বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে: কমরেড মনজুর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের চেতনায় বাম বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির্র (সিপিবি) উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, বহুকাল ধরে মানুষ সাম্য, মৈত্রী, ইনসাফের যে সমাজের স্বপ্ন দেখে এসেছে, অক্টোবর বিপ্লব সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়ন করার কাজ করেছে এবং তার মধ্য দিয়ে মানুষকে দিয়েছে আশা ও অগ্রযাত্রার পথের দিশা। তাই সেই চেতনা বুকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ‘সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট’ এর উদ্যোগে স্মারকগ্রন্থ ‘উৎসারিত আলো’ প্রকাশনা উপলক্ষে গত ৩০ ডিসেম্বর শনিবার বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট এর আহ্বায়ক সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড বেদানন্দ ভট্টাচার্য এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম। আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিপিবি সিলেট জেলা সভাপতি হাবিবুল ইসলাম খোকা, জাসদ সিলেট জেলা সভাপতি লোকমান আহমদ, ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঞ্জুর আরো বলেন, আজ থেকে একশত বছর আগে ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে রুশ দেশে যে বিপ্লব ঘটেছিল তা পৃথিবীকে চমকে ও বদলে দিয়েছে। একদিক দিয়ে নয়, বহুদিক দিয়ে। পরিবর্তন ঘটিয়েছে চিন্তায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে, রাজনীতি, সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থায়, মানবিকবোধ সম্পর্কে এবং মানচিত্রে। তিনি বলেন, ‘মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অক্টোবর বিপ্লব মানবসভ্যতায় সূচনা করেছিল এক নতুন যুগের। মার্কসবাদী তত্ত্ব ও মতাদর্শকে ধারণ করে অক্টোবর বিপ্লব পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে সৃষ্টি করেছিল বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের এক নতুন আন্তর্জাতিকতা। শতাব্দী পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ঐ বিপ্লবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য একবিন্দুও মলিন হয়নি বরং বর্তমান বিশ্বে গাঢ় অন্ধকারের পটভূমিতে তা আরও উজ্জ্বল ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে বাম বিকল্প শক্তির উত্থান আজ খুবই জরুরি। সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় বিশ্বাসী সকল ব্যক্তি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলসমূহকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ করেন সিপিবি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পাটি, গণতন্ত্রী পার্টি, উদীচী, চারণ সংস্কৃতি কেন্দ্র, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী সহ বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনাসভা শেষে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে চারণ সংস্কৃতি কেন্দ্র, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও গণসংগীত শিল্পী অংশুমান দত্ত গণসংগীত পরিবেশন করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..