আন্দোলনই সারকথা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
শেষ পর্যন্ত এটাই প্রমাণিত হল, লড়াই-আন্দোলনই সারকথা। আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া এদেশে কোনো দাবি আদায় করা সম্ভব না। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেও যে দাবি আদায় করা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে রইলেন সারা দেশের নন-এমপিওভুক্ত পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। টানা এক সপ্তাহের আমরণ অনশনের মধ্য দিয়ে তারা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করেছেন। সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন, সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অনশন স্থগিত করেছেন। আশা করি, সরকার কোনো ধরনের ছলচাতুরির আশ্রয় না নিয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা করবে। এজন্য সংগ্রামী শিক্ষকদের আমরা অভিনন্দন জানাই। ধন্যবাদ সরকারকেও। কারণ, দেরিতে হলেও তাঁরা এ যৌক্তিক বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমোদনে কার্যক্রম চালানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ শিক্ষক। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। তাদের অনশন ভাঙাতে গত ২ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রেসক্লাবের সামনে গেলেও এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে অনশন চালিয়ে যান শিক্ষকরা। অবশ্য সে সময়ই তারা বলেছিলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পেলে তারা অনশন ভেঙে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেবেন। ছয় দিনের অনশনে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সবশেষ গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আশা করা যায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা নিয়ে সমাজে পরিবার-পরিজন নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবেন। কিন্তু তারপরেও কিছু কথা আমাদের বলা প্রয়োজন। কারণ, দেশের আনাচে-কানাচে মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন গজিয়ে উঠে, কারা এর পেছেনে থাকেন সেগুলো শুরুতেই খতিয়ে দেখা দরকার। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে আর কোনটা হবে না, কোন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন আর কে হবেন না- এই সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসৎ রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালীর পাশাপাশি প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জড়িত থাকেন। অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা নিজেদের পকেট মোটা করেন। শিক্ষকরা জেনেশুনে হয়তো এই অন্যায়ের পথে যেতে বাধ্য হন। যদিও এখন আর শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কোনো গোপন বিষয় নয়। খোদ শিক্ষামন্ত্রীই বলেছেন, রয়েসয়ে, সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাাওয়ার জন্য। ফলে আন্দোলনে সফল শিক্ষকদের নিয়ে যেন এমপিওভুক্তির নামে আগামীতে আর এই ধরনের জঘন্য তৎপরতা কেউ চালাতে না পারেন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আরেকটি জিনিস মনে রাখা দরকার, সরকার শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য দেখায়নি। এটা শিক্ষকদের অধিকার। এই শিক্ষকরা গত ১০-১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়েছেন। সাবর্জনীন শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন-ভাতা প্রদান রাষ্ট্রেরই দ্বায়িত্ব। অনেক শিক্ষক বলেছেন, তাঁদের স্কুলে নতুন দালানকোঠা হয়েছে, পুরোনো ভবন মেরামত হয়েছে, কিন্তু শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার ব্যাপারেই কেবল সরকার উদাসীন। ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিকের ১৬৩টি স্কুলে চলন্ত সিঁড়ি বানানোর মতো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে তাদের উৎসাহ দেখার মতো। এসব কাজে লুটপাটের ভাগও বেশি। চলন্ত সিঁড়ির জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের উদাহরণই বলে দেয় বাজেট সমস্যা নয়, সমস্যা সদিচ্ছার।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..