সম্মেলন ঘিরে সাজ সাজ রব কৃষকদের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কৃষক সমিতির একুশ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন। জাতীয় সম্মেলন সফল করতে দেশব্যাপী তৃণমূল সংগঠন-গ্রাম কমিটি থেকে শুরু করে উপজেলা- জেলা কমিটি সাংগঠনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে ও তা বাস্তবায়নে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি জেলার সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে সফলতার সাথে। এবারের জাতীয় সম্মেলনের সাংগঠনিক সফলতার দিকটি হচ্ছে উপজেলা কমিটি সমূহের সম্মেলন শেষ করেই জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষকদের দাবির মধ্যে আছে ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও কার্যকর ভূমি সংস্কার, বিএডিসিকে সচল ও বিএডিসির মাধ্যমে সস্তায় কৃষি উপকরণ ও ভাড়ায় কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ধান, গম, পাট, ভুট্টা, সব্জিসহ ফসলের লাভজনক দাম প্রদান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করে খোদ কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, আলু ও সবজি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, ভূমি অফিস ও পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম-হয়রানি দুর্নীতি বন্ধ করা, শষ্যবীমা ও পল্লী রেশনিং চালু করা। জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় খুলনার শহীদ পার্কে। প্রবীণ কৃষক নেতা আব্দুল আজিজ তালুকদার সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সম্মেলনের উদ্বোধনের পর কৃষক নেতৃবৃন্দ, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও ভাতৃপ্রতীম বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা রাখবেন। বক্তৃতা পর্ব শেষে লাল কাপড়ে কৃষকের প্রতীক কাস্তে এবং লাঙ্গল খচিত হাজার হাজার পতাকা, কৃষকের দাবীসম্বলিত শত ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, কৃষকের মাথাল, কোদাল, কাস্তে, লাঙ্গলসহ বিভিন্ন উপকরণে সজ্জিত হয়ে প্রায় পনের হাজার কৃষকের একটি র্যা লি খুলনা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করবে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে এবং র্যা লি শেষে খুলনা, যশোর ও অন্যান্য জেলার উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির শিল্পীবৃন্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারাদেশের কৃষক প্রতিনিধিদের দাবী আদায়ের লড়াইকে উজ্জীবিত করবে। এবারের সম্মেলনে কৃষক সমিতির ভ্রাতৃপ্রতীম বিদেশী কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে জার্মানী, নেপাল, ভারতের ৭টি সংগঠনের জাতীয় কৃষক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবে। খুলনায় সম্মেলনকে সামনে রেখে খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে ব্যাপক সাংগঠনিক পরিকল্পনা নেয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনকে সফল করতে সারাদেশের সংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে বেশ আগ থেকেই। বিশেষভাবে স্বাগতিক জেলা হিসেবে খুলনা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জেলা বাগেরহাট, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালীসহ অন্যান্য জেলা কমিটি পরিকল্পিতভাবে গ্রামে গ্রামে কৃষকের বাড়ির উঠোনে, চায়ের স্টলে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে বৈঠক, গ্রাম সভা, হাট সভার মধ্য দিয়ে কৃষকদের অধিকার দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সচেতন ও সংগঠিত করে শত শত গ্রাম কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর অধিকাংশ উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলে। ফলে এবারের সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ব্যাপক সংখ্যক কৃষকের অংশগ্রহণ হবে সম্মেলনের সফলতা ও আগামী দিনের লড়াই-সংগ্রামের একটি শক্তিশালী দিক। স্বাগতিক জেলা হিসেবে খুলনা জেলার সবগুলো উপজেলায় ইতোমধ্যে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। খুলনা জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রাম থেকেই জাতীয় সম্মেলনে কৃষকের উপস্থিতি থাকবে উল্লেখ করার মতো। এছাড়াও অন্যান্য জেলা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশব্যাপী সম্মেলনের প্রচারের জন্য পোস্টার, লিফলেট, দাওয়াতপত্র ব্যানার ইত্যাদি বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্যান্য গণসংগঠনের কর্মী-নেতৃবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই কৃষক সমিতির ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন সফল হবে। বিশেষভাবে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ক্ষেত্রমজুর সমিতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এর সহযোগিতা উল্লেখ করার মত। তাদের বিশ্বাস কৃষি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সুতরাং, অপরাপর গণসংগঠনের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে কৃষকের লড়াই-সংগ্রাম অভিন্ন মেনেই কৃষকের সম্মেলন সফল করার প্রচেষ্টা যেন তাদের নিজেদের সংগঠনেরই সম্মেলন হিসেবে মেনে নেয়া।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..