রয়টার্সের রিপোর্টে রোহিঙ্গা হত্যার প্রমাণ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম ইন দিন। এই গ্রামে সংগঠিত হওয়া গণহত্যা নিয়ে এক অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো সেনা সহায়তায় বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে, মুসলমানদের হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার প্রমাণ পেয়েছে রয়টার্স। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, বৌদ্ধ প্রতিবেশীদের হাতে কবর খোঁড়ার দৃশ্য দেখার অল্প সময় পরই সেই কবরে একসঙ্গেই ঠাঁই হয় ১০ রোহিঙ্গার। তাদের দুজন খুন হয় বৌদ্ধ গ্রামবাসীদের ধারাল অস্ত্রে, বাকিদের ওপর গুলি চালায় সৈন্যরা। রয়টার্সের দাবি, এই অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে, মুসলমানদের হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার কথা স্বীকার করেছে। এক গ্রামবাসীর থেকে পাওয়া তিনটি ছবিতে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সৈন্যদের হাতে ধরা পড়া থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনটি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়। রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলাম ধর্ম শিক্ষক আবদুল মালিক আশ্রয়স্থলের জন্য খাবার ও বাঁশ যোগাড়ে নিজের পল্লীতে গিয়েছিলেন। যখন তিনি সেখান থেকে সমুদ্রসৈকতে ফিরে আসছেন, তখনই অন্তত সাত সেনা ও সশস্ত্র বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা তাকে ধাওয়া করে। এরপর সমুদ্রসৈকতে এসে এখান থেকে ১০ রোহিঙ্গাকে তুলে নিয়ে চলে যায়। রয়টার্সের হাতে আসা এক আলোকচিত্রে ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের পথে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা ওই ১০ রোহিঙ্গাকে দেখা যায়। সেপ্টেম্বরের ২ তারিখে তাদের কবরস্থানের কাছাকাছি একটি সবজি ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে গ্রামবাসীরা জানান, সেখানে ফের তাদের ছবি তোলা হয়। নিরাপত্তা রক্ষীরা ওই ১০ জনকে ইন দিনের নিখোঁজ বৌদ্ধ কৃষক মাউং নি-র ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে রাখাইনের এক বৃদ্ধ জানান। পরে রাখাইনের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও রাখাইন গ্রামবাসীরা রয়টার্সকে বলেন, মাউং নি-র নিখোঁজের সঙ্গে এ ১০ জনের কারো কোনোরকম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে বলে তারা জানেন না। এরপর আটক ১০ জনকে সেনারা হত্যার জন্য নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী তিন বৌদ্ধ গ্রামবাসী জানান। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যে ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তারা ‘২০০ সন্ত্রাসীর’ অংশ, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা বলছেন, ইন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীদের আক্রমণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অথচ কাছাকাছি একটি সমুদ্রসৈকতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে তুলে নিয়ে সেনাবাহিনী হত্যা করে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। এ তদন্তের সূত্র ধরেই মিয়ানমারের পুলিশ বার্তা সংস্থাটির দুই প্রতিবেদক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ও’কে রাখাইন সংশ্লিষ্ট গোপন নথি হাতানোর অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে। তারপর গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক দুই রয়টার্স সাংবাদিকের জামিন নামঞ্জুর করে মিয়ানমারের আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনে মামলা চলছে। দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনের (অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩) অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..