর আগে থেকেই ক্ষমতাসীনরা প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মী, সরকারের সমালোচক, স্বাধীন চিন্তার মানুষ, অবাধ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে এমন সব সামাজিক সংগঠন ও সংস্থা ইত্যাদি শক্তির বিরুদ্ধে গুম-হত্যা-ক্রসফায়ার-গণগ্রেফতার ইত্যাদিসহ চরম ধরনের দমন-পীড়ন চালিয়ে, এবং নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে, সারাদেশে এক বিভীষিকাময় নিবর্তনমূলক বাতাবরণের পরিস্থিতির (an atmosphere of intimidation) জন্ম দিয়েছিল। অনুগত নেতা-কর্মী-ক্যাডার ছাড়া সব মানুষকে একটি শ্বাসরুদ্ধকর আতঙ্কের জগতে আটকে ফেলেছিল। ভোট আদৌ হবে কিনা? শেষ পর্যন্ত ভোট দেয়া আদৌ সম্ভব হবে কিনা?–এ ধরনের ভীতিপূর্ণ সংশয়ের জন্ম দিয়ে মানুষের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে দমিত করতে ক্ষমতাসীনরা স্বক্ষম হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জন্য মুখ খুলে মনের কথা বলাকে বিপদজনক করে তোলা হয়েছিল। পরিবেশ কার্যত: এমন করে তোলা হয়েছিল যে, শুধু ‘নৌকা মার্কার’ পক্ষে কথা বলা বা প্রচারণা চালানোই নিরাপদ ছিল। অন্য সবার জন্য, তা করে তোলা হয়েছিল বিপদজনক। প্রশাসনের সরাসরি সহায়তা ও এসব দুষ্কর্মে নির্বাচন কমিশনের ‘কৌশলী সায়কে’ কাজে লাগিয়ে কার্যত: (de-fecto) একতরফা নির্বাচনের পরিস্থিতির জন্ম দেয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একতরফা নির্বাচনের ‘লোভনীয়’ সুবিধার পরিস্থিতি পরোক্ষ কায়দায় সৃষ্টি করে নিতে ‘নৌকার’ প্রার্থীরা সব রকম অন্যায় ও অপরাধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে ‘নৌকার’ পক্ষে জয়লাভ করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা গদি ধরে রাখার জন্য ছিল মরিয়া। সে জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল ‘ভুয়া বিজয়ের’ আয়োজন করা। তার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল ‘ভুয়া নির্বাচনের’ ব্যবস্থা করা। সে ধরনের একটি ‘ভুয়া বিজয়’ ‘অর্জনের’ জন্য সবধরনের প্রহসনমূলক পথ ও পন্থা ক্ষমতাসীনরা গ্রহণ করেছিল। ‘ভুয়া বিজয়’ নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রহসন ও কারচুপির আশ্রয় নিয়েছিল এবং তার নিশ্চিদ্র গ্যারান্টির জন্য একাধিক স্তরের ‘নিশ্চয়তা বলয়’ তৈরি করেছিল। যেন একটি কোনোক্রমে ব্যর্থ হলে অপরটি তার অক্ষমতা পূরণ করে ‘ভুয়া বিজয়’ নিশ্চিত করতে স্বক্ষম হয়। তাদের প্রহসনমূলক পদক্ষেপগুলো মাত্রা ও দক্ষতা– এই উভয় দিক থেকে জিয়া ও এরশাদের কুখ্যাত হ্যাঁ-না ভোটের সময়ের ঘটনাবলীকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ক্ষমতাসীনরা যেন তেন উপায়ে জয়ী হওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টায় তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগাতে স্বক্ষম হয়েছিল। তা যেন তারা করতে স্বক্ষম হয় সেজন্য তারা অনেক আগে থেকেই অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ কার্যকর করে রেখেছিল। নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের সেই নীল নকশার ছক বাস্তবায়নে ‘আজ্ঞাবহ’ হুকুম তামিলকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সেনা উপস্থিতি দ্বারা ক্ষমতাসীনদের ‘একতরফা সুবিধার’ পরিস্থিতিতে হেরফের ঘটানোর পরিবর্তে তা সেটিকেই স্থিতি দিয়েছিল। এবারের নির্বাচনে কারচুপির একটি প্রধান পন্থা ছিল ভোট শুরুর আগের রাতেই ‘নৌকায়’ সিল মেরে ভুয়া ব্যালট পেপার তৈরি করে রাখা। রাখ ঢাক না করে অনেকটা খোলামেলাভাবেই এই দুষ্কর্ম করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে রাতেই ব্যালট বাক্সগুলোও এসব ‘ভুয়া ব্যালট পেপার’ দিয়ে ভরে রাখা হয়েছিল। এমনটি যে করা হবে ও করা হচ্ছে, তা বুক ফুলিয়ে প্রচারও করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে ও বাড়ি বাড়ি যেয়ে হুমকিসহ ঘোষণা করে দেয়া হয়েছিল যে ‘সিল নৌকায় দিতে হবে এবং প্রকাশ্যে টেবিলে ব্যালট রেখে তা দিতে হবে। রাজী না থাকলে ভোট দিতে আসবেন না।’ এসবের মধ্য দিয়ে মানুষকে ভোট দিতে আসার জন্য অনাগ্রহী করে তোলা হয়েছিল। ভয়-ভীতি ও অনাগ্রহের কারণে ভোট কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। নামমাত্র ভোটারের উপস্থিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে সাহস করে আসা প্রতিপক্ষের স্বল্পসংখ্যক পোলিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেয়া হয়েছিল। আগ্রহী ভোটারদেরকে ‘বুথ জ্যাম’ করার কৌশল ব্যবহার করে ও সরাসরি ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিতাড়িত করা হয়েছিল। ভোট কেন্দ্রগুলোতে ক্ষমতাসীনদের ভাড়াটিয়া ‘ক্যাডাররা’ অবাধে আসা-যাওয়া করার ‘স্বাধীনতা’ প্রতিষ্ঠা করে সুযোগমতো প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মেরে ‘ভুয়া ভোট’ বাক্সে ঢুকিয়েছিল। এসব ঘটনা শুধু ‘ধানের শীষের’ বিরুদ্ধেই ঘটানো হয়নি। তা আরো বেশি করে প্রয়োগ করা হয়েছিল ‘কাস্তে’ মার্কাসহ বামপন্থি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে। তাদের ক্ষেত্রে আক্রমণ ছিল বরং একটু বেশিই। কারণ তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দ্বন্দ্ব একাধারে ‘গদির’ প্রশ্নে এবং সঙ্গে সঙ্গে ‘নীতি-ব্যবস্থার’ প্রশ্নেও। তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দ্বন্দ্ব হলো ১ শতাংশ লুটেরা বনাম ৯৯ শতাংশ আপামর জনগণের দ্বন্দ্ব। এটি হলো মৌলিক ‘শ্রেণি দ্বন্দ্ব’। কোথাও কোথাও কিছুটা স্বাভাবিক নির্বাচনের ঘটনাও যে একেবারে ছিল না তেমন অবশ্য নয়। তবে সেগুলো বেশিরভাগ ছিল প্রচারণার সুবিধার্থে বিশেষভাবে পরিকল্পিত। আকস্মিকভাবে ‘ভোটারদের’ লম্বা লাইনের জন্ম দিয়ে ভুয়া ‘ভোট উৎসবের’ সাজানো দৃশ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এসব দৃশ্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখিয়ে তাদের অনেককে বিভ্রান্ত করা গেলেও, যে বিশাল ভোটারগোষ্ঠী ভোট দিতে পারেনি, ক্ষমতাসীনদের প্রচারণার দ্বারা তাদেরকে প্রতারিত করা সম্ভব হয়নি। ভোট দিতে না পারা কোটি-কোটি মানুষের মনে অধিকার-বঞ্চিতের ক্ষোভের আগুন এখন দাউ-দাউ করে জ্বলছে। এ আগুন সহসা নির্বাপিত হবে বলে মনে হয় না। নির্বাচনকে ঘিরে যেসব আইন ও নীতি বহির্ভূত কাজকর্ম ক্ষমতাসীনরা করেছিল সেসব তথ্য মানুষের কাছে যেন পৌঁছাতে না পারে সে বিষয়েও আগে থেকেই নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সব ধরনের মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একদিকে ‘বিশেষ সুযোগ-সুবিধার’ উদার বিতরণ ও অন্যদিকে নিবর্তনমূলক শাস্তির ভীতির অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে বিকল্প পথ ব্যবহার করে তথ্য আদান প্রদানের সুযোগ রোধ করার জন্য মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ করে রাখা ও ব্রডব্যান্ড লাইনের গতি শ্লথ করা হয়েছিল। এভাবে অবাধ তথ্য প্রবাহের পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে মানুষকে প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা এবং সরকারের মনগড়া তথ্যের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল। ক্ষমতাসীনরা এবারের নির্বাচনকে অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্য সম্পন্ন একটি নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করতে গলদঘর্ম হয়ে পড়েছে। এমন কথাও তারা বলছে যে এবারের নির্বাচন ছিল সত্তরে ‘নৌকার’ পক্ষে ঐতিহাসিক গণরায়ের জোয়ারের অনুরূপ। সত্তরের নির্বাচনী গণরায়কে এবারের ‘ভুয়া ভোটের’ নির্বাচনের সঙ্গে সমান করে দেখানো দ্বারা যে সত্তরের নির্বাচনী বিজয়কে কলঙ্কিত করা হয়, মনে হয় যে সে কথাটি তারা একবারও ভেবে দেখেন নি। এসব মিথ্যাচারের ফলে সাধারণ মানুষ, যারা সবকিছু নিজেরা স্বচক্ষে ঘটতে দেখেছে, তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীনদের প্রতি ঘৃণা প্রশমিত হওয়ার বদলে তা আরো বেড়েছে। যাদেরকে ‘বিজয়ী’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তারা যে ভোটারদের ভোটে জনপ্রতিনিধির সার্টিফিকেট পায়নি, সেকথা মানুষ ভুলে যাবে কি করে। ‘ভুয়া ভোটের’ ‘ভুয়া নির্বাচনে’ যারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগকেই জনগণ ‘ভুয়া প্রতিনিধি’ বলে বিবেচনা করছে। এবং ভবিষ্যতেও করবে। এ অবস্থায়, জনগণের মতামত ও অনুভূতিকে মূল্য না দিয়ে ক্ষমতাসীনরা যদি গায়ের জোরে চলার পথ গ্রহণ করে তাহলে জনগণের কাছে নবগঠিত সংসদ ‘জনপ্রতিনিধিদের সংসদের’ মর্যাদা পাওয়ার বদলে ‘ভুয়া সংসদ’ বলেই গণ্য হবে। নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের কয়েকজন শীর্ষ নেতা একাধিকবার বক্তৃতা করে বলেছিলেন যে, ‘মেসি-রোনালদোরা পেনাল্টি মিস করতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনার পেনাল্টি কোনোভাবেই মিস হবে না’। গোল লাইনের ১ গজ দূরে থেকে কিক করা, বিপক্ষের গোল পোস্টের ফাঁক ২০ গজ করা এবং সেখানে কোনো গোলরক্ষক যেন না থাকে তার ব্যবস্থা করার ফলে পেনাল্টি শট যে মিস হবে না– সেকথা কে না জানে। এবারের নির্বাচনে তেমনই ঘটেছে। কিন্তু, জোরে শট নেয়া হয় তাহলে পেছনের নেট যে ছিড়ে যেতে পারে এবং কিক নিতে গিয়ে যে উল্টে পরে চিৎপটাং অবস্থা হয়ে উঠতে পারে সে কথা হয়তো ক্ষমতাসীনদের হিসেবে ছিল না। অবস্থা হয়েছে সেরকমই। তাই, জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে নির্বাচনের নামে সংগঠিত এই কলঙ্কজনক ‘তামাশার’ জন্য ক্ষমতাসীনদেরকে সব বিবেকবান মানুষ আজ ছি ছি করছে। ক্ষমতাসীনরা এবারের নির্বাচনে গণমানুষকে যেভাবে চরম অবমাননা করেছে, তার প্রতিকারের পথ জনগণই রচনা করে নিবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। ‘হাত দিয়ে বলো সূর্যের আলো রুধিতে পারে কি কেউ!’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..