ভিআইপি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। এখন এর সূত্র ধরেই আমরা অবশ্যই বলতে পারব, সকলেই ভিআইপি নয়, কেউ কেউ ভিআইপি। কারা কারা ভিআইপি, এটা জানানোর-চেনানোর-বুঝানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই রাষ্ট্র তাদের জন্য। রাষ্ট্র নানাভাবে আম-পাবলিককে জানিয়ে দিতে পারে, এইসব মানুষ হচ্ছে ভিআইপি। ভিআইপি পদবি তো এই দেশে নতুন আসে নাই। যুগ যুগ ধরে চলছে। খেলার মাঠে ভিআইপি, রেলের টিকিটে ভিআইপি, বিমানের টিকিটে ভিআইপি। সংখ্যায় অল্প হলেও সবখানেই ভিআইপি আছেন। আমরা জানি, একটা সময় দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবাদে জর্জরিত ছিল। সেখানে রাস্তার একপাশে লেখা থাকত- হোয়াইট বা ‘শ্বেতাঙ্গদের জন্য’ আরেকপাশে লেখা থাকত ‘কালোদের জন্য’। রাষ্ট্রকে শ্বেতাঙ্গরা দুইভাবে ভাগ করে ফেলেছিল সেদিন। ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। ইতিহাস নাকি স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে ফিরে ফিরে আসে। সেই ইতিহাস কি এখন বাংলাদেশেও ফিরে আসছে? বাংলাদেশের এখন সেই রকম রাস্তায় তৈরি করা হচ্ছে, যে রাস্তা আমা-পাবলিকের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। যদিও অনেক আগে থাকেই ঢাকার অনেক রাস্তা ভিআইপিদের জন্য নির্ধারিত। কিছু কিছু রাস্তা গরিব লুঙ্গি পড়া পা-ফাটা রিকশাওয়ালাদের জন্য নিষিদ্ধ। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার এখন ভিআইপিদের জন্য বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে। এখন ঢাকা শহরের যানজট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ভিআইপিদের আলাদা লেন করা হবে। ভালো, ভালো না? গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সড়কগুলোতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন করার প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সেবা সংস্থাগুলোর যানবাহন ও ভিআইপিদের যানবাহন দ্রুত আসা যাওয়ার জন্য একটি পৃথক লেন থাকে। দেশে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি দ্রুত যাতায়াত করতে পারে না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..