পরমাণু ক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প-কিম বাকযুদ্ধ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নতুন বছরের শুরুতেই নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে। দু’জনেই পরস্পরকে পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নতুন এই বছরে কোরিয় উপদ্বীপ অঞ্চলে একটি যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন বছরে ভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা দেন কিম জং উন। তার দাবি, সব সময়ই পারমাণবিক অস্ত্রের বাটন থাকে তার টেবিলে। এর অর্থ পারমাণবিক অস্ত্রের বাটন তার হাতের নিচে। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে উন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমির পুরোটাই আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের আওতায় রয়েছে। আমার কার্যালয়ের টেবিলে সব সময় পারমাণবিক অস্ত্রের বোতাম রাখা থাকে। আর এটা হুমকি নয় বাস্তবতা–এটা খুব ভালোভাবে বুঝে নিয়ে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া শান্তির সপক্ষে থাকা পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশ। সরাসরি হামলা না হলে আমরা আমাদের পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগ করব না।’ কিম জং উনের এমন যুদ্ধংদেহী বার্তার পাল্টা জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর জবাব, তার পারমাণবিক অস্ত্রের বাটন (উত্তর কোরিয়ার চেয়ে) অনেক বড়, অনেক বেশি শক্তিসম্পন্ন। এক টুইট বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং বলেছেন, পারমাণবিক বোমার বোতাম সব সময় তাঁর ডেস্কে থাকে। তাঁর হাভাতে আর ভুখানাঙ্গা দেশের এমন কেউ কি আছেন, যিনি তাঁকে গিয়ে বলবেন যে আমারও একটি বোতাম আছে। এটি তাঁর বোতামের চেয়ে আরও বড় এবং অধিক শক্তিশালী। আর আমার বোতামটি কাজ করে!’ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার দেশের বিজ্ঞানীদের নির্দেশ দিয়েছেন তার দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) তৈরি করতে। যা হলো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর ৭০তম বার্ষিকীতে সেপ্টেম্বরে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি চালু করার কথা রয়েছে। বর্ষবরণের সময় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে কিম জং উন বলেন, পুরো যুক্তরাষ্ট্র তার পারমাণবিক অস্ত্রের আওতায়। সেপ্টেম্বরে তার দেশ ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হুঁশিয়ারি, অবরোধ উপেক্ষা করেছে। কারো কোনো কথায় কান দিচ্ছে না উত্তর কোরিয়া। তারা যেন যুদ্ধের নেশায় মেতেছে। এর ফলে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নভেম্বরে তারা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যাপক বিধ্বংসী শক্তিশালী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। পাশাপাশি তারা ঘোষণা দিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম। তারই ধারাবাহিকতায় বর্ষবরণের সময় কিম জং ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নতুন বছরে ব্যাপক হারে উৎপাদন করবে। ওই সময় উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসের মদতদাতা হিসেবে ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..