ইছামতি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা : বেপরোয়াভাবে ইছামতি নদীর বালু উত্তোলন করেই চলেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। বালি উত্তোলনের কারণে ভারসাম্য হারাচ্ছে নদীর পার। ক্রমে ক্রমে ভেঙ্গেই চলেছে নদীর পারের বসতি এবং আবাদি জমি। পারুয়া ডিসি সড়কসহ উপজেলার উত্তারাঞ্চলের গুরুত্ব রাস্তাঘাট তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। বালি উত্তোলনে ক্ষতিকর প্রভাবে গত বর্ষায় ভারি বর্ষণের সময় উত্তর রাঙ্গুনিয়ার সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম পারুয়া ডিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইছামতির বালি উত্তোলনের প্রভাবে রানিরহাট কেয়াংঘাটের নিকটে দীর্ঘ এক কিলোমিটারেরও বেশি অংশ ধসে পড়েছে। যা সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমানে কোনো প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এছাড়াও পারুয়া, রাজানগর, রাজাভুবন, খলিয়া পাড়া, গোয়াজপাড়া এবং রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইছামতি নদীর ভাঙ্গনের প্রভাব বিস্তার ঘটছে। বর্তমানে অব্যাহত বালি উত্তোলনে ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। এলাকাবাসী বালি উত্তোলন বন্ধ করে নদীর নাব্যতা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য নদী শাসন ব্যবস্থার দাবি জানায়। উল্লেখ্য, পাহাড় থেকে নেমে আসা ইছামতি একটি একমুখী স্রোতের পাহাড়ী নদী। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইছামতি কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়। রাঙ্গুনিয়ার কৃষি, বাণিজ্য এবং পরিবেশে অবদান রাখে এই নদী। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নেমে আসা বালিতে ইছামতি নদীর তলদেশ ভরাট হয়। এতে তলদেশের স্বাভাবিক নাব্যতায় পারের ভারসাম্য রক্ষা হয়। স্রোতের প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে গড়ায়। কিন্তু অবৈধ এবং অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে নদীর অস্বাভাবিক নাব্যতা বেড়ে তীরের ভারসাম্য হারায়। বিভিন্ন স্থানে প্রবাহের পবিবর্তন ঘটে। সামান্য বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা বেড়ে যায়। ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদী। সরে জমিনে দেখা যায়, নদীর উজানে উপজেলার উত্তর সীমানা রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি এলাকার বেঙছড়ি, গোদারপাড়, আমতলী ও ঠাণ্ডাছড়িতে ইছামতি নদীর বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজার মেশিনে দীর্ঘ পাইপ টেনে তীরের জমিতে তোলা হচ্ছে বালু । এসব এলাকায় নদীর পারে পারে বালির পাহাড় গড়ে উঠেছে। ভাটির দিকে রানীর হাটের নিকটে কেয়াংঘাট, ফুলবাগিচা, গাবতলা, দক্ষিণ রাজানগর, দেয়ানবাজার, মধ্য পারুয়া, রাজাভুবন, উত্তর পারুয়া, কুমারপাড়া এলাকায় একইভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বেপরোয়া বালি উত্তোলনের প্রভাবে শত শত এলাকাবাসী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ইতোপূর্বে ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া ব্লক ধসে গেছে। পারুয়া ইউনিয়নের গোয়াজপাড়ার নিকটে ব্লক ধসে গ্রামটি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে পারুয়া ডিসি সড়ক, মসজিদ, মন্দির এলাকার বসতঘর ও ফসলি জমি। বছর বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়লেও প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। ভাঙ্গন রোধে কর্তৃপক্ষের কার্যকরী ব্যবস্থা দাবি করছেন এলাকাবাসী। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে উত্তর ঘাটচেক সোনাইছড়ি, জলদাশপাড়া ইছাখালীসহ ১০ গ্রামের ২ শতাধিক পরিবার ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পড়েছে সোনাইছড়ি বৌদ্ধ বিহার এবং পারুয়া ডিসি সড়ক। পৌর কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম জানান, ইছামতির ভাঙ্গনে উত্তর ঘাটচেকের সোনাইছড়ি জলদাশপাড়া শতাধিক পরিবার এবং উত্তর ও দক্ষিণ ঘাটচেক গ্রামের দেড়শত পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছি। অভিযোগ পাওয়া যায়, একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নির্বিঘ্নে ইছামতির বালির মজুদ করে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারে রমরমা ব্যবসা করছে। এলাকাবাসী জানান, গত দুই দশক আগেও ইছামতি নদীর গভীরতা ছিল পর্যাপ্ত। নদীতে তখন প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। নদীর পানি দিয়ে শাকসবজি ও ধান চাষাবাদ করত চাষিরা। নদী পারের চর ও বিলে সবজি ও ধান চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেক কৃষক। নদীর পানিতে ভাসিয়ে উজান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা চালি করে প্রচুর বাঁশ শন ইত্যাতি বনজদ্রব্য আনত। এখন নদী শাসন নেই আর সে সকল সুবিধাও পাচ্ছে না মানুষ। নদী এখন এলাকার মানুষের দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, অবৈধভাবে ইছামতির বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিনসহ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কর্নফুলী সেচ প্রকল্প ইছামতি ইউনিটের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, ইছামতি নদীকে ঘিরে রাঙ্গুনিয়া সেচ প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় স্লুইস গেটসহ অনেক সেচ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..