কৃষক এখনও শোষণ বঞ্চনার শিকার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দিনাজপুর সংবাদদাতা : ‘জান দেব তো, ধান দেব না,’ ‘আমি নাই তে-ভাগা চাই,’ ‘লাঙ্গল যার জমি তার,’ ‘তেভাগা’র চেতনা ভুলি নাই ভুলব না’ এমন শ্লোগানে প্রকম্পিত করে গত ৪ জানুয়ারি দিনাজপুরে পালিত হলো ঐতিহাসিক তেভাগা দিবস। দিবসটি স্মরণে তেভাগা আন্দোলনের প্রথম শহীদ সমিরুদ্দিন ও শিবরাম মাঝির শহীদ হওয়ার স্থান চিরিরবন্দর উপজেলার তালপুকুর-বাজিতপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে তেভাগা চেতনা পরিষদ। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভা, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলতাফ হোসাইন এবং সদস্য সচিব রেয়াজুল ইসলাম রাজুর নেতৃত্বে তেভাগা চেতনা পরিষদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠন তেভাগার বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন কর্মসূচির শুরুতে। শহীদ সমিরুদ্দিনের নাতি হবিবুর রহমান, নাতনি জ্যোস্নাসহ তার পরিবারের বর্তমান সদস্যরাও তেভাগার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপর তেভাগা চেতনা পরিষদের স্থানীয় কমিটির আহ্বায়ক বিশ্বনাথ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষক, ক্ষেতমজুর সমাজ তেভাগার দাবিতে শাসক, শোষক, জমিদার, জোতদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের হাত জীবন দিয়েছিলেন তা আজও অর্জিত হয়নি। তেভাগা চেতনা পরিষদ, দিনাজপুরের যুগ্ন আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন বলেন, কৃষক সমাজ এখনও শোষণ, বঞ্চনা, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আগে তারা শত্রুকে চিনতে পারত বলে তীর মেরে রুখে দাঁড়াত। এখন শত্রুকে দেখা যায় না। এখন খারাপ বীজ, ভেজাল সার, কীটনাশক আর উন্নয়নের নামে ঋণ দিয়ে শত্রুরা দূর থেকে কৃষকে শোষণ ও নির্যাতন করার পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু কৃষক যখন ধান বিক্রি করছে, তখন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। অথচ আড়ালে থাকা এই শত্রু এত শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কৃষক কিছু করতে পারছে না। জাসদের শহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকের পক্ষে কথা বলার মত কেউ নাই। তাই কৃষককে সংগঠিত হয়ে ন্যায্য দাবি আদায়ের পথ বেছে নিতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির হবিবুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সমতা সৃষ্টি হচ্ছে না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষক খাদ্য উৎপাদন করে কিন্তু তার ভাগ্যের বদল হয় না, অথচ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেও লুটেরা গোষ্ঠী পার পেয়ে যাচ্ছে। সভায় আরও আলোচনা করেন দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদল, বাসদ নেতা সারোয়ারুল হাসান ক্লিপটন, মনিরুজ্জামান মনির, তেভাগা চেতনা পরিষদের স্থানীয় কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার সফিক হাসান, সাংস্কৃতিক কর্মী রবিউল আউয়াল খোকা, বাসদ নেতা সন্তোষ গুপ্ত প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন তেভাগা চেতনা পরিষদের সদস্য সচিব রেয়াজুল ইসলাম রাজু। তিনি ঘোষণা দেন যে, তেভাগা দিবস উপলক্ষে আগামী বছর হতে মেলার আয়োজনসহ তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে কৃষকদের জোতদার মহাজনদের বিরুদ্ধে তেভাগা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার তালপুকুর-বাজিতপুর গ্রামের চেনটু বটতলায় প্রথম শহীদ হন সমিরুদ্দিন ও শিবরাম মাঝি। আহত হয়েছিলেন কয়েকশত আন্দোলনকারী কৃষক-কৃষাণী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..