ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাওয়া আশিয়ানার ২৬ শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সামনে আশিয়ানা শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি
একতা প্রতিবেদক : শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বেআইনীভাবে বন্ধ করে রাখা রামপুরার আশিয়ানা গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত করার কাজে সংশ্লিষ্ট ২৬ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ দিয়ে কারখানায় ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালিকপক্ষের মিথ্যা মামলায় দুজন শ্রমিকনেতাকে কারা অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার এক বিবৃতিতে অবিলম্বে সকল সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে কারখানার উৎপাদন ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ একইসাথে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত রাসেল আহমেদ ও মুন্না মিয়াকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত বছর মে মাসে আশিয়ানা কারখানার শ্রমিকরা একটি ইউনিয়ন গঠন করে আইনী পথে তা নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। মালিক পক্ষ তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে নিবন্ধ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। শ্রমিকরা যাতে ভবিষ্যতে শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন নিতে না পারে সেজন্য মালিক পক্ষ কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের শ্রমিক সাজিয়ে একটি ভুয়া ইউনিয়ন নিবন্ধন নেয়ার ব্যবস্থা করে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, এখানেই না থেমে ইতোপূর্বে কারখানার মালিক পক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়দের চাকুরিচ্যুতির একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ তারা কারখানার লাইন আয়রণম্যান মামুন-কে বেআইনী ভাবে বরখাস্ত করলে শ্রমিকরা তার প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনার পরের দিন ৩০ জানুয়ারি কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। সমস্যা সমাধানে পরের দিন নির্ধারিত সভাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা মালিক সমিতি বিজিএমইএ কার্যালয়ে গেলে আলোচনা হবে না বলে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন। শ্রমিকরা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু করলে একপর্যায়ে বিজিএমইএ’র সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মনসুর খালেদের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয়। হামলার ঘটনায় থানা মালিকপক্ষের মামলা গ্রহণ করে শ্রমিকদের গ্রেফতার করলেও শ্রমিকপক্ষের মামলা ফিরিয়ে দেয়া হয়। ঐ মামলায় অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজন হিসেবে কারখানার শ্রমিক ও প্রস্তাবিত আশিয়ানা গার্মেন্ট ইন্ডা. লি. শ্রমিক ইউনিয়নের সংগঠক রাসেল আহমেদ ও মুন্না মিয়াকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া হয়। আদালতে হাজির না করায় ৭ ফেব্রুয়ারিতেও তাদের জামিন শুনানি করা সম্ভব হয়নি। শ্রমিকরা ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা খুলে দেয়া, বরখাস্ত আদেশ ও মামলা প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সামনে লাগাতার অবস্থান শুরু করলে পরে কারখানা খুলে দেয়া হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..