জার্মানিতে চূড়ান্ত কোয়ালিশন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সব জল্পনা কল্পনা শেষে নির্বাচনের প্রায় ৪ মাস পর সরকার গঠনের জন্য কোয়ালিশন করেছে জার্মানির দলগুলো। এঙ্গেলা মার্কেলের দল সিডিইউ ও সিএসইউ এবং মধ্য বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) এই কোয়ালিশন চুক্তি করে। ৭ ফেব্রুয়ারি একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কোয়ালিশনের খবর নিশ্চিত করে দল দুইটি। বিবৃতিতে মার্কেল বলেছেন, ‘চুক্তিটির ফলে একটি ভাল এবং স্থিতিশীল সরকারের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।’ এবার এসপিডি দলের সদস্যরা এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিলেই সরকার গঠন করা সম্ভব হবে। তবে দলটির অনেকেই মনে করছেন সিডিইউ/সিএসইউ এর সঙ্গে এসপিডি’র আবার কোয়ালিশনে ফেরা দীর্ঘমেয়াদে দলটির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। এসপিডি নেতা মার্টিন শুলজ কঠিন আপোসরফায় আসার জন্য মার্কেলের দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এক টুইটে শুলজ বলেছেন, চুক্তিটি জনগণের জন্য এক বিরাট অর্জন। তিনি চাইবেন তার দলের সদস্যরা এটি মেনে নিন। তবে জার্মানিতে অবশেষে এক স্থিতিশীল সরকার গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠার পরেও শরিক দলগুলির মধ্যে অসন্তোষ দূর হচ্ছে না। অঙ্কের বিচারে জার্মানির আগামী মহাজোট সরকারের কাঠামো প্রস্তুত। কোয়ালিশন চুক্তি, মন্ত্রিসভার গঠন, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়ে গেছে। এসপিডি দলের সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করলে ইস্টারের সপ্তাহান্তের আগেই সরকার গঠিত হবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিন শরিক দলের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি জার্মান বিশ্লেষকদের। কোয়ালিশন বিষয়ে তাদের বক্তব্যে নিজেদের অসন্তুষ্টির আভাস পাওয়া গেছে। জার্মানির বিশ্লেষদের আরও দাবি, প্রস্তাবিত সরকারে চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের সিডিইউ দল বিগত সরকারের তুলনায় কম মন্ত্রী পাঠাতে পারবে। বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয় হারানোর দুঃখ কম নয়। দলের অর্থনৈতিক পরিষদ সেইসঙ্গে সমাজ ও পরিবার মন্ত্রণালয় খোয়ানোর কারণেও এই বোঝাপড়ার সমালোচনা করেছে। সরকার গঠিত হলে তাই এই সব মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মের উপর কড়া নজর রাখতে হবে বলে মনে করে এই পরিষদ। মার্কেল এসপিডি দলকে এত ছাড় দেওয়ায় সিডিইউ দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের শীর্ষ নেতা কোয়ালিশন চুক্তির প্রশংসা করলেও অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জার্মানীর স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, গত নির্বাচনে মাত্র ২০ শতাংশের মতো ভোট পেয়েও এসপিডি দল কোয়ালিশন চুক্তিতে নিজস্ব বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করে ও এত সংখ্যক মন্ত্রীর পদ আদায় করতে পেরেছে। ১৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৬ জনই এসপিডি মন্ত্রী হতে পারেন। পররাষ্ট্র ও অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছে এসপিডি। দলের নেতৃত্ব এই সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখালেও দলের মধ্যে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দলের যুব শাখা এখনো নীতিগতভাবে মহাজোট সরকারে যোগ দেবার বিরোধী। তাদের মতে, নতুন সরকারে দলের যতই প্রভাব-প্রতিপত্তি থাক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা সেই সাফল্যকে স্বীকৃতি দেয় না, যেমনটা বিগত মহাজোট সরকারগুলির ক্ষেত্রেও বার বার দেখা গেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..