‘হাইপেশিয়া মানবমুক্তির দিশারী’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

লাবণী মণ্ডল : হাইপেশিয়া। আলেকজান্দ্রিয়ার হাইপেশিয়া। কথাটা যতটা না সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য সারা পৃথিবীর হাইপেশিয়া। যুগে যুগে কত হাইপেশিয়ার জন্ম হয়েছে– তা জানা আজ দুষ্কর। তবুও ইতিহাসে কিছু লিপিবদ্ধ আছে বলেই আজকে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও হাইপেশিয়াদের জানার প্রয়োজন বোধ করি। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। এক রাজনৈতিক আড্ডায় আমাকে প্রশ্ন করলেন– হাইপেশিয়ার নাম শুনেছেন কমরেড! অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম। চোখে-মুখে লজ্জার ছাপ। উনি বড় কিছুই হবেন বলে মনে হচ্ছে। নাহলে আমাকে কেনো প্রশ্ন করবেন। মাথাটা নিচের দিকে রেখেই বললাম– না! সেদিনই তাঁর নামটা শুনি। তাঁকে জানার তীব্র তাড়না বোধ করি। গুগলের শরণাপন্ন হই। কয়েকজন জানাশোনা মানুষেরও শরণাপন্ন হই। খুব বেশি জানতে পারি নি, তবে যা জেনেছি– তাও কম নয়! একজন হাইপেশিয়া। এটি তাঁর নাম। ইতিহাসে তাঁর নামটি লিপিবদ্ধ রয়েছে গণিতবিদ হিসেবে। শুধু তাই নয় একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও। জন্মেছিলেন আনুমানিক ৩৭০ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর বাবা ছিলেন থিওন। মায়ের কথাটি ইতিহাসে নেই। হাইপেশিয়া প্রথম নারী গণিতবিদ ইতিহাসে। এ পর্যন্ত অধ্যয়ন করে তাই জানতে পেরেছি। ৩৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম গণিতবিদ একজন নারী। ভাবতে পারছেন না! কেমন যেন অবাক লাগছে না! আমার শুধু অবাকই লাগে নি। চোখ-মুখ জ্বলজ্বল করে উঠেছে। হাইপেশিয়াকে পাঠ করে নিজেকে ধিক্কারও দিয়েছি। সমাজে হাইপেশিয়াদের বড়ই অভাব। এটা কি পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির প্রভাব? তাঁকে একজন সফল গণিতবিদ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাঁর বাবা থিওনের অবদানই যথেষ্ট। হাইপেশিয়ার বাবা ছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তার মানুষ ছিলেন। ভাবতে পারেন! ৩৭০ খ্রিষ্টাব্দ! খটকা লাগছে বৈকি। তাঁর বাবা থিওন পরবর্তী সময়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে আসীন হন। হাইপেশিয়ার জীবন-সংগ্রাম-দর্শন-রাজনীতি নিয়ে লিখতে গেলে হয়তো আরো বেশি জানতে হবে, পড়তে হবে। অনেক বড় একটা গবেষণারও ব্যাপার। এই লেখাটি শুধুমাত্র একটু ধারণা পাওয়ার জন্য। অর্থাৎ একটু চর্চাকে লেখায় পরিণত করার ব্যর্থ চেষ্টা আর কি! আলেকজান্দ্রিয়ার সর্বশেষ নামকরা গণিতবিদ কে জানেন! যাঁর নামটি এ লেখায় কয়েকবার বলেছি। হ্যাঁ, আমাদেরই স্বজাতি। আমাদের গর্ব। তিনি হাইপেশিয়া। তাঁর মৃত্যুর পর আর কোনো নামকরা গণিতবিদ জন্ম নেয়নি আলেকজান্দ্রিয়ার ভূমিতে। ইতিহাস তাই বলে। আর যখনকার সময়ে এ ঘটনাটি তখনকার সময়ে একজন নারী, তাও আবার সেরা থেকে সেরা। মানবিক মানুষ হিসেবে, সফল গণিতবিদ হিসেবে। তাঁর পরিণতি কি হতে পারে? তাঁর ইতিহাসও কিছু বলবো এ লেখাটিতে। ৩৭০ খ্রিষ্টাব্দে নারীশিক্ষার কথা কল্পনাও করা যায় না, অথচ এই মানুষটি রীতিমতো একজন নামকরা গণিতবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। যাঁর পরিচয় নারী-পুরুষ ভেদাভেদ ছাড়িয়ে একজন ‘গণিতবিদ’ একজন মানবিক ‘মানুষ’। বেশ একটা অবাক করার মতো! হাইপেশিয়া ও থিওন একে অপরের পরিপূরক। তাই ইতিহাসে এঁদের দুজনের নামই স্বর্ণাক্ষরে লিখা রয়েছে। আজকের হাইপেশিয়াকে চিনতে হলে থিওনকেও চিনতে হবে। হাইপেশিয়া তাঁর বাবার ছায়ায় বেড়ে উঠেছিলেন। বাবা তাঁকে শিশুসময় থেকেই গণিতের নানান তথ্য দিয়ে অনুপ্রাণিত করতেন। শিশু বাচ্চাদের কৌতূহল তো আমরা বুঝতেই পারি। বাবারও তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর কন্যা সন্তানটি জানুক, পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিক– মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। সবকিছু মানুষের হাতের নাগালে। একটা শিক্ষাসুলভ, প্রশ্নাতুর, কৌতূহলোদ্দীপক আর আবিষ্কারমুখর আবহাওয়ায় বেড়ে উঠেন হাইপেশিয়া। এই আবহাওয়াটি মূলত তাঁর পরিবারের আবহাওয়া। যে আবহাওয়া জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শনচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি চর্চার আবহাওয়া। প্রশ্নের পর প্রশ্ন। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতেই থাকতেন একের পর এক। যুক্তির অপার সৌন্দর্য। যে সৌন্দর্যে ডুবিয়ে রাখতেন গণিতবিদ হাইপেশিয়া। গণিত আর জ্যোর্তিবিজ্ঞানকে একেবারে অন্তরে গেঁথে নিয়েছিলেন। তাঁর ধ্যান, জ্ঞান সবই ছিল এই কাজের মধ্যে। পুরো পৃথিবীকে জয় করার স্বপ্নই চেপে বসেছিল– এই গণিতবিদের মননে। আলেকজান্দ্রিয়ার জাদুঘর আর লাইব্রেরি হয়ে উঠেছিল তাঁর পাঠশালা। একেবারে বাবার পরেই স্থান দিয়েছিলেন ওই লাইব্রেরি আর জাদুঘরকে। বাবাকে লুকিয়েও যেতেন। এটা ছিল বাবাকে চমকিয়ে দেওয়ার কৌশলমাত্র। হাইপেশিয়া তাঁর বাবার জীবনের এক নম্বর স্টুডেন্ট ছিলেন। এর চেয়ে আর বড় পাওয়া কি হতে পারে! বাবা বুঝতে পারছিলেন তাঁরই মেয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন– জ্ঞানে ও যশে। থিওন বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর মেয়েকে। বাবা বুঝতে পেরেছিলেন– যতটা না বড় ‘বাবার মেয়ে’ তার চেয়ে বড় ‘মেয়ের বাবা’ পরিচয়। এটাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন থিওন। ‘আমি হাইপেশিয়ার বাবা’। গর্বভরে, অশ্রুসজল চোখে বলে বেড়াতেন। একজন বাবার জীবনে আর কি চাই! হাইপেশিয়াও বলে গেছেন– তাঁর ‘হাইপেশিয়া’ হয়ে উঠার পেছনে তাঁর বাবার অসামান্য অবদানের কথা। থিওন বাবা হিসেবে তাঁকে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোনো বিবেচনা করেন নি। শারীরিক, মানসিক, গ্রন্থসহ সব বিদ্যাই মেয়েকে রপ্ত করিয়েছেন। সাঁতার, অস্ত্রচালনা, পর্বতারোহণ এবং এরকম প্রতিটা দিনের একটা নির্ধারিত সময় তাঁর এ ধরনের শারীরিক শ্রমের জন্য বরাদ্দ ছিল। বাবাকে এর জন্য পোহাতেও হয়েছে নানান ঝুটঝামেলা। শুধু একজন গণিতবিদ হিসেবেই তিনি তাঁর মেয়েকে চাননি– তাঁর মেয়ে হয়ে উঠুক ‘মানুষ’। একজন মনুষ্যত্ববোধের মানুষ হয়ে উঠার জন্য যা যা দরকার তার সবকিছুই যেন থাকে তাঁর মেয়ের মননে। হাইপেশিয়া এপোলোনিয়াসের কনিক এর উপর একটি বই লিখেন। যে বইটি তাঁকে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাঁর সৃষ্টির মহিমা তাঁকে যতটা না মুগ্ধ করেছিল তার চেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছিল তাঁর বাবা। তিনি অধিবৃত্ত, পরাবৃত্ত আর উপবৃত্তের সহজবোধ্য উপস্থাপনা করতেন। হাইপেশিয়া ডায়োফেন্টাসের এরিথমেটিকার উপর লেখা ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থটিও লিখেন। ডায়োফেন্টাসের বীজগণিত মূলত একঘাত ও দ্বিঘাত সমীকরণ সংক্রান্ত সমস্যার উপর আলোকপাত করে; যেখানে হাইপেশিয়া বেশ কিছু বিকল্প সমাধান এবং নতুন সমস্যাবলির অবতারণা করেন। এভাবেই একের পর এক কাজ চলতে থাকে তাঁর। রোম, এথেন্স এবং আরো বড় বড় শহর থেকে আলেকজান্দ্রিয়াতে ছাত্ররা আসত তাঁর গণিত ও দর্শনশাস্ত্রের বক্তৃতা শুনতে। গণিত আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের চর্চাটা মহান কিছু– যে মহানকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন হাইপেশিয়া। তিনি একটি হাইড্রোমিটার আবিষ্কার করেছিলেন যা দিয়ে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপা যেতো। ৪০০ সালের দিকে হাইপেশিয়া আলেক্সান্দ্রিয়ার নব্য প্লেটোবাদী দর্শনধারার মূল ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং খ্যাতির চরম শিখরে আরোহণ করেন। তাঁর মধ্যে অসাধারণ বাগ্মিতা, বিনয় এবং সৌন্দর্য্যরে সার্থক সম্মিলন ঘটেছিল। এজন্য তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রিয়জন ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন সিরিনের সাইনেসিয়াস। যিনি পরবর্তীতে (৪১২ খ্রিষ্টাব্দে) টলেমাইস নামক অঞ্চলের বিশপ হন। হাইপেশিয়ার কাছে সাইনেসিয়াসের লেখা কিছু চিঠি এখনও বর্তমান রয়েছে। এই ছিলেন হাইপেশিয়া। যাহোক, হাইপেশিয়ার নিও-প্লেটোনিক মতবাদে বিশ্বাস, খ্রিষ্টান শাসকদের শঙ্কার কারণ ছিল। তাঁরা হাইপেশিয়ার দর্শনকে মনে করতেন চার্চদ্রোহী এবং ৪১২ খ্রিষ্টাব্দে সিরিল যখন আলেকজান্দ্রিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক নিযুক্ত হন, তখন তিনি পরিকল্পিতভাবে এসব চার্চদ্রোহীদের দমন শুরু করেন। হাইপেশিয়ার যে প্রভাব ছিল তখনকার সমাজে তার প্রভাবকে ভয় পাওয়া শুরু করেন সিরিল। তিনি মনে করেন হাইপেশিয়া চার্চের জন্য বড় হুমকি। তাঁর প্রতি মানুষের সম্মান, অনুগামিতা নিয়ে তাদের মনে সংকীর্ণ রাজনীতি আর ধর্মের রাজনীতি ঢুকে পড়ে। ইতিহাস বড় নির্মম! ইতিহাসে যত হত্যাযজ্ঞ এই নোংরা রাজনীতি আর ধর্মের কারণে। এ কথাটি অস্বীকার করার কিছু নেই। যতটা আমরা এগিয়েছি, তার অনেকখানি পিছিয়েছি কেবলমাত্র এই নোংরা রাজনীতি ও ধর্মের কারণে। ধর্ম ব্রুনোর প্রাণ নিলো, কোপারনিকাসের সংশয় জাগাল, গ্যালিলিও এর সময় খেলো, সম্মান খেলো! আর খেলো যুগ যুগ ধরে হাজার মানব মু-ু! চেতনায় আয়নায় এসব বারবারই ভেসে উঠে। স্তব্ধ করে দেয় কিয়ৎক্ষণের জন্য হলেও। আমরা যা জানি হাইপেশিয়ার ব্যাপারে– তা বেশ কম। যা জানি তাঁর গণিত সম্পর্কে– তাও বেশ সমৃদ্ধ নয়। হাইপেশিয়া সবচেয়ে তীব্র স্মৃতিভুক্ত ঘটনা তাঁর মৃত্যু এবং মৃত্যুর পথে তাঁর মুহুর্মুহু পীড়াদায়ক অত্যাচার। ক’জনই জানি সেই ইতিহাস? চে গুয়েভারার ইতিহাস আমরা কিছুটা হলেও জানি, সোমেন চন্দের ইতিহাসও অল্প হলেও জানতে পারি। কিন্তু এই মানুষটির মৃত্যু ইতিহাস! আমি সত্যিই ভাবতে পারছি না! কতটা নির্মম ছিল! ধর্ম কলহের ছোবল তাঁকে শেষ করেছিল। তৎকালীন খ্রিষ্টান শাসিত সমাজে হাইপেশিয়া ছিলেন প্যাগান-আরেক প্রাচীন ধর্ম প্যাগানিজম এর ধারক। হাইপেশিয়াকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ৪১৫ খ্রিষ্টাব্দে মার্চের এক সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার পথে। একদল সন্ত্রাসী তাঁকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় চার্চ সিজারিয়ামে। হাইপেশিয়া তখন বুঝতে পেরেছিলেন তার পরিণতি কি হবে। কিন্তু তখনও আঁচ করতে পারেন নি– মানুষ যে এতটা বর্বর হতে পারে। ঝিনুকের খোল দিয়ে তাঁর দেহের চামড়া চেঁছে ফেলা হলো। টুকরো টুকরো করে কেটে বিভক্ত করা হলো দেহ। হাইপেশিয়া মাথা নোয়াই নি। এখানেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীদের দল। তাঁর মৃত দেহ টুকরা টুকরা করে পুড়িয়ে ছাই করে উড়িয়ে দিয়েছিল। কতটা ভয় ছিল এর দেহটা, কতটা! এমন একটা নৃশংস হত্যার কোনো বিচার হয় নি। আজকের বিচারব্যবস্থা দেখলে আমরা বুঝতে পারি। ইতিহাসের শাসকদের চরিত্র বরাবরই একই ছিল। হাইপেশিয়ার জাগতিক অস্তিত্ব ভস্ম হয়ে গিয়েছিল। ছাইয়ের সাথে উড়ে গিয়েছিল আলেকজান্দ্রিয়ার গর্বের ছাই। তারপর মাথা উঁচু করে আর জ্ঞানের শাসনের দিন আসে নি আলেকজান্দ্রিয়ার! তাঁর মৃত্যুর সঠিক তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে ইতিহাসের বেশকিছু ঘটনার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সম্রাট থিওডোসিয়াস ১৩৮০ সালে প্যাগানবাদ এবং অরিয়ানবাদের বিরুদ্ধে একটি অসহিষ্ণুতা নীতির সূচনা ঘটনা। তিনি ৩৭৯ থেকে ৩৯২ সাল পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় রোমান সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেন এবং এরপর থেকে ৩৯৫ সাল পর্যন্ত রোমান সাম্রাজ্যের পূর্ব এবং পশ্চিম উভয় অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। ৩৯১ সালে তিনি আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ থিওফিলাসের পত্রের জবাবে মিশরের ধর্মীয় সংস্থানসমূহকে ধ্বংস করে দেয়ার অনুমতি প্রদান করেন। এখন সব ইতিহাস! ইতিহাসে আলেকজান্দ্রিয়াকে বাঁচিয়ে রাখার পেছনে হাইপেশিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। সারা পৃথিবীর জ্ঞানগম্ভীর মানুষের মাঝে আলেকজান্দ্রিয়ার বাস। আলেকজান্দ্রিয়ার বাস হোক এই মনুষ্যসমাজের চেতনায়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..